আন্তর্জাতিক


বাংলাদেশ থেকে নেয়া ঋণ শোধ করবে শ্রীলঙ্কা


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:১৯ অক্টোবর ২০২২, ০২:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার

বাংলাদেশ থেকে নেয়া ঋণ শোধ করবে শ্রীলঙ্কা

বাংলাদেশ থেকে নেওয়া দুইশ মিলিয়ন ডলারের ঋণ ফেরত দিবে শ্রীলংকা।   আগামী  ফেব্রুয়ারী এবং মার্চ মাসের দিকে তিন কিস্তিতে  ঋণ পরিশোধ করার আশ্বাস দিয়েছে এই  দ্বীপ রাষ্ট্র। 

গত সপ্তাহে আইএমএফ এবং বিশ্ব ব্যাংক এর বার্ষিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের  ওয়াশিংটন ডিসি তে। 

সেখানে বাংলাদেশ কেন্দ্রীয়  ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার এর সাথে একটি বৈঠকে  এ বিষয়ে আলোচনা করেন  শ্রীলঙ্কার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর পি নন্দলাল বীরসিংহ। 


ঋণের অর্থ পরিশোধের জন্য আইএমএফ এর দ্বারস্থ হচ্ছে দেশটি। আইএমএফ এর ঋণ ছাড় হলেই শ্রীলঙ্কা বাংলাদেশের অর্থ পরিশোধ শুরু করবে বলে জানানো হয়েছে।

গভর্নর নন্দলাল বীরসিংহ জানান, তারা চীন, জাপান এবং ভারতের সাথে মিলে তাদের ইকোনমি পুনর্গঠন করার চেষ্টায় রয়েছেন। 

 
এই বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক এর গভর্নর জানিয়েছেন, আগামী চার মাসের মধ্যেই শ্রীলঙ্কা তাদের ঋণ পুরোটাই পরিশোধ করবে। 

আগামী ফেব্রুয়ারী এবং মার্চের  মধ্যে কিছু নির্ধারিত সময় দেওয়া আছে। সেই সময় তারা অর্থ পরিশোধের জন্য বেছে নেবে বলে আশ্বাস দিয়েছে। 


ঋণের ব্যাপারে   আব্দুর রউফ তালুকদার বলেন, 'শ্রীলঙ্কা কে আমরা সোয়াপ অ্যারেঞ্জমেন্ট এর জন্য তিন দফায় দুইশ মিলিয়ন ডলার ঋণ দিয়েছিলাম। 

কিন্তু দেশটির অর্থনৈতিক সংকটের কারনে নির্ধারিত সময়ে আমাদের সেই অর্থ ফেরত দিতে পারেনি। আমরা ঋণ শোধের মেয়াদ দুই দফা বাড়িয়েছি।' 


১৯৯৭ সালে বিশ্ব ব্যাংকের মানদণ্ডে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছিলো শ্রীলঙ্কা। দক্ষিণ এশিয়ার দেশটি গত সাত দশকের মধ্যে এখন  সবচেয়ে বেশি অর্থনৈতিক সংকটে রয়েছে।


দুর্নিতি, লুটপাট, অপ শাসন  এবং করোনা মহামারীর ধাক্কা মিলিয়ে গত বছর ধ্বসে পড়ে শ্রীলঙ্কান অর্থনীতি। 

 রপ্তানি খাতে নির্দিষ্ট কিছু পণ্যের উপর নির্ভরশীলতা,   দুর্নীতি, অপশাসন এবং বৈদেশিক ঋণের বোঝা ছিলো  তাদের দেউলিয়া হবার অন্যতম কারণ। 

দুই কোটি বিশ লাখ জনসংখ্যার এই দেশ চলতি বছর রাজনৈতিক এবং আর্থিক  বিশৃঙ্খলায় নিমজ্জিত হয়েছে।

যার ফলে সার, ওষুধ সহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী আমদানি করতে পারেনি তারা। 

করোনা মহামারীর জন্যে দুই বছরের বেশি সময় ধরে তাদের পর্যটন খাত ছিলো সংকটের মুখে। 

পোশাক এবং পর্যটন খাতই ছিলো তাদের অর্থনীতির মূল চালিকা শক্তি। কিন্তু  মেরুদণ্ডই যখন ভেঙে পড়ে তখন আর  সহজে  উঠে  দাড়ানো বেশ কষ্ট হয়ে যায়। 

ঠিক সেরকমই একটি সময়  পার করছিলো বাংলাদেশের  অন্যতম  নিকটবর্তী  রাষ্ট্র। 

তখন চরম অর্থ সংকটে থাকা দেশটির পাশে দাড়ায় বাংলাদেশ। তিন দফায় রিজার্ভ থেকে ছাড় দেওয়া হয় ঋণের বিশ কোটি টাকা। 

বিনিময়ের প্রথা মেনে ঋণ পরিশোধের সময়ও নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছিলো। কিন্তু  দেউলিয়া ঘোষণা দেওয়ার পর সেই টাকা ফেরত পাওয়া নিয়ে দেখা দেয় শংকা।

বর্তমানে তাদের মূল্যস্ফীতি সত্তর দশমিক দুই শতাংশ। তাদের বার্ষিক মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে নতুন উচ্চতায় উঠেছে। খাদ্যপণ্যের দাম বেড়েছে চুরাশি দশমিক ছয় শতাংশ। 

শ্রীলঙ্কার অবস্থা আমাদের জন্য এক রকম সতর্ক বার্তা। যদিও বর্তমানে পুরো বিশ্ব অর্থনৈতিক সংকটের সম্মুখীন হতে যাচ্ছে। তাই এখন থেকেই সতর্কতা এবং সঠিক পথে এগোতে পারলে এই বৈশ্বিক সমস্যা  হয়তো কিছুটা এড়ানো সম্ভব। 


তবে, বাহিরের দেশ গুলি বাংলাদেশ কে নিয়ে আশা ব্যাক্ত করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর জানান, বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে ইচ্ছুক  বিদেশের বড় বড় ব্যাংক। 

আইএমএফ এবং বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভার বাইরে বাংলাদেশ ব্যাংক এর গভর্নরের সাথে বৈঠক করেন স্ট্যান্ডার্ড চাটার্ড এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রতিনিধি ও যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান জেপি মরগ্যানের ভাইস চেয়ারম্যান। 

মিটিংয়ে বাংলাদেশের বেসরকারি  খাতে বিনিয়োগের জন্য তাদের আহবান জানিয়েছেন তিনি।















জনপ্রিয়


আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন

৪০ দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ- কোন দেশে কত নিহত, বাংলাদেশির সংখ্যা কত?

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর পাল্টা জবাব দিয়েছে ইরান। শুধু ইসরায়েল নয়, ইরানের পক্ষ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায়ও হামলা চালানো হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক বিজয় হয়েছে: ডোনাল্ড ট্রাম্প

ইরান-এর সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ‘সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক বিজয়’ অর্জন করেছে।

যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে ‘ইরানের বিজয়’

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের উত্থাপিত ১০ দফা দাবি মেনে নিয়েছেন বলে দাবি করেছে তেহরান। এর পরিপ্রেক্ষিতে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে নিজেদের কূটনৈতিক বিজয় হিসেবে দেখছে ইরান।

যুক্তরাষ্ট্র ‘রেড লাইন’ পার হলে সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ছড়িয়ে পড়বে: ইরান

যুক্তরাষ্ট্র যদি তেহরানের নির্ধারিত ‘রেড লাইন’ অতিক্রম করে, তাহলে চলমান সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ছড়িয়ে পড়তে পারে- এমন কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।