আন্তর্জাতিক


নেপালে ৭২ জন যাত্রী নিয়ে মর্মান্তিকভাবে বিধ্বস্ত হলো বিমান


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:১৬ জানুয়ারি ২০২৩, ১২:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার

নেপালে ৭২ জন যাত্রী নিয়ে মর্মান্তিকভাবে বিধ্বস্ত হলো বিমান

রবিবার সকালে নেপালের পোখারার কাসকি জেলায় ঘটে গেছে এক ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনা। বিমানটিতে ৬৮ জন যাত্রী এবং চার জন কেবিন ক্রু সহ, মোট ৭২ জন আরোহী ছিলেন। 

এদিন দেশটির বেসরকারি বিমান চলাচলকারী সংস্থা, ইয়েতি এয়ারলাইন্সের একটি বিমান রাজধানী কাঠমান্ডু থেকে উড্ডয়ন করে। 

সেখান থেকে ১২৯ কিলোমিটার পশ্চিমে, পোখারা বিমানবন্দরে অবতরণ করার কথা ছিল। এটি ছিল দুই ইঞ্জিন বিশিষ্ট এটিআর ৭২ মডেলের একটি বিমান। 

কিন্তু পথিমধ্যে সকাল ১১ টার দিকে, পোখারার কাসকি অঞ্চলের সেতি নদীর দুর্গম গিরিখাতে, উড়োজাহাজটি বিকট আওয়াজে আছড়ে পড়ে। এই দুর্ঘটনার জন্য যান্ত্রিক ত্রুটিকেই দায়ী করেছে, দেশটির বেসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রণালয়। 

এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল জানিয়েছে, তারা পাইলটকে পোখরা বিমানবন্দরের পূর্বদিকে অবতরণ করার অনুমতি দিয়েছিল। কিন্তু পরে পাইলট ATC-র কাছে পশ্চিম দিকে অবতরণের অনুমতি চান। 

পাইলটকে তখন তার কথা অনুযায়ী, পূর্ব দিকের পরিবর্তে পশ্চিমদিকে অবতরণের অনুমতি দেওয়া হয়। কিন্তু রানওয়ে স্পর্শ করার ১০ সেকেন্ড আগেই বিমানটি বিধ্বস্ত হয়ে যায়।

সাথে সাথে উদ্ধারকর্মীরা চলে আসেন বিধ্বস্ত হওয়া বিমানের কাছে। এমনকি শতাধিক নেপালি সেনাবাহিনীও উদ্ধার কাজে যোগ দেন। 

এরপরই বিধ্বস্ত হওয়ার কিছু ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, সেটিতে দাউদাউ করে আগুন জ্বলছে। সেই সাথে ধোঁয়ার কুণ্ডলীতে ঢেকে গেছে চারদিক।

ধারণা করা হচ্ছে, আরোহী ৭২ জনের কেউই বেঁচে নেই। যাত্রীদের মধ্যে ১৫ জন ছিলেন বিদেশী পর্যটক। তাদের মধ্যে পাঁচজন ছিলেন ভারতীয় নাগরিক।

এছাড়া, চারজন রাশিয়ান, দুই জন কোরিয়ান এবং অস্ট্রেলিয়ান। আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স ও আয়ারল্যান্ডের একজন করে যাত্রী ছিলেন। বাংলাদেশী কোনো নাগরিক বিমানে ছিলেন না বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। 

ভয়াবহ এই বিমান দুর্ঘটনার কারণে, সোমবার ১ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে দেশটির সরকার। 

এর আগেও নেপালে কয়েকবার ভয়াবহ বিমান বিধ্বস্তের ঘটনা ঘটেছে। গত বছরের ২৯ শে মে পোখারা বিমানবন্দর থেকে জোমসম যাওয়ার পথে, Twin Otter 9N-ATE মডেলের একটি বিমান বিধ্বস্ত হয়েছিল।

বিমানটিতে ক্রু সহ মোট ২২ জন আরোহী ছিলেন, তাদের সকলেই এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান। এর আগে ২০১৮ সালেও, বাংলাদেশের ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের বিমান বিধ্বস্ত হয়েছিল নেপালে।

Bombardier Q400 মডেলের সেই বিমানে মোট যাত্রী ছিল ৭১ জন। তাদের মধ্যে মাত্র ২০জন প্রাণে বাঁচতে পেরেছিলেন। বাকি ৫১ জন সেই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান।

সব মিলিয়ে গত ত্রিশ বছরের মধ্যে বিধ্বস্তের ঘটনা ঘটেছে মোট ২৭টি। এসব দুর্ঘটনায় পাইলট ও কেবিন ক্রু সহ, চারশোর বেশি আরোহী প্রাণ হারিয়েছে। 

অন্যান্য দেশে এত বেশি বিমান দুর্ঘটনা সচরাচর দেখা যায় না। তাই এগুলো নেপালের এভিয়েশন ইতিহাসে কালো অধ্যায় তৈরি করেছে।

পার্বত্য অঞ্চল, বৈরি আবহাওয়া এবং অদক্ষ বিমান পরিচালনাই হলো নেপালের এসব বিমান দুর্ঘটনার প্রধান কারণ। 

উঁচুনিচু পাহাড়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, দেশটিকে পর্বতারোহীদের কাছে জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত করেছে। পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু ১৪টি পাহাড়ের মধ্যে, এভারেস্টসহ আটটিই নেপালে অবস্থিত। 

কিন্তু এই পাহাড়ি ভূখণ্ডে, বিশেষ করে প্রতিকূল আবহাওয়ার সময় পথ ঠিক রেখে বিমান চালানো কঠিন হয়ে পড়ে।

নেপালে সবচেয়ে মারাত্মক দুর্ঘটনাগুলো ঘটে থাকে, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১ হাজার ৩৩৮ মিটার ওপরে অবস্থিত কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। 

বাংলাদেশের ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের বিমানও এখানে বিধ্বস্ত হয়েছিল।

চারপাশে উঁচু ও দীর্ঘ পর্বতবেষ্টিত বিমানবন্দরটি এমন এক উপত্যকায় অবস্থিত, যেখানে বিমানগুলোর যাতায়াতের জন্য জায়গা খুব কম। 

অধিকাংশ পাইলটের দাবি, হিমালয়ের উঁচু, খাড়া এবং সরু ল্যান্ডিং স্ট্রিপগুলো নেভিগেট করা প্রায় দুঃসাধ্য।

তাছাড়া, নেপালের বিমান শিল্পের নিরাপত্তার মান মোটেও সন্তোষজনক নয়। যার কারণ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন তাদের আকাশ-সীমায়, সকল নেপালি এয়ারলাইন্সের বিমান চলাচল নিষিদ্ধ করেছে।



জনপ্রিয়


আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন

৪০ দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ- কোন দেশে কত নিহত, বাংলাদেশির সংখ্যা কত?

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর পাল্টা জবাব দিয়েছে ইরান। শুধু ইসরায়েল নয়, ইরানের পক্ষ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায়ও হামলা চালানো হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক বিজয় হয়েছে: ডোনাল্ড ট্রাম্প

ইরান-এর সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ‘সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক বিজয়’ অর্জন করেছে।

যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে ‘ইরানের বিজয়’

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের উত্থাপিত ১০ দফা দাবি মেনে নিয়েছেন বলে দাবি করেছে তেহরান। এর পরিপ্রেক্ষিতে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে নিজেদের কূটনৈতিক বিজয় হিসেবে দেখছে ইরান।

যুক্তরাষ্ট্র ‘রেড লাইন’ পার হলে সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ছড়িয়ে পড়বে: ইরান

যুক্তরাষ্ট্র যদি তেহরানের নির্ধারিত ‘রেড লাইন’ অতিক্রম করে, তাহলে চলমান সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ছড়িয়ে পড়তে পারে- এমন কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।