মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কবলে থাকা একটি জাহাজ গ্রহণে বাংলাদেশকে ক্রমাগত চাপ দিচ্ছে রাশিয়া। দেড় সপ্তাহ ধরে স্পার্টা-3 নামের জাহাজটি গভীর সমুদ্রে অপেক্ষমাণ রয়েছে।
মূলত বাংলাদেশকে না জানিয়ে আগে থেকেই নিষেধাজ্ঞায় পড়া একটি জাহাজের নাম এবং রঙ পাল্টে মালামাল পাঠানোয় সৃষ্টি হয়েছে এই সমস্যা।
জাহাজটিকে বন্দরে প্রবেশের অনুমতি প্রদানের আহবান জানিয়ে ক্রমাগত চাপ প্রয়োগ করছে মস্কো। তবে অনুমতি দিলে বাংলাদেশেরও মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় পড়ার সম্ভবনা রয়েছে।
গেল ২৪ শে ডিসেম্বর রাশিয়ার সহযোগিতায় নির্মানাধীন রুপপুর প্রকল্পের মালামাল নিয়ে মোংলা বন্দরে পৌছানোর কথা ছিল উরসা মেজর নামে এক রাশিয়ান জাহাজের।
এর আগে জাহাজটি কোন ধরনের ঝামেলা ছাড়াই চলতি পথে ভারতের কেরালা রাজ্যের কোচিন বন্দরে সেখানকার কিছু পন্য খালাস করে আসে।
এরপর রুপপুরের পন্য বাহী জাহাজটি যথারীতি যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে। তবে বিপত্তির শুরুটা হয় দেশে প্রবেশের চারদিন আগে ২০ শে ডিসেম্বর।
ঢাকাস্থ মার্কিন দুতাবাস এক কুটনৈতিক বার্তায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়কে জানায় রাশিয়া থেকে আগত জাহাজটির নাম আসলে উরসা মেজর নয়।
এটি মুলত মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কবলে থাকা রাশিয়ান জাহাজ স্পার্টা থ্রি। ভারত এবং বাংলাদেশের যাত্রা করার আগে এর নাম ও রঙ পরিবর্তন করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী গাড়ি কিংবা প্লেনের মত প্রতিটি জাহাজের একটি নাম্বার থাকে। রাশিয়া জাহাজটির নাম পরিবর্তন করলেও এই নাম্বার পরিবর্তন করেনি।
পরবর্তিতে বাংলাদেশের তদন্তে দেখা যায় উরসা মেজরের আন্তর্জাতিক সনদ নম্বর প্রকৃত পক্ষে ‘স্পার্টা থ্রি'-এর নম্বর।
তাই মার্কিন আহবানে সাড়া দিয়ে বাংলাদেশ জাহাজটিকে বন্দরে ভিড়তে নিষেধ করে দেয়। এরপরই বাংলাদেশের এই অবস্থান গ্রহনযোগ্য নয় বলে চিঠি প্রদান করে রাশিয়ান দুতাবাস।
তবে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ভয়ে এবারেও রাশিয়ান আহবানে সাড়া দেয়নি বাংলাদেশ। সংশ্লিষ্ট সুত্রের তথ্য মতে মার্কিনিদের পত্রে নিষেধাজ্ঞার হুমকি ছিল।
সেদিক থেকে বাংলাদেশের সিদ্ধান্তকে যুক্তিযুক্ত বলেই দাবি করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকেরা।
২২ শে ডিসেম্বর আরো একটি পত্র পাঠিয়েছে রাশিয়া। তবে সে পত্রের ভাষা ছিল অনেকটাই আক্রমনাত্বক। সেখানে তারা জাহাজটিকে প্রবেশ করতে দেওয়া না হলে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে জানিয়েছে।
এই পত্রেও পাত্তা না দিয়ে সর্বশেষ গত বৃহষ্পতিবার রাশিয়ান রাষ্ট্রদুতকে জানিয়ে দেওয়া হয় আইন অনুযায়ী রুপপুর প্রকল্পের পন্য খালাসের দায়িত্ব স্থানীয় এজেন্টের।
সেক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি সুরাহা করতে হবে রাশিয়াকে। আইন অনুযায়ী বাংলাদেশ কোন পক্ষকে সাহায্য করবে না।
দেশের ভুখন্ডে জাহাজটিকে প্রবেশ করতে দেওয়া না হলেও সুযোগ রয়েছে পন্য খালাসের। ছোট জাহাজে করে ওই জাহাজের পন্য নেওয়া যাবে প্রকল্প স্পটে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী জাহাজটি বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশ সীমানার আশেপাশেই রয়েছে। তবে সমস্যা সমাধানে রাশিয়া কি করবে এখনো জানা যায়নি।
সম্প্রতি ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান নিয়ে এক প্রকার শীতল যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে দুই সুপার পাওয়ার রাশিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র।
দেশ দুটি চেষ্টা করছে বিশ্বব্যাপী নিজেদের ক্ষমতার জানান দিতে। তার রেশ এসে পড়েছে বাংলাদেশও। উভয়েই বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি এবং নির্বাচন নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে পাল্টাপাল্টি বিবৃতি দিয়েছে।
এমন অবস্থায় সামনে আসলো রুপপুর পারমানবিক বিদ্যুত প্রকল্পের পন্য নিয়ে রুশ জাহাজের নাম পালটে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা।
বিশ্লেষকদের চোখে বাংলাদেশকে ঘিরে দুই দেশের এমন প্রতিযোগিতা কিছুটা আশঙ্কার কারন।