বিশ্বব্যাপী অবিশ্বাস্য গতিতে বাড়ছে ধনী মানুষের সংখ্যা। পৃথিবীর সব দেশেই একই চিত্র দেখা যাচ্ছে সম্প্রতি প্রকাশিত ক্রেডিট সুইসের এক প্রতিবেদনে।
শুধুমাত্র ২০২১ সালে পুরো বিশ্বে মিলিয়নিয়ারের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে ৫২ লক্ষ। যদিও এই নতুন ধনীদের প্রায় অর্ধেকই যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দা।
ক্রেডিট সুইসের ভাষ্যমতে অতীতের হিসাব অনুযায়ী বিশ্বব্যাপী মিলিয়নিয়ারের এই উথান অন্য যেকোন সময়ের চেয়ে সর্বোচ্চ।
২০২০ সালের শেষ নাগাদ পুরো বিশ্বে মিলিয়নিয়ারের সংখ্যা ছিল ৫ কোটি ৪৮ লক্ষ। ২০২১ সালের শেষে এই সংখ্যা বেড়ে দাড়িয়েছে ৬ কোটি ২৫ লক্ষে।
অর্থনীতিবিদেরা মনে করছেন করোনা পরবর্তী সময়ে বৈশ্বিক অর্থনীতি তার প্রাথমিক ধাক্কা সামলে নিয়ে নতুন করে চাঙ্গা হচ্ছে।
ধনী লোকের অত্যাধিক বৃদ্ধি অন্তত এই কথার সত্যতা প্রমান করছে । তবে বিশ্লেষকেরা শংকা প্রকাশ করছেন ধনী গরীবের ভেদাভেদ বৃদ্ধি নিয়ে।
গত ২০শে সেপ্টেম্বর প্রকাশিত সুইস ব্যাংকের ওই প্রতিবেদনে আরো দেখা যায় গত এক বছরে বৈশ্বিক সম্পদের পরিমান বেড়েছে ৯ দশমিক ৮ শতাংশ।
সরকারি এবং বেসরকারি খাত মিলিয়ে বৈশ্বিক সম্পদের বর্তমান পরিমান প্রায় ৪৬৩ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন ডলার। তবে এর মধ্যে বেসরকারি সম্পদের ৮০ শতাংশ আছে সমাজের মাত্র ১০ শতাংশ লোকের নিকট।
করোনা পরবর্তি ধাক্কা কাটানো গেলেও শুরু হয়েছে রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ। এরই ফলে বিশ্বব্যাপী দেখা যাচ্ছে উচ্চ মুল্যস্ফীতি।
এই মুল্যস্ফীতি কমাতে ব্যাংকগুলো গ্রহন করছে সুদের হার বাড়ানোর মত নীতি, ফলে কমছে মানুষের সম্পদের পরিমান। অর্থনীতিবিদেরা আশংকা করছেন বিশ্ব মন্দার।
তবে এত কিছুর মাঝে গত মঙ্গলবার প্রকাশিত সুইস ব্যাংকের রিপোর্ট বলছে আগামী ৫ বছরে বিশ্বে ধনী লোকের সংখ্যা বাড়বে আরো আড়াই কোটি।
তথ্যনুযায়ী ২০২৬ সালে মিলিয়নিয়ারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে ৮ কোটি ৭৫ লক্ষ, যা ২০২১ সালের তুলনায় অন্তত ৪০ শতাংশ বেশি।
প্রকাশিত প্রতিবেদনের পুর্ভাবাস অনুযায়ী উদীয়মান অর্থনীতির দেশ গুলোতে ধনী মানুষ বৃদ্ধির হার সবচেয়ে বেশি।
সর্বশেষ ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ধনী মানুষের সংখ্যা বেড়েছে ২৬ লক্ষ। একইভাবে চীনেও ধনী পরিবারের সংখ্যা বাড়ছে অত্যাধিক হারে।
বিশ্লেষকেরা বলছেন চলমান মন্দার আগে করোনা পরিস্থিতিতে বিশ্বব্যাপী সম্পদের পরিমান কমলেও চীনা মানুষের সম্পদ ছিল ক্রমবর্ধমান।
এমনকি আগামী পাঁচ বছরে চীনে ধনী পরিবারের সংখ্যা বাড়বে দিগুনেরও বেশি। জরিপটি বলছে, চীন শীঘ্রই ধনীদের তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রের নিকটতম প্রতিদন্দ্বী হয়ে উঠবে।
তবে ক্রমাগত ভাবে নতুন ধনী বাড়লেও সম্পদের পরিমান কমছে পুরাতন ধনীদের। গত ছয় মাসে বিশ্বের সেরা ৫০০ ধনী ব্যাক্তি তাদের ১ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলারের সম্পদ হারিয়েছেন।
এই বিশাল সম্পদ হ্রাসের পেছনে মুল্যস্ফীতি এবং ডলারের মুল্যমান উঠানামা, সর্বোপরি চলমান মন্দা পরিস্থিতিকে দায়ী করা হচ্ছে।
তবে সুইস ব্যাংক এর জরিপ বলছে পরিস্থিতি দ্রুতই স্বাভাবিক হচ্ছে। উন্নয়নশীল দেশগুলো আগের যেকোন সময়ের চেয়ে ভালো অবস্থানে যাচ্ছে।
এছাড়া ক্রেডিট সুইসের জরিপে দেখা যায় সম্পদের বেসরকারিকরন বাড়ছে । তবে বিশ্বব্যাপী সম্পদশালী বাড়লে ও অর্থনীতিবিদেরা বলছেন ধনী গরীবের বৈষম্য বেড়েই চলেছে।