আন্তর্জাতিক


চীনকে রুখতে একত্রিত হচ্ছে জাপান-যুক্তরাষ্ট্র


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:১৬ জানুয়ারি ২০২৩, ১১:১৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার

চীনকে রুখতে একত্রিত হচ্ছে জাপান-যুক্তরাষ্ট্র

চীনকে রুখতে এবার একসাথে হাত মিলালো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং জাপান।

সম্প্রতি হোয়াইট হাউজ বৈঠকে জাপানের প্রধানমন্ত্রী  এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট  চীনের বিরুদ্ধে হাতে হাত রেখে মোকাবেলা করার প্রতিশ্রুতি বদ্ধ হোন।

বেইজিং এর বিরুদ্ধে নেয়া এই সিদ্ধান্তে পশ্চিমা মিত্রদেরও পাশে থাকার আহ্ববান জানান জাপানি প্রধানমন্ত্রী কিশিদা।

চলমান চীন-তাইওয়ান উত্তেজনার মাঝে কিশিদা- বাইডেনের এরূপ মন্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছন শি জিং পিং।

চীনা প্রেসিডেন্ট হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, তার দেশের অভ্যন্তরীন বিষয়ে নাক গলানো কোনো ভাবেই মেনে নিবেন না তিনি।

কিছু দিন পূর্বে জাপান সফরে যান মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। সেই সময় গণমাধ্যম গুলো জাপান সফরকে ঘিরে নানা ধরনের ইতিবাচক এবং নেতিবাচক সংবাদ প্রকাশ করে। 

তবে সাম্প্রতিক সময়ে হোয়াইট হাউজ সফরকে ঘিরে তৈরী হয়েছে নানা রকমের আলোচনা - সমালোচনা।

কারণ জাপান- যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নের আলোচনার চেয়ে- তাইওয়ান ইস্যুতে বেশি জোর দেন উভয় রাষ্ট্র প্রধান।

বৈঠকে কিশিদা জানান, তাইওয়ানে চীনের সামরিক তৎপরতা এবং আক্রমণাত্মক আচরণ বরাবরের মতোই তার নিকট অশোভন এবং ঘৃণিত।

পাশাপাশি তিনি মনে করেন, টোকিও এবং ওয়াশিংটনের জন্য বেইজিং বরাবরই হুমকি সরূপ।

চীন সর্বদা আমেরিকা এবং জাপানের জন্য বড় চ্যালেঞ্জিং একটি বিষয়। তাই চীনকে রুখতে ওয়াশিংটনের সহায়তা চান কিশিদা। 

পাশাপাশি টোকিও এবং ওয়াশিংটনের মধ্যকার কৌশলগত এবং সামরিক সাহায্য সহযোগীতা অব্যাহত রাখার আশাও ব্যক্ত করেন তিনি।

সেই সাথে পশ্চিমা মিত্রদের চীনের অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে উৎসাহিত করেন জাপানিজ রাষ্ট্র প্রধান।

বিশ্ব শান্তি বিনষ্ট করতে চীনকে কোনো ভাবেই অনুমোদন দিবেন না বলেও জানান তিনি।

দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে কিশিদার মতামতকে পূর্ণ সমর্থন জানান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, এবং সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দেয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।

প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা জোরদার করতে সম্মিলিত ভাবে কাজ করার অশ্বাস দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। 

কিশিদাকে তিনি আশ্বস্ত করেন, ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং অর্থনীতিতে সর্বদা জাপানের পাশে থাকবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। 

কারণ বাইডেন মনে করেন, বন্ধুত্বের ক্ষেত্রে আমেরিকা সবসময়ই প্রতিশ্রুতি বদ্ধ। 

অন্যদিকে জাপান এবং মার্কিন রাষ্ট্রপ্রধানদের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের কঠোর সমালোচনা করে বেইজিং।

চীনের অভ্যন্তরীন ইস্যুতে কোনো রাষ্ট্র নাক গলাতে আসলে দাঁত ভাঙা জবাব দেবে চীন, এমনটাই  জানায় শি জিং পিং প্রশাসন।

এরূপ কার্যকলাপের দ্বারা দেশ গুলোর মাঝে স্নায়ু যুদ্ধ তৈরী করার মনমানসিকতা ত্যাগ করার আহবানও জানায় বেইজিং।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, জাপানের উচিত তাইওয়ানের পক্ষপাতীত্ব না করা। কারণ এতে চীনের সাথে পরস্পরের শত্রুতা বৃদ্ধি পাবে। 

তিনি আরো বলেন, ওয়াশিংটন এবং টোকিও সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করার ছুতো খুজছে।

দেশ দুইটি আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার নামে অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে চাচ্ছে। যার কারণে আঞ্চলিক শান্তি এবং শৃঙখলা বিনষ্ট হবে।

এদিকে হোয়াইট হাউজে দুই রাষ্ট্র প্রধানের বৈঠকে উঠে আসে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ প্রসঙ্গ।

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে জবাবদিহিতার আওতাভুক্ত করার লক্ষ্যে যৌথ পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেন বাইডেন এবং কিশিদা।

এছাড়া, উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির বিষয়েও বৈঠকটিতে আলোচনা করা হয়।






জনপ্রিয়


আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন

৪০ দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ- কোন দেশে কত নিহত, বাংলাদেশির সংখ্যা কত?

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর পাল্টা জবাব দিয়েছে ইরান। শুধু ইসরায়েল নয়, ইরানের পক্ষ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায়ও হামলা চালানো হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক বিজয় হয়েছে: ডোনাল্ড ট্রাম্প

ইরান-এর সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ‘সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক বিজয়’ অর্জন করেছে।

যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে ‘ইরানের বিজয়’

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের উত্থাপিত ১০ দফা দাবি মেনে নিয়েছেন বলে দাবি করেছে তেহরান। এর পরিপ্রেক্ষিতে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে নিজেদের কূটনৈতিক বিজয় হিসেবে দেখছে ইরান।

যুক্তরাষ্ট্র ‘রেড লাইন’ পার হলে সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ছড়িয়ে পড়বে: ইরান

যুক্তরাষ্ট্র যদি তেহরানের নির্ধারিত ‘রেড লাইন’ অতিক্রম করে, তাহলে চলমান সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ছড়িয়ে পড়তে পারে- এমন কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।