আন্তর্জাতিক


ভবিষ্যতে আমেরিকার সবচেয়ে বড় হুমকি চীন


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:৩১ অক্টোবর ২০২২, ১১:০০ পূর্বাহ্ন, সোমবার

ভবিষ্যতে আমেরিকার সবচেয়ে বড় হুমকি চীন

ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন পরোক্ষভাবে আমেরিকার প্রতি প্রবল হুমকিস্বরূপ। তবে সমসাময়িক সময়ে চীন আমেরিকান মিলিটারীর সবথেকে বড় প্রতিপক্ষ। 

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ৮০ পৃষ্ঠার এক কৌশলপত্রে এই আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে বিবৃতি দিয়েছে হোয়াইট হাউজ।

আমেরিকাকে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে পৃথিবীর অন্যতম দুটি পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্রের মুখোমুখি হতে হবে। সেটি আগামী এক দশকের মধ্যেই হতে পারে মর্মে কৌশলপত্রে উল্লেখ করেছে ইউএস মিলিটারী। 

সাম্প্রতিক পরিস্থিতি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে পারমানবিক অস্ত্র ব্যবহারে বাধ্য করতে পারে।

সদ্য দখলকৃত দোনেৎস্ক, লুহানস্ক, খেরসন ও জাপোরিঝঝিয়া সহ পূর্বে দখলকৃত ক্রিমিয়াকে রাশিয়ার ভূখন্ডের সাথে সংযুক্ত করে, এই অঞ্চলগুলোকে যেকোন মূল্যে রক্ষা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন পুতিন। 

এছাড়াও রাশিয়া এবং ইউক্রেনের মধ্যকার যুদ্ধে অন্য দেশের নাক গলানোকে সহজভাবে না নেওয়ার হুশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট।

ইউক্রেনের সাথে যুদ্ধ চলতে থাকলে রাশিয়া ক্রমাগতভাবে সামরিক দিক থেকে দূর্বল হয়ে যাবে। তবে চীনকে দীর্ঘকাল ধরে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার মতো ক্ষমতা সম্পন্ন প্রতিপক্ষ হিসেবে বিবেচনা করছে বাইডেনের প্রকাশিত নতুন জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলপত্র।

রাশিয়ার প্রচলিত সেনাদের সামরিক সক্ষমতা কমে আসলে তারা পারমানবিক অস্ত্রের উপর জোর দিতে পারে বলে আশঙ্কা বাইডেন প্রশাসনের।

অন্যদিকে চীনকে সমসাময়িক বিশ্বের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখাতে গিয়ে কৌশলপত্রে বলা হয়েছে, চীন বর্তমান সময়ের একমাত্র রাষ্ট্র যাদের অর্থনৈতিক, কূটনৈতিক, সামরিক এবং কৌশলগত সক্ষমতা অনেক বেশি। 

এজন্যই দেশটিকে ভূরাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের মধ্যে সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং হিসেবে বিবেচনা করছে বাইডেন প্রশাসন।

ফেডারেশন অফ আমেরিকান সাইন্টিস্টদের হিসেব মতে, চীনের কাছে প্রায় ৩৫০ পারমানবিক অস্ত্র আছে, রাশিয়ার কাছে আছে ৫৯৭৭টি। যার বিপরীতে আমেরিকার হাতে আছে ৫৪২৮টি পারমানবিক অস্ত্র।

২০৩০ সালের মধ্যে চীন তাদের পারমাণবিক অস্ত্রের সংখ্যাটিকে ১০০০ এ নিয়ে যাবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে কৌশলপত্রে। চীনের রাশায়নিক অস্ত্রের ভান্ডার বৃদ্ধি আমেরিকার সাথে আগামী দিনে সংঘাত বৃদ্ধির অন্যতম বড় কারণ হিসেনে বিবেচিত হচ্ছে। 

সেক্ষেত্রে, চীন এবং রাশিয়ার মিত্রতা আমেরিকার জন্য আগামী দিনগুলোতে উদ্বেগজনক হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

গত আগস্টে আমেরিকার হাউক অফ রিপ্রেজেনটেটিভের স্পীকার ন্যান্সো পেলোসির তাইওয়ান সফরকে কেন্দ্র করে আমেরিকা এবং চীনের সম্পর্কে নতুনভাবে বিরূপ প্রভাব ফেলেছে। 

অন্তর্গত থাকা তাইওয়ানে মার্কিন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ত্বের সফরকে সহজভাবে নেয়নি চীন। এই সফরকে কেন্দ্র করে তাইওয়ান এবং আমেরিকাকে হুশিয়ারি দিয়ে সামরিক মহড়া চালিয়েছিলো তারা। 

ভবিষ্যতে অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মার্কিনীদের নাক গলানোকে সহজভাবে নিবে না বলে আগে থেকেই হুশিয়ারি দিয়ে রেখেছে চীন।

চীন এবং রাশিয়া ছাড়াও আমেরিকার আরো দুটি পারমানবিক শক্তিধর প্রতিপক্ষ উত্তর কোরিয়া এবং ইরান। সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধকে কেন্দ্র করে রাশিয়ার প্রতি উত্তর কোরিয়া এবং ইরানের সমর্থন ক্রমশ শক্তিশালী হচ্ছে। 

ইরানের বহুল আলোচিত 'কামিকাজি' ড্রোন ব্যবহার করে রুশ সেনারা ইউক্রেন যুদ্ধে নতুনভাবে ঘুরে দাড়িয়েছে। সেই সাথে উত্তর কোরিয়ার কাছ থেকে রাশিয়া অস্ত্র নিচ্ছে বলে অভিযোগ আমেরিকার।

রাশিয়া, চীন, ইরান, উত্তর কোরিয়া, ৪টি পারমাণবিক শক্তিধর দেশের মিত্রতা যদি আগামীতেও অটুট থাকে, তাহলে তা আমেরিকার মাথা ব্যাথার সবথেকে বড় বিষয় হয়ে দাঁড়াবে।

চীন এবং রাশিয়ার সংঘবদ্ধ পারমানবিক অস্ত্রের সংখ্যা, হাইপারসনিক মিসাইল, দুরপাল্লার ব্যালেস্টিক মিসাইলসহ অন্যান্য প্রযুক্তিগত উত্থান দ্রুত ঘটছে।

এগুলো আমেরিকাকে অদূর ভবিষ্যতে বিপদে ফেলতে ব্যপক ভূমিকা রাখবে বলেই ধারণা বাইডেন প্রশাসনের।






জনপ্রিয়


আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন

৪০ দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ- কোন দেশে কত নিহত, বাংলাদেশির সংখ্যা কত?

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর পাল্টা জবাব দিয়েছে ইরান। শুধু ইসরায়েল নয়, ইরানের পক্ষ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায়ও হামলা চালানো হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক বিজয় হয়েছে: ডোনাল্ড ট্রাম্প

ইরান-এর সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ‘সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক বিজয়’ অর্জন করেছে।

যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে ‘ইরানের বিজয়’

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের উত্থাপিত ১০ দফা দাবি মেনে নিয়েছেন বলে দাবি করেছে তেহরান। এর পরিপ্রেক্ষিতে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে নিজেদের কূটনৈতিক বিজয় হিসেবে দেখছে ইরান।

যুক্তরাষ্ট্র ‘রেড লাইন’ পার হলে সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ছড়িয়ে পড়বে: ইরান

যুক্তরাষ্ট্র যদি তেহরানের নির্ধারিত ‘রেড লাইন’ অতিক্রম করে, তাহলে চলমান সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ছড়িয়ে পড়তে পারে- এমন কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।