আন্তর্জাতিক


রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধে নাটকীয় মোড়!


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:১৮ জানুয়ারি ২০২৩, ১০:২৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার

রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধে নাটকীয় মোড়!

আবারো নতুন মোড় নিয়েছে ইউক্রেন রাশিয়া যুদ্ধ। প্রেসিডেন্ট পুতিন তার বিশস্ত সেনাপ্রধান জেনারেল গেরাসিমভের হাতে যুদ্ধের কমান্ড তুলে দিয়েছেন। 

রাশিয়া যখন ইউক্রেনে আক্রমণের তীব্রতা বাড়িয়ে চলছে, ঠিক তখনই  হঠাৎ করে এই সিদ্ধান্ত আসলো। 

এর আগে অক্টোবর মাসে জেনারেল সের্গেই সুরভিকিনকে ইউক্রেন অভিযানের দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু মাত্র তিন মাসের মাথায় সেই কমান্ডে রদবদল এনে দিলেন পুতিন। 

সোলেদার শহর জয়ের সাথেই দায়িত্ব দিলেন রুশ বাহিনীর চিফ অফ স্টাফ- জেনারেল গ্যারাসিমভকে। সুরভিকিন এখন জেনারেল গ্যারাসিমভের ডেপুটির ভূমিকা পালন করবেন। এটাকে ইউক্রেন রাশিয়া যুদ্ধের সবচেয়ে নাটকীয় পরিবর্তন বলা হচ্ছে।

এর আগে যুদ্ধের নেতৃত্ব দেওয়া জেনারেল সুরভিকিনও ছিলেন রাশিয়ার এক জানু কমান্ডার। বিভিন্ন যুদ্ধের অভিজ্ঞতা এবং নির্মম যুদ্ধ কৌশলের জন্য তিনি বেশ পরিচিত।

যুদ্ধের প্রথম দিকে রাশিয়ার হামলা অনেকটা বিচ্ছিন্নভাবে করা হয়। ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের  দখল নিতে চাইলেও ব্যর্থ হয় রুশ বাহিনি। এরপর রুশ কমান্ডার সুরভিকিনকে যুদ্ধ পরিচালনার জন্য নিযুক্ত করা হয়।

জেনারেল সুরভিকিন একই সাথে দক্ষ ও নির্দয় সেনানায়ক। মধ্যপ্রাচ্যে তিনি সেই নির্মমতার ছাপ রেখে গেছেন। যুদ্ধ জেতার জন্য সুরভিকিন সিভিলিয়ান ক্ষয়ক্ষতির  তোয়াক্কা করেননি।

জেনারেল আর্মাগেটন উপাধি পাওয়া সুরভিকিন ২০১৭ সালে হিরো অফ রাশিয়া পদকে ভূষিত হন। যদিও পশ্চিমাসহ বাকি বিশ্বের কাছে তিনি কসাই বলে পরিচিত।

তিনি ইউক্রেনে সামরিক অভিযানের সর্বাধিনায়ক নিযুক্ত হওয়ার পরই যুদ্ধের গতি কিছুটা বদলে যায়। তিনি প্রচন্ড হামলা শুরু করেন ইউক্রেনের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর উপর।

এতে বিমান বাহিনী ও রাশিয়ান মিসাইলগুলোকেও ব্যাপক ব্যবহার করেন তিনি। 

এছাড়া পরিস্থিতি বুঝে নিজ সেনাদের খেরসন থেকে সরিয়ে আনেন। তা নাহলে ইউক্রেনীয় সেনাদের ফাঁদে আটকা পড়ার সম্ভাবনা ছিল। তার নেতৃত্বেই সোলেদার শহর জয় পায় রাশিয়া।

এতকিছুর পরও পুতিন জেনারেল সুরভিকিনকে কেন সরিয়ে অন্য একজনকে দিলেন,  সেটা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। অনেকের মতে পুতিন সুরভিকিনকে দিয়ে যতটা আশা করেছিলেন, ততটা ফল পাননি।

কেউ কেউ বলছেন,  সেনানায়ক জেনারেল গ্যারাসিমভকে নিয়োগ দেওয়ার মধ্য দিয়ে পুতিন একটা বার্তা দিতে চাচ্ছেন। আর সেটা হচ্ছে যুদ্ধ আরো সর্বনাশী হতে যাচ্ছে।

২০১২ সালে জেনারেল গেরাসিমভ রাশিয়ার চিফ অফ জেনারেল স্টাফের পদ পান। সোভিয়েত ইউনিয়ন ভাঙ্গনের পর রাশিয়ায় তিনিই সবচেয়ে বেশি সময় ধরে এই পদে রয়েছেন বলে জানা যায়।

শুধু তাই নয়, পুতিনের বিশ্বস্ত এই জেনারেল রাশিয়ার উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবেও আছেন। তাই ধারণা করা যায়, নতুন এই নেতৃত্ব যুদ্ধকে আরো ভয়াবহ ও মরণঘাতী করতে পারে।

তবে ইউক্রেনীয়রাও নিশ্চয়ই বসে থাকবে না। বরং শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবে, তা তাদের মনোবল দেখেই বোঝা যায়।

এর আগে রুশ বাহিনীর হাত থেকে ইউক্রেনীয়রা নিজেদের রাজধানী কিয়েভকে রক্ষা করে। খারকিভ ও খেরসনসহ বহু অঞ্চল থেকে রুশ বাহিনীকে পিছু হটায়। 

এদিকে আমেরিকা ও ইউরোপীয় দেশগুলো যুদ্ধে ইউক্রেনকে সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছে। এসব ঘটনা থেকে এটা স্পষ্ট যে,  সংঘাত নতুন মোড় নিতে যাচ্ছে হয়তো। 





জনপ্রিয়


আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন

৪০ দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ- কোন দেশে কত নিহত, বাংলাদেশির সংখ্যা কত?

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর পাল্টা জবাব দিয়েছে ইরান। শুধু ইসরায়েল নয়, ইরানের পক্ষ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায়ও হামলা চালানো হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক বিজয় হয়েছে: ডোনাল্ড ট্রাম্প

ইরান-এর সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ‘সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক বিজয়’ অর্জন করেছে।

যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে ‘ইরানের বিজয়’

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের উত্থাপিত ১০ দফা দাবি মেনে নিয়েছেন বলে দাবি করেছে তেহরান। এর পরিপ্রেক্ষিতে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে নিজেদের কূটনৈতিক বিজয় হিসেবে দেখছে ইরান।

যুক্তরাষ্ট্র ‘রেড লাইন’ পার হলে সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ছড়িয়ে পড়বে: ইরান

যুক্তরাষ্ট্র যদি তেহরানের নির্ধারিত ‘রেড লাইন’ অতিক্রম করে, তাহলে চলমান সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ছড়িয়ে পড়তে পারে- এমন কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।