আন্তর্জাতিক
হাসিখুশি মানুষের দেশ ডেনমার্ক
ডেনমার্ককে বলা হয় হাসিখুশি মানুষের দেশ। কারণ ড্যানিশরা রসিকতা করতে ভীষণ ভালবাসে। রসিকতা তাদের জাতীয় জীবনের অংশ।
উন্নত জীবনমানের কারণে এখানকার মানুষ অত্যন্ত সুখী জীবনযাপন করে। এখানে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা বাবদ জনগণকে কোন খরচ করতে হয় না।
এদেশের মানুষ মোটা অংকের টাকা উপার্জন করে। আর্থিক অবস্থা এতটাই উন্নত যে, ৮৯ ভাগ মানুষই শহরে বাস করে।
ডেনমার্ক সুখী শিশুদের দেশ। এখানে সরকারিভাবে শিশুদের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়। স্কুলগুলোতে সম্পূর্ণ বিনামূল্য লেখাপড়া করতে পারে তারা।
ডেনমার্কের শিশুরা প্রতি তিন মাস অন্তর অন্তর সরকারের কাছ থেকে মাসিক ভাতা পেয়ে থাকে। এমনকি প্রবাসীদের সন্তানদের ক্ষেত্রেও এটি প্রযোজ্য। এদেশের পরিবেশে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুরাও স্বাচ্ছন্দ্যে বসবাস করতে পারে।
দেশটির অদ্ভুত নিয়ম হল, বাবা মা তাদের সন্তানদের নাম রাখতে পারে না, নাম ঠিক করে দেয় সরকার। তবে কেউ যদি সন্তানের নাম নিজে রাখতে চান তবে চার্চ এবং সরকারের বিশেষ অনুমোদনের প্রয়ায়জন হয়। সরকার চাইলে এই অনুমতি নাও দিতে পারে।
ড্যানিশ রাজতন্ত্র পৃথিবীর প্রাচীনতম রাজতন্ত্র, যার বয়স ১০০০ বছর। বিশ্বের সবচেয়ে পুরানো পতাকার ডিজাইন এখনও এদেশেই টিকে আছে।
বিস্ময়কর ব্যাপার হল, ডেনমার্কের জাতীয় পতাকা কেউ চাইলে প্রকাশ্যে পুড়িয়ে ফেলতে পারে, যা আর কোন দেশে সম্ভব নয়। কারণ বাকি সব দেশে এটি দণ্ডনীয় অপরাধ।
বিয়ের ব্যাপারে ডেনিশদের একটি অদ্ভুত সংস্কৃতি রয়েছে। এদেশে কেউ যদি ২৫ বছর বয়স পর্যন্ত অবিবাহিত থাকে তাহলে ২৫ তম জন্মদিনে মজা করে বন্ধুরা তার গায়ের উপর চিনি ছিটিয়ে দেয়।
আর কেউ যদি ৩০ বছর বয়স পর্যন্ত বিয়ে না করে, তাহলে জন্মদিনে তার গায়ে গোলমরিচের গুঁড়ো ছেটানো হয়। এমন নিয়ম থাকার পেছনে এদেশের সংস্কৃতির প্রভাব রয়েছে।
ড্যানিশরা সংসার জীবন খুব একটা পছন্দ করে না। বিশেষ করে নারী স্বাধীনতার স্বীকৃতি থাকায়, এরা সাধারণত ৩০ বছর বয়সের পরে গিয়ে বিয়ে করে।
সারা ইউরোপের মধ্যে এদেশেই সবচেয়ে দেরিতে বিয়ে করার রেকর্ড রয়েছে। ২০০৯ সালে ১০০ বছর বয়স্ক এক ডেনিশ ভদ্রলোক বিয়ে করেছিলেন ৯৪ বছরের এক বয়স্ক নারীকে।
এদেশে বিয়ের ক্ষেত্রে আরও একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হল, বয়স ভালবাসা ও বিয়ের ক্ষেত্রে কোন বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না। বয়সের ব্যবধান যাই হোক না কেন, ভালোবেসে ফেললে, তারা বিয়ে করতে পারে।
তবে ব্যক্তি স্বাধীনতাকে অধিক প্রাধান্য দেয়ায় দেশটিতে ডিভোর্সের হারও বেশী। ডেনমার্কের সংস্কৃতি খুবই উদার। এখানে লিভ টুগেদার বৈধ।
কাওকে ভালো লাগলে বা পছন্দ হয়ে গেলে ডেনিশরা তাকে জড়িয়ে ধরে। এর মাধ্যমে তারা পছন্দের মানুষটির সাথে আলাপ করার ইচ্ছা ব্যক্ত করে।
ড্যানিশরা নিয়ম শৃঙ্খলা মেনে চলার ব্যাপারে খুবই সচেতন। রাস্তায় যদি একটি গাড়িও থাকে, তারপরও গ্রিন সিগন্যাল না পেলে চলাচল করে না। কারণ নিয়ম মেনে চলাকে তারা দায়িত্ব মনে করে।
শৃঙ্খলাপরায়ণ এই দেশটিতে ১০০ ভাগ মানুষ সাঁতার জানে। কারণ বাচ্চারা তাদের স্কুল থেকেই বাধ্যতামূলকভাবে সাতার শিখে থাকে। এরপর সাঁতারের যে পরীক্ষা হয় তাতে পাশও করতে হয় সবাইকে।
পৃথিবীর সবচেয়ে হাসিখুশি দেশের মানুষরা স্বভাবের দিক দিয়ে খুবই স্পষ্টভাষী। তাছাড়া, এরা এক কথার মানুষ। কথায় আর কাজে মিল থাকা ডেনিশদের অন্যতম আকর্ষণ।
ডেনমার্ক বাইসাইকেলের দেশ। এখানে রাস্তায় মানুষের থেকে সাইকেলের সংখ্যা বেশী। ডেনিশরা গাড়িতে চড়ার তুলনায় সাইকেল চালাতে ভালবাসে। তারা মনে করে এতে স্বাস্থ্যও ভালো থাকবে আর পরিবেশও দূষণ মুক্ত রাখা যাবে।
ডেনমার্কের মানুষের কাছে পরিচ্ছন্নতা মানেই পবিত্রতা। লেকগুলোর জল এতটাই স্বচ্ছ আর পরিষ্কার যে, নির্দ্বিধায় গোসল করা যায়। দূষণমুক্ত এদেশের ৪৫ ভাগ বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয় বাতাসের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় উইন্ড টার্বাইনগুলো এদেশেই রয়েছে।
ডেনমার্কের একটি বিখ্যাত খাবার ডেনিশ পেস্ট্রি। নাম পেস্ট্রি হলেও, এটি আসলে কেক নয়, বরং বিশেষভাবে পরিবেশন করা পাউরুটি। এতে টোস্ট করা গোল গোল পাউরুটির মাঝখানে বিভিন্ন ফলের জ্যাম ভরে দেয়া হয়।
এখানকার ত্রিপলি গার্ডেনকে পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর বাগান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। পৃথিবীতে প্রায় সব ফুলই এখানে পাওয়া যায়।
কোপেনহেগেনের অরেসান ব্রিজটি এমন এক জায়াগা, যেখান থেকে সারা পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে সুন্দরভাবে সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্ত দেখা যায়। এখনাকার ফ্রাডে আইল্যান্ডকে পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর দ্বীপ বলা হয়।
প্রবাসীদের জন্য একটি বিশেষ নিয়ম হল, ডেনমার্কে আসতে হলে তাকে যে কোন একটি বিষয়ে বিশেষ দক্ষতা অর্জন করতে হবে।
সামাজিক মেলামেশার ক্ষেত্রে উদার হলেও, ধর্মের ক্ষেত্রে সহনশীল নয় ডেনমার্ক। এখানে মুসলমান নারীদের হিজাব পরিধান সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
জনপ্রিয়
আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন
১১ মাসের কন্যাসন্তানকে হত্যা, দুর্ঘটনা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টাকালে বাবা-মা গ্রেফতার
ভারতের বেঙ্গালুরুতে মাত্র ১১ মাস বয়সী এক কন্যাশিশুকে হত্যার পর ঘটনাটি দুর্ঘটনা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে শিশুটির বাবা ও মাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে মৃত্যু বেড়ে ৩ হাজার ৫৩৫
ভেনেজুয়েলায় গত সপ্তাহে আঘাত হানা দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩ হাজার ৫৩৫ জনে পৌঁছেছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ১৬ হাজার ৭৪০ জন এবং প্রায় ১৮ হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। দুর্যোগ-পরবর্তী পরিস্থিতিতে দেশটিতে ভয়াবহ স্বাস্থ্য সংকট দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

বালোগানের নিষেধাজ্ঞা পুনর্বিবেচনায় ফিফাকে অনুরোধ করেছিলেন ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় ফুটবল দলের স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগানের এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পুনর্বিবেচনার জন্য ফিফাকে অনুরোধ করেছিলেন বলে নিশ্চিত করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার ভাষ্য, নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকলে তা চলমান বিশ্বকাপের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলত।

ট্রাম্পকে ‘ফিফা শান্তি পুরস্কার’ দেওয়ায় ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ফিফার ‘ফিফা শান্তি পুরস্কার’ দেওয়াকে কেন্দ্র করে ফিফা সভাপতি জিয়ানি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ৫০ জন সদস্য। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ফিফার নৈতিকতা কমিটির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

.jpg)






