আন্তর্জাতিক


বরফ বিক্রি করেই যেভাবে পাচ্ছেন লাখ লাখ টাকা


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:০২ জানুয়ারি ২০২৩, ০৬:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার

বরফ বিক্রি করেই যেভাবে পাচ্ছেন লাখ লাখ টাকা

নরওয়েতে চলছে বরফের রমরমা বাণিজ্য। সেখানে প্রায় ৭০ হাজারেরও বেশি টাকায় ভালো এক টুকরো বরফ বিক্রি হচ্ছে। টোমাস উলডেরু নামের একজন ব্যক্তি এই ব্যবসায় একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেছেন। 

নরওয়ে আয়তনে বাংলাদেশের থেকে প্রায় তিনগুণ বড়। এখানকার লেকের পানিগুলো অনেক পরিস্কার এবং এমনিতেই ঠাণ্ডা হয়ে থাকে। 

শীত আসলে লেকের পানি জমে শক্ত বরফের আস্তরণে পরিণত হয়, যার উপর ভারি যানবাহনও চলতে পারে। টোমাস তখন বরফ কাটার জন্য ট্রাক্টর, আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি এবং লোকজন নিয়ে হাজির হন লেকের উপরে। 

বরফ সাধারণত লেক থেকে চারকোণা ব্লক করে কাটা হয়। কাটার সময় এক মুহূর্ত সময়ও অপচয় করা যায় না। বেশি সময় খরচ হলেই একটি বরফের ব্লক অন্য বরফের সাথে লেগে যেতে পারে।

একেকটা ব্লকের ওজন প্রায় এক টন হয়ে থাকে। বরফের ব্লক কাটার পর সেগুলোকে আইস ফার্মে মজুদ করে রাখা হয়। টোমাসের আইস ফার্মে প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ টন বরফ মজুদ রয়েছে।

অর্ডার পাওয়া মাত্রই দেশের যে-কোনো স্থানে বরফ সাপ্লাই করেন তিনি। এমনকি বিদেশেও রপ্তানি করে থাকেন। সিনেমার শুটিংয়ের প্রয়োজনে বিদেশে বরফ পাঠিয়েছেন টোমাস।

এ ধরনের বরফের ব্লকের গায়ে সুচালো যন্ত্রপাতি দিয়ে খোদাই করে ভাস্কর্য তৈরি করা হয়ে থাকে। এছাড়া এগুলো দিয়ে আইস রেস্তোরাঁ এবং দালান বাড়ির মতো অনেক বড় অবকাঠামো তৈরি করা যায়। 

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বরফের তৈরি হোটেলের দেখা পাওয়া যায়। সেগুলোর মধ্যে রোমানিয়া, কানাডার ডি গ্লেস, সুইডেনের জাক্কাসজারভি এবং ফিনল্যান্ডের লাভাততুমা বেশ জনপ্রিয়। 

এসব হোটেলের দেওয়াল, বসার আসন এবং রিসিপশন থেকে শুরু করে সবকিছু বরফের তৈরি হয়ে থাকে। হোটেলের ভিতরে ঠাণ্ডা নিয়ন্ত্রণের জন্য থার্মাল ব্লাঙ্কেট ব্যবহার করা হয়। 

তবে এ ধরনের বরফের হোটেলগুলো দীর্ঘস্থায়ী নয়। গ্রীষ্মকালের সূর্যের তাপে হোটেলগুলোর বরফ গলে পানি হয়ে যায়। তারপর শীত এলেই লক্ষাধিক টাকা খরচ করে আবার দৃষ্টিনন্দন বরফের হোটেল তৈরি করতে হয়। 

রোমানিয়ার হোটেল অফ আইস ২০০৫ সাল থেকে প্রতি বছর তৈরি হয়ে আসছে। মূলত, দর্শনার্থীদের নতুন অভিজ্ঞতা দেওয়ার উদ্দেশ্যে এ ধরনের বরফের হোটেল তৈরি করা হয়ে থাকে। 

বরফ ব্যবসা অবশ্য নতুন কোনো বিষয় নয়। ১৯ শতকে বোস্টনের ব্যবসায়ী ফ্রেডেরিক টিউডর নিউ ইংল্যান্ডের হ্রদ থেকে ভারতীয় উপমহাদেশে বরফ আমদানি করা শুরু করেন।

সে সময় ফ্রিজের ব্যবহার এত ব্যাপকভাবে শুরু হয়নি। তাই, তখনকার দিনে খাবার ও পচনশীল দ্রব্য সংরক্ষণের জন্য বরফের খুবই চাহিদা ছিল। কিন্তু এই চাহিদা পূরণ করা সম্ভব ছিল না সে সময়। 

সুযোগটি তখন লুফে নেন ফ্রেডেরিক টিউডর। তিনি জাহাজে করে উত্তর-পূর্ব আমেরিকার নিউ ইংল্যান্ড থেকে কোলকাতায় বরফ আমদানি শুরু করেন। 

আমদানি করা বরফ মজুদ করে রাখার জন্য দক্ষিণ মুম্বাইয়ে ১৬ ফুট উঁচু গোলাকার একটি ভবন ছিল টিউডরের। সেখানে প্রায় ১৫০ টন বরফ মজুদ করে রাখা যেতো।

বরফের ব্যবসা করে তিনি রীতিমতো ধনকুবেরে পরিণত হয়ে যান। ব্যবসায় চূড়ান্ত সফলতার কারণে, তাকে বরফ রাজা বলে অভিহিত করা হয়।






জনপ্রিয়


আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন

খামেনি ও তার ছেলেকে হত্যার পরিকল্পনা

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘিরে নতুন করে যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে একটি নতুন চুক্তিতে রাজি হওয়ার আহ্বান জানিয়ে সতর্ক করেছেন শর্ত না মানলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। চুক্তিতে সম্মত হওয়ার জন্য ইরানকে ১০ দিনের সময়সীমা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

গাজার পুনর্গঠনে ৭০০ কোটি ডলার: ‘শান্তি পর্ষদ’ বৈঠকে ট্রাম্পের ঘোষণা

ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত তথাকথিত ‘শান্তি পর্ষদ’–এর প্রথম বৈঠকে ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজা উপত্যকার পুনর্গঠনের জন্য ৭০০ কোটি ডলারের তহবিল প্রতিশ্রুতির কথা জানান। তাঁর দাবি, ৯টি সদস্যরাষ্ট্র প্রাথমিকভাবে এ তহবিলে অর্থ দিতে সম্মত হয়েছে। একই সঙ্গে গাজায় একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েনে পাঁচটি দেশ নীতিগত সম্মতি দিয়েছে।

‘হাড় না ভাঙা’ পর্যন্ত স্ত্রীকে মারার অনুমোদন- আফগানিস্তানে নতুন আইন ঘিরে বিতর্ক

নারীদের বিরুদ্ধে নতুন কড়া আইন জারির অভিযোগ উঠেছে আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের বিরুদ্ধে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেন্ডেন্ট-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির নতুন ফৌজদারি আইনে স্বামীদের স্ত্রী ও সন্তানদের শারীরিকভাবে শাস্তি দেওয়ার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যা পারিবারিক সহিংসতাকে কার্যত বৈধতা দিচ্ছে বলে সমালোচকরা দাবি করছেন।

ভোটে হেরে বাড়ি বাড়ি ঘুরে টাকা ফেরত চাইছেন প্রার্থীর স্ত্রী

ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যে পৌর নির্বাচনে পরাজয়ের পর এক প্রার্থীর পরিবারের কর্মকাণ্ড ঘিরে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, এক প্রার্থীর স্ত্রী বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের কাছ থেকে টাকা ফেরত চাইছেন বলে অভিযোগ