গত কয়েক দশকে ড্রোন শিল্পে ব্যাপক উন্নতি সাধন করেছে ইরান।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া এবং পশ্চিমা দেশ গুলোর সাথে পাল্লা দিয়ে নিজেদের ড্রোন সক্ষমতা বাড়িয়ে চলছে দেশটি।
মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ইরান নিজেদের সামরিক সক্ষমতা পূর্বের তুলনায় কয়েক গুন বাড়িয়েছে, যা সত্যিই প্রশংসার যোগ্য।
ফলে অনেকটাই দুশ্চিন্তায় পড়েছে বিশ্ব মোড়ল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের মিত্র দেশ গুলো।
কারণ বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্যে অনেকটাই ভাটা ফেলতে শুরু করেছে ইরান।
এক সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তৈরী গুটি কয়েক ড্রোন দ্বারা নিজেদের সামরিক কার্য চালাতো তেহরান।
আশির দশক থেকে তারা নিজেদের প্রযুক্তিতে ড্রোন তৈরী করা শুরু করে।
শুরুতে ইরানি ড্রোন গুলোর ফুয়েল ট্যাংক আকারে অনেকটাই ছোট হতো। যার ফলে তখনকার ড্রোন গুলো বেশি দূর পর্যন্ত উড়তে পারতো না।
কিন্তু, বর্তমানে সময়ে এই প্রতিবন্ধকতা পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পেরেছে দেশটি।
তেহরান এখন দূর পাল্লার শক্তিশালী মানব বিহীন উড়োজাহাজ তৈরী করতে সক্ষম। যেগুলো প্রতিপক্ষের কাছে এক আতঙ্কের নাম হয়ে দাড়িয়েছে।
১৯৮৫ সালে ইরান কুদস মহাজের- এক নামের একটি ড্রোন নির্মাণ করে। এর পরের বছর আবাবিল-এক নামের আরো একটি ড্রোন তৈরী করে ইরান।
ইরান এয়ারক্রাফট ম্যানুফেকচারিং প্রতিষ্ঠান এই ড্রোনটি তৈরী করেছিল।
এরপর স্বল্প সময়ের মাঝে দেশটি নিজেদের বিমান বহরে যুক্ত করে শত শত শক্তিশালী ড্রোন।
তৎকালীন ড্রোন গুলোর মধ্যে আবাবিল-এক মডেলটি ছিল বেশ শক্তিশালী। এই শ্রেণীর ড্রোন গুলো বিস্ফোরক নিয়ে উড়তে সক্ষম ছিল।
ড্রোনটিকে এমন ভাবে তৈরী করা হয়েছিল, যাতে যে কোনো পরিস্থিতিতে এটি ক্রুজ মিসাইল সিস্টেমের মতো কাজ করতে পারে।
এছাড়া সর্বশেষ আবাবিল-থ্রি নামের আরো একটি ভার্সন নিজেদের বিমান বহরে যোগ করে তেহরান।
এই মডেলের ড্রোন গুলো তার পূর্বের সংস্করণ থেকে কয়েক গুন বেশি শক্তিশালী। আবাবিল- থ্রি নিজের সাথে গাইডেড বোমা বহন করতে পারে।
গাইডেড বোম হচ্ছে রিমোট চালিত বিস্ফোরক। যা দিয়ে দূরের লক্ষ্য বস্তুতে খুব সহজেই আঘাত হানা যায়।
তাই বলা চলে, যুদ্ধের মোড় সহজেই ঘুরিয়ে দিতে পারে আবাবিল- থ্রি।
ইরানের আরেকটি শক্তিশালী মনুষ্যবিহীন আকাশযান হচ্ছে মহাজের-সিক্স। ড্রোনটি প্রতি ঘন্টায় সর্বোচ্চ দুইশো কিলোমিটার গতিতে টানা বারো ঘন্টা ধরে উড়তে সক্ষম।
ইরানের কামিকাজি ড্রোন পশ্চিমাদের আরো একটি মাথা ব্যাথার কারণ।
আকারে ছোট এবং নিচ দিয়ে উড়ে যাওয়ার কারণে এই সিরিজের মনুষ্যবিহীন আকাশযান গুলো প্রতিপক্ষের রাডারে ধরা পড়ে না।
২০১৯ সালে দেশটির চল্লিশ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে কামান- টুয়েলভ নামের আরো একটি ড্রোন উন্মোচন করে ইরান। এটিও বেশ শক্তিশালী।
এছাড়াও, তাদের কাছে ছোট, বড়, হালকা, ভারি, দূর পাল্লা, স্বল্প পাল্লা- সকল প্রকারের ড্রোন রয়েছে।
যে গুলো দ্বারা দেশটি নানা রকম সামরিক কার্য সম্পন্ন করে থাকে। যেমন নিজ সীমান্তে নজর রাখা, শত্রু দেশ গুলোর উপর গোয়েন্দা তৎপরতা চালানো ইত্যাদি।
বর্তমানে বিশ্ব জুড়ে ইরানি ড্রোন গুলোর চাহিদা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে ড্রোন রপ্তানিতে ইরান শক্তিশালী দেশ গুলোর একটি।
পূর্বে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ গুলোই মূলত ইরানের কাছ থেকে ড্রোন কিনে থাকতো। কিন্তু বর্তমানে ইরানি ড্রোনের চাহিদা বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে।
এর ফলে দেশটির অর্থনীতিকে আরো ফুলে ফেঁপে উঠতে সাহায্য করবে তাদের ড্রোন শিল্প।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, ড্রোন রপ্তানির পাশাপাশি ইরান নিজেদের সামরিক শক্তির প্রভাবও বিশ্ব জুড়ে ছড়িয়ে দিতে পারছে।