আন্তর্জাতিক


মার্কিন বিমানের ১০ ফুট দূরত্বে এসেছিল চীনা যুদ্ধবিমান


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:৩১ ডিসেম্বর ২০২২, ১১:০৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার

মার্কিন বিমানের ১০ ফুট দূরত্বে এসেছিল চীনা যুদ্ধবিমান

এবারে মাঝ আকাশে ঝামেলায় জড়ালো চীন এবং যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমান। দুই পক্ষের সংঘর্ষ এড়াতে শেষ পর্যন্ত সরে আসতে হয়েছে মার্কিন বিমানকে। 

বৃহষ্পতিবার এক বিবৃতিতে এমনটাই জানিয়েছে পেন্টাগন। তবে চীন এই ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেনি।  তারা প্রশ্নবিদ্ধ করেছে আঞ্ছলিক অখন্ডতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানকে। 

চীনের পার্শবর্তী অঞ্ছল তাইওয়ানকে ঘিরে যখন দুই দেশ একের পর এক মহড়া এবং কথার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে, তখনই প্রকাশ্যে এল এমন ঘটনা।

ঘটনার সুত্রপাত হয় গেল ২১ ডিসেম্বর। এদিন দক্ষিন চীন সাগরের আন্তর্জাতিক আকাশ সীমায় মার্কিন সামরিক বাহিনীকে আক্রমনাত্বক চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয় চীন।

এসময় টহলে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের নজরদারি বিমান RC1 35 আকাশে গতিরোধ করে মহড়া দেয় চীনের একটি জে ওয়ান ওয়ান ফাইটার জেট। 

এটি মার্কিন বিমানের সামনের ২০ ফুট এবং পাখার ১০ ফুট দূরত্বের মধ্য দিয়ে উড়ে গেছে। তখন সংঘাত এড়াতে সরে যেতে হয়েছিলো মার্কিন বিমানটিকে। 

এই ঘটনাy গত বৃহষ্পতিবার এক বিবৃতির মাধ্যমে হুমকি আখ্যা দিয়েছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগন।

সে বিবৃতিতে দাবি করে তাদের সার্ভেইলেন্স বিমানটি আন্তর্জাতিক আকাশ সীমায় আইন মেনে দক্ষিন চীন সাগরের উপর রুটিন টহল দিচ্ছিল। 

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের এমন অভিযোগকে নাকচ করে দিয়েছে চীন। তারা পাল্টা বিবৃতিতে জানায় 
যুক্তরাষ্ট্র চীনের অভ্যন্তরীণ ইস্যুতে নাক গলাচ্ছে।

তারা যুক্তরাষ্ট্রকে বানিজ্য এবং আঞ্ছলিক অখন্ডতার বিষয়ে আরো সহনশীল আচরনের পরামর্শ দিয়েছে। একই বিবৃতিতে সমঝোতা চাইলে যুক্তরাষ্ট্রকে যথাযথ উদ্যোগ নিতে বলা হয়। 

তবে চীনা যুদ্ধবিমানের এমন আগ্রাসী আচরন এবারই প্রথম নয়। চলতি বছরে কানাডা এবং অস্ট্রেলিয়া সহ একাধিক দেশ তাদের বিরুদ্ধে এমন বিপদজনক আচরনের অভিযোগ করেছে।

সম্প্রতি নিউইয়র্ক টাইমসকে এক মার্কিন জেনারেল জানিয়েছেন শুধু আকাশপথে নয়, সমুদ্রেও  চীন ভিনদেশী জাহাজের সাথে এমন আগ্রাসী আচরন করছে।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, চীন - যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক উত্তেজনার কারন দক্ষিন চীন সাগর এবং তাইওয়ান। বেইজিং দীর্ঘদিন ধরেই দাবি করে আসছিল দক্ষিন চীন সাগরের পুরো মালিকানা তাদের।

তবে আন্তর্জাতিক আদালতের রায় অনুযায়ী চীনের এমন দাবির কোন ভিত্তি নেই। যুক্তরাষ্ট্র বহু দিন ধরেই প্রতিপক্ষের মালিকানা দাবি প্রত্যাখ্যান করে আসছে।

তবে এত কিছু সত্ত্বেও মাছ ও গ্যাসের ভান্ডার বলে পরিচিত এই জলসীমায় চীন নিজেদের সামরিক এবং অর্থনৈতিক উপস্থিতি বাড়িয়েই চলছে। 

দুই দেশের বিরোধের আরেক কারন তাইওয়ানকে ঘিরে সম্প্রতি সৃষ্টি হয়েছে উত্তেজনা। দেশটির চারপাশে ক্রমাগত নিজেদের সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি করছে চীন। 

গেল সপ্তাহে তাদের ৭১টি যুদ্ধবিমান তাইওয়ানে অনুপ্রবেশ করেছিল। তাইওয়ানে চলতি বছর প্রায় 1712 one thougj চীনা বিমান অনুপ্রবেশ করেছে।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন দুই দেশের সাম্প্রতিক উত্তেজনায় চীন কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।  তবে দেশ দুটি শীঘ্রই কোন ঝামেলায় জড়াতে চাচ্ছেনা।

এমনকি বিশ্বাবাসীও নতুন কোন ঝামেলা চায় না। করোনা মহামারী, রাশিয়া- ইউক্রেন সংঘাত সর্বশেষ  অর্থনৈতিক মন্দায় ইতিমধ্যেই সকলের অবস্থা খারাপ হয়ে আছে। 

তবে সময়ই বলে দেবে এই দুই পরাশক্তি কি করবে। তাইওয়ান কিংবা দক্ষিন চীন সাগরের ভবিষ্যত অনেকটাই নির্ভর করছে দুই দেশের ইচ্ছার উপর। 







জনপ্রিয়


আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন

৪০ দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ- কোন দেশে কত নিহত, বাংলাদেশির সংখ্যা কত?

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর পাল্টা জবাব দিয়েছে ইরান। শুধু ইসরায়েল নয়, ইরানের পক্ষ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায়ও হামলা চালানো হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক বিজয় হয়েছে: ডোনাল্ড ট্রাম্প

ইরান-এর সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ‘সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক বিজয়’ অর্জন করেছে।

যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে ‘ইরানের বিজয়’

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের উত্থাপিত ১০ দফা দাবি মেনে নিয়েছেন বলে দাবি করেছে তেহরান। এর পরিপ্রেক্ষিতে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে নিজেদের কূটনৈতিক বিজয় হিসেবে দেখছে ইরান।

যুক্তরাষ্ট্র ‘রেড লাইন’ পার হলে সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ছড়িয়ে পড়বে: ইরান

যুক্তরাষ্ট্র যদি তেহরানের নির্ধারিত ‘রেড লাইন’ অতিক্রম করে, তাহলে চলমান সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ছড়িয়ে পড়তে পারে- এমন কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।