আন্তর্জাতিক


রাশিয়াকে অবরোধ দিয়ে উল্টো বিপদে পশ্চিমা দেশ গুলো


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:২৪ ডিসেম্বর ২০২২, ০৪:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার

রাশিয়াকে অবরোধ দিয়ে উল্টো বিপদে পশ্চিমা দেশ গুলো

অস্ত্র-সস্ত্র, বোমা-বারুদ বা পারমাণবিক শক্তি, কোন দিকেই কমতি নেই রাশিয়ার। তবে ইউক্রেন আক্রমনের পর থেকে ভিন্ন এক সমর কৌশল ব্যবহার করছে দেশটি। উৎপাদিত তেল শক্তিকে রীতিমত ঢাল হিসেবে উপস্থাপন করে আসছে তারা। 

এদিকে রাশিয়ার তেলের উপর পুরো বিশ্ব অনেকাংশে নির্ভরশীল। একইভাবে ইউরোপিয়ান দেশগুলো চরমভাবে দেশটির তেলের উপর নির্ভর করে আসছে। 

অন্যদিকে বিশ্লেষকদের অভিযোগ, তেল বিক্রির মুনাফা সম্পূর্ন খরচ হচ্ছে ইউক্রেন যুদ্ধে। তাই তেলের উপর নিষেধাজ্ঞা না দিয়ে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেধে দিয়েছে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন। 

সমুদ্রগামী জাহাজের মাধ্যমে প্রতি ব্যারেল ৬০ ডলারের চেয়ে বেশি দামে তেল বিক্রি করা যাবে না। ৬০ ডলারের বেশি মূল্যে বিক্রি করতে গেলে, অনেক ধরণের প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হবে তারা। 

এর মধ্যে জাহাজের ইন্স্যুরেন্স, বীমা  সংক্রান্ত সমস্যা অন্যতম। অর্থাৎ জাহাজগুলো ইন্স্যুরেন্স বা বীমা সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবে। আর ইন্স্যুরেন্স বা বীমা কোম্পানীগুলো বেশিরভাগই ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত। 

তবে তেলের দামে ভাটা টেনে উল্টো বিপদে পড়েছে পশ্চিমা মিত্ররা। ঘোষনার পরের দিনই তেলের দাম প্রায় ২ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেলের দাম ৮৭ ডলারের ওপরে উঠে যায়। ধারণা করা হচ্ছে ব্যারেল প্রতি দাম ৯৫ ডলারে গিয়ে ঠেকতে পারে।  

এর প্রধান কারণ রাশিয়ার তেল সরবরাহ কমিয়ে দেওয়া। রাশিয়া ছাড়া অন্যসব শীর্ষ তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো ইতিমধ্যে তেলের উৎপাদন কমিয়ে এনেছে। সব মিলিয়ে তেলের বাজারে অস্থিরতা চরমে পৌঁছে গেছে। 

অন্যদিকে রাশিয়ার তেলের ব্যবসা ঠিকই চলমান আছে। চীনে কোভিড বিধি-নিষেধ শিথিল হওয়ার পর, তাদের শিল্প উৎপাদনে তেলের চাহিদা বৃদ্ধি পায়। যার ফলে রাশিয়ান তেলের চাহিদা আগের মতোই আছে। পাশাপাশি ভারতও রাশিয়ান তেলের অনেক বড় ক্রেতা। 

শুধু ভারত বা চীন নয়, মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশ এখন রশিয়ান তেলের বড়ো বাজারে পরিণত হয়েছে। পাশাপাশি এশিয়ান দেশগুলোও রাশিয়ান তেলের দিকে ঝুঁকছে।  

এক কথায়, বাজারে চাহিদা থাকলে রাশিয়া যেকোনো ভাবেই নিজস্ব মূল্যে তেল বিক্রি করতে পারবে। তাছাড়া ইউরোপিয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞা নির্ভর করছে ব্যাংক বা বীমা কোম্পানীগুলোর উপর। 

কোম্পানীগুলো বেশিরভাগই ই ইউ বা জি সেভেন ভুক্ত হলেও এদের বাইরে আরো অনেক বীমা বা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানী আছে। তারা এই নিষেধাজ্ঞা মেনে চলতে বাধ্য নয়। 

চাইলেই ভুয়া মূল্যের কাগজ দেখিয়ে রাশিয়া থেকে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে তেল কেনাবেচা সম্ভব। বিশ্লেষকরা মনে করছে, নিজেদের ব্যবসা ধরে রাখতে, বীমা কোম্পানিগুলোর এমন পথ বেছে নেওয়ার সম্ভবনা বেশি। 

তাছাড়া তেল বেচা-কেনায় নিজস্ব ইন্স্যুরেন্স বা জাহাজের সক্ষমতাও আছে রাশিয়ার। মূলত নিষেধাজ্ঞার আভাস পেয়ে, বাইরে থেকে শখানেক জাহাজ কিনে রেখেছে মস্কো।

সেই সাথে তেল আমদানি রপ্তানির ক্ষেত্রে বেনামী জাহাজের ব্যবহার হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এইসব জাহাজ মুলত ইউরোপিয়ানদের নাগালের বাইরে। 

তাছাড়া এক ব্র্যান্ডের তেলের সঙ্গে আরেক ব্র্যান্ডের তেলের মিশ্রণ ঘটালে, কোনো ভাবেই তেলের উৎপত্তি স্থল শনাক্ত করা সম্ভব হয় না। তেল কালো বাজারিতে এই পন্থা বেশ আগে থেকে ব্যবহার হয়ে আসছে।

আর চাইলেই, মাঝ সমুদ্রে এক ট্যাংকার থেকে আরেক ট্যাংকারে তেল সরিয়ে নেওয়া সম্ভব। 
এমন অনৈতিক কর্মকান্ডের ফলে অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে পারে বেশ কয়েকটি দেশ। 

বিশেষ করে ফ্রান্স, ইতালি বা নেদারল্যান্ডের মত দেশগুলো, যাদের বেশিরভাগই রাশিয়ার তেলের উপর অতি মাত্রায় নির্ভরশীল। অন্যদিকে রাশিয়ার ব্যবসা ঠিকই চলমান থাকবে। 




 



জনপ্রিয়


আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন

খামেনি ও তার ছেলেকে হত্যার পরিকল্পনা

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘিরে নতুন করে যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে একটি নতুন চুক্তিতে রাজি হওয়ার আহ্বান জানিয়ে সতর্ক করেছেন শর্ত না মানলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। চুক্তিতে সম্মত হওয়ার জন্য ইরানকে ১০ দিনের সময়সীমা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

গাজার পুনর্গঠনে ৭০০ কোটি ডলার: ‘শান্তি পর্ষদ’ বৈঠকে ট্রাম্পের ঘোষণা

ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত তথাকথিত ‘শান্তি পর্ষদ’–এর প্রথম বৈঠকে ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজা উপত্যকার পুনর্গঠনের জন্য ৭০০ কোটি ডলারের তহবিল প্রতিশ্রুতির কথা জানান। তাঁর দাবি, ৯টি সদস্যরাষ্ট্র প্রাথমিকভাবে এ তহবিলে অর্থ দিতে সম্মত হয়েছে। একই সঙ্গে গাজায় একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েনে পাঁচটি দেশ নীতিগত সম্মতি দিয়েছে।

‘হাড় না ভাঙা’ পর্যন্ত স্ত্রীকে মারার অনুমোদন- আফগানিস্তানে নতুন আইন ঘিরে বিতর্ক

নারীদের বিরুদ্ধে নতুন কড়া আইন জারির অভিযোগ উঠেছে আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের বিরুদ্ধে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেন্ডেন্ট-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির নতুন ফৌজদারি আইনে স্বামীদের স্ত্রী ও সন্তানদের শারীরিকভাবে শাস্তি দেওয়ার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যা পারিবারিক সহিংসতাকে কার্যত বৈধতা দিচ্ছে বলে সমালোচকরা দাবি করছেন।

ভোটে হেরে বাড়ি বাড়ি ঘুরে টাকা ফেরত চাইছেন প্রার্থীর স্ত্রী

ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যে পৌর নির্বাচনে পরাজয়ের পর এক প্রার্থীর পরিবারের কর্মকাণ্ড ঘিরে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, এক প্রার্থীর স্ত্রী বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের কাছ থেকে টাকা ফেরত চাইছেন বলে অভিযোগ