আন্তর্জাতিক


বিশ্বের কোন কোন দেশে তেলের মজুদ সবচেয়ে বেশি


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:৩১ ডিসেম্বর ২০২২, ১২:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার

বিশ্বের কোন কোন দেশে তেলের মজুদ সবচেয়ে বেশি

জ্বালানী তেল বিশ্ব রাজনীতির একটি বিরাট অংশ নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। যার কারণে জ্বালানী তেলকে ‘ব্ল্যাক গোল্ড’ নামে ডাকা হয়। 


রাশিয়া ইউক্রেন বিরোধের জের ধরে তেলের সাপ্লাই চেন ২০২২ সালে পুরোপুরি বদলে যায়। এমনকি জ্বালানী তেল সম্পর্কিত সংকটেও পড়তে হয় কিছু কিছু দেশকে। 


আবার রাশিয়ার জ্বালানি খাতের উপর পশ্চিমাদের কঠোর নিষেধাজ্ঞার কারণে এ বছর বিশ্ববাজারে তেলের দাম এক লাফে ১৪ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়েও পৌঁছে যায়। 


যা পুরো বিশ্বেই তেলের বাজারে অস্থিশিলতা তৈরি করে।


তেল ব্যবহারের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র, ভারত ও চীন বিশ্বে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে।  নিজেদের চাহিদা পূরণের জন্য বরাবরই এসব দেশকে অন্যান্য দেশের উপর নির্ভর করতে হয়।


এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের তথ্য অনুযায়ী এখন পর্যন্ত তেলের মজুদে সবচেয়ে এগিয়ে আছে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ  ভেনেজুয়েলা। 


দেশটিতে সর্বমোট তিনশ তিন দশমিক আট বিলিয়ন ব্যারেল জ্বালানী তেল মজুদ আছে। 


তবে বিশ্বের বৃহত্তম তেলের রিজার্ভ থাকা সত্ত্বেও তেল উৎপাদনকারী দেশের তালিকায় তুলনামূলকভাবে নিচের দিকে রয়েছে এই দেশটি।


২৫৮ দশমিক ৬ বিলিয়ন ব্যারেল তেলের রিজার্ভ  নিয়ে সর্বোচ্চ তেলের মজুদের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে সৌদি আরব। 


বৈশ্বিক তেলের বাজারে প্রভাবশালী এই দেশটি ওপেকের বৃহত্তম তেল উৎপাদনকারী হিসেবে বিবেচিত। 


সৌদি আরবের জাতীয় তেল কোম্পানি ‘সৌদি এরাবিয়ান অয়েল’কে আয়ের দিক থেকে বিশ্বের বৃহত্তম তেলের প্রতিষ্ঠান হিসেবে ধরা হয়। 


তবে বিশ্ব জুড়ে জ্বালানী তেলের দাম বাড়ার সময় দেশটি তেল উৎপাদন কমিয়ে দিয়ে বেশ বিতর্কের মুখেও পড়েছিল।


পশ্চিম এশিয়ার দেশ ইরানে বর্তমানে তেলের রিজার্ভ রয়েছে ২০৮ দশমিক ৬ বিলিয়ন ব্যারেল। তবে তৃতীয় সর্বোচ্চ তেলের মজুদ থাকা এই দেশটিকে নিয়ে বিতর্কও রয়েছে অনেক। 


ইরানের তেলের বাজারের উপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা অনেক বছর থেকেই। 


যার কারণে ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও কেবল কতিপয় দেশই ইরানের থেকে জ্বালানী তেল ক্রয় করতে পারে। 


বিশ্বের জনবহুল দুই দেশ ভারত এবং চীন মূলত ইরানের তেলের প্রধান ক্রেতা। এতো সংকট থাকা সত্ত্বেও চলতি বছর চীন দেশটির থেকে রেকর্ড পরিমাণ তেল কিনেছে।  


উত্তর আমেরিকার দেশ কানাডায় ১৭০ দশমিক ৩ বিলিয়ন ব্যারেল তেল মজুদ রয়েছে। 


এর আগে গত বছর দৈনিক ৫ দশমিক ৫৪ মিলিয়ন ব্যারেল তেল উৎপাদন করে দেশটি বিশ্বের বৃহত্তম তেল উৎপাদনকারীর তালিকায় চতুর্থ অবস্থানে ছিলো। 


মূলত পরিবেশ সচেতনতার দিকে লক্ষ্য রেখে কানাডা দেশের অভ্যন্তরে তেলের ব্যবহার ২ দশমিক ২৬ মিলিয়ন ব্যারেলে কমিয়ে আনে। 


যার কারণে দেশটি অধিক পরিমানে তেল রপ্তানি করতে সক্ষম হয়।


ওপেকের সদস্য মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইরাকে বর্তমানে তেলের রিজার্ভ রয়েছে ১৪৫ বিলিয়ন ব্যারেল। 


সর্বোচ্চ তেল মজুদে শীর্ষ  দেশের তালিকায় পঞ্চমে থাকা এই দেশটির বৈদেশিক আয়ের ৯০ শতাংশই আসে অপরিশোধিত তেল বিক্রির মাধ্যমে। 


ওপেকের দ্বিতীয় বৃহত্তম তেল উৎপাদনকারী এই দেশটি ২০২২ সালের নভেম্বর পর্যন্ত ৪ দশমিক ৪৫ মিলিয়ন ব্যারল তেল উৎপাদন করেছে। 


তবে ধারণা করা হচ্ছে এবছর যুদ্ধ বিধ্বস্ত এই দেশটির তেল উৎপাদন বৃদ্ধি পেলেও আগামী বছর তা হ্রাস পেতে পারে।



 




জনপ্রিয়


আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন

কোরবানি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের উদাহরণ টানলেন হায়দরাবাদের ইসলামিক স্কলার

ভারতের হায়দরাবাদ–এর ইসলামিক স্কলার মাওলানা মোহাম্মদ জাফর পাশা কোরবানির পশু নিয়ে মুসলিমদের হেনস্তার অভিযোগ তুলে পশ্চিমবঙ্গের মুসলিমদের উদাহরণ অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছেন।

আল-আকসা প্রাঙ্গণে পশু জবাইয়ের চেষ্টায় আটক ১৩

পবিত্র আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে ইহুদি ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী পশু জবাইয়ের চেষ্টা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে ১৩ জনকে আটক করেছে ইসরায়েলি পুলিশ। শুক্রবার ইহুদিদের ধর্মীয় উৎসব শাভুত উপলক্ষে এ ঘটনা ঘটে।

এএপিআই হেরিটেজ মাসে নিউ জার্সি সিনেটের সম্মাননা পেলেন বাংলাদেশি-আমেরিকান অধ্যাপক শোয়েব ভূঁইয়া

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে এশিয়ান আমেরিকান অ্যান্ড প্যাসিফিক আইল্যান্ডার (এএপিআই) হেরিটেজ মাস উপলক্ষে বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন বাংলাদেশি-আমেরিকান অধ্যাপক শোয়েব আহমেদ ভূঁইয়া। নিউ জার্সি স্টেট সিনেট ও জেনারেল অ্যাসেম্বলির পক্ষ থেকে তাকে যৌথ আইনসভা প্রস্তাবনার (Joint Legislative Resolution) মাধ্যমে এ সম্মাননা দেওয়া হয়। তিনি প্রথম বাংলাদেশি-আমেরিকান হিসেবে এই মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি অর্জন করলেন।

বিজেপিকে ছাড়িয়ে ভাইরাল “তেলাপোকা পার্টি”

ভারতে হঠাৎ করেই তুমুল আলোচনায় উঠে এসেছে একটি ব্যতিক্রমধর্মী অনলাইন আন্দোলন “ককরোচ জনতা পার্টি” বা সিজেপি। কয়েকদিন আগেও যেটিকে অনেকে নিছক মিম, ট্রল কিংবা ব্যঙ্গাত্মক ক্যাম্পেইন হিসেবে দেখছিলেন, সেটিই এখন দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে অস্বস্তির বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে ফলোয়ার সংখ্যার দিক থেকে এই নতুন আন্দোলন ইতোমধ্যেই ক্ষমতাসীন বিজেপিকেও ছাড়িয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত সিজেপির অনুসারী সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ কোটি ২২ লাখে, যেখানে বিজেপির অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে রয়েছে প্রায় ৮৭ লাখ ফলোয়ার। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে এমন বিস্ফোরক উত্থান ভারতের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।