অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে নির্মিত এই ট্যাংক এতটাই টেকসই এবং শক্তিশালী যে, সরাসরি আক্রমণেও এটি নিরাপদ থাকতে সক্ষম।
চ্যালেঞ্জার টু মডেলের ট্যাংক গুলো অন্যান্য ট্যাংক থেকে বেশ খানিকটা আলাদা। এটি মূলত প্রতিপক্ষের ট্যাংককে আক্রমণ করার উদ্দেশ্যে নকশা করা হয়েছে।
দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ব্রিটিশ সৈন্যরা চ্যালেঞ্জার টু ব্যাবহার করে আসছে। ট্যাংকটির ওজন প্রায় চৌষট্টি টনের কাছাকাছি। যেটি কিনা রুশ ট্যাংকের থেকেও ভারি।
শক্তিশালী এই সামরিক যানটি পরিচালনার জন্য চার সদস্য বিশিষ্ট একটি দলের প্রয়োজন হয়। দলটি একজন কমান্ডার, একজন গানার, একজন লোডার এবং একজন ড্রাইভার নিয়ে গঠিত হয়।
এটির উপরে একশো বিশ মিলিমিটার রাইফেল ট্যাংক গান, সাত দশমিক ৬২ মিলিমিটার জেনারেল পারপাস মেশিন গান- সহ আরো বেশি কিছু অস্ত্র যুক্ত থাকে।
লন্ডনের দাবি, চ্যালেঞ্জার টু ট্যাংক দ্বারা রুশ বাহিনীকে অনেকটাই পিছু হটানো সম্ভব।
যদিও এটি প্রায় দুই দশক আগের মডেল। তবুও ব্রিটেনের মতে এটিই হবে এখন পর্যন্ত ইউক্রেনের জন্য সবচেয়ে আধুনিক যুদ্ধ যান।
সম্প্রতি সামরিক সরঞ্জাম প্রেরণের ক্ষেত্রে সুনাকের সাথে জেলেনস্কির দীর্ঘক্ষণ ফোনালাপও হয়। ফোনালাপের পর যুক্তরাজ্যের গণমাধ্যম গুলোতে ট্যাংক পাঠানোর খবরটি ছড়িয়ে পরে।
দেশটির প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক; জেলেনস্কির ডাকে সাড়া দিয়ে 'চৌদ্দটি চ্যালেঞ্জার টু ট্যাংক' সহ- আরো বেশ কিছু সামরিক সরঞ্জাম প্রদানের ঘোষণাও দেন।
তিনি জানান, আগামি কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ত্রিশটি স্বয়ংক্রিয় এএস- নাইনটি বন্দুক সহ চৌদ্দটি চ্যালেঞ্জার টু ট্যাংকের একটি চালান ইউক্রেনের উদ্দেশ্যে রওনা হবে।
শুধু তাই নয়, ইউক্রেনীয় সেনারা কিভাবে যুদ্ধ সরঞ্জাম গুলো নিয়ন্ত্রণ করবে, সেটিরও ট্রেনিং দিবে ব্রিটিশ সেনারা।
সুনাক মনে করেন, কিয়েভকে এই ট্যাংক প্রদান করলে বাকি দেশ গুলোও এতে উৎসাহিত হবে এবং ইউক্রেনের পাশে এসে দাঁড়াবে।
ফলে রাশিয়াকে দাত ভাঙা জবাব দিতে পারবে ইউক্রেন।
বিশেষজ্ঞরাও মনে করেন, ব্রিটেনের চ্যালেঞ্জার টু ট্যাংক দ্বারা যে কোনো মূহূর্তে যুদ্ধের মোড় ঘুড়িয়ে দেয়া সম্ভব।
ইংলিশদের চ্যালেঞ্জার টু দ্বারা ইউক্রেনীয় সেনারা আরো নিখুঁত ভাবে রুশ ঘাটি গুলোতে আক্রমণ চালাতে পারবে।
মস্কোর বিরুদ্ধে গিয়ে লন্ডনের এমন সিদ্ধান্তকে মোটেও ভালো চোখে দেখছেন না পুতিন।
মস্কোর দাবি, কিয়েভকে অস্ত্র সরবারহের মাধ্যমে লন্ডনের রুশ বিরোধিতা মূলক আচরণের বহিঃপ্রকাশ ঘটছে।
লন্ডনে অবস্থিত রাশিয়ার দূতাবাস- সুনাক প্রশাসনের এরূপ সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানায়।
রুশ এম্বাসেডর বলেন, কিয়েভকে চ্যালেঞ্জার টু ট্যাংক প্রদানের মাধ্যমে, যুদ্ধে নিজেদের আরও জড়িয়ে নিয়েছে লন্ডন। যেটি মোটেও ভালো ব্যাপার নয়।
কারণ এতে যুদ্ধের পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হবে। ফলে যুদ্ধে অনেক মানুষ প্রাণ হারাবে।
তবে রুশ পত্রিকা গুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ট্যাংক দিয়ে খুব একটা সুবিধা করতে পারবে না কিয়েভ।
এটি দ্বারা তারা সফল ভাবে রুশ ঘাটিতে হামলা চালাতে তো পারবেই না, বরং রুশ আর্টিলারির টার্গেটে পরিণত হতে হবে চ্যালেঞ্জার- টু কে।
পুতিন প্রশাসনের দৃঢ় বিশ্বাস, পোল্যান্ড এবং যুক্তরাজ্যের দেয়া অস্ত্র দিয়ে কখনোই জয়ী হতে পারবে না কিয়েভ।
তবে, এতে যুদ্ধের মেয়াদ আরো দীর্ঘায়িত হবে। যা ইউক্রেনের জন্য বহুমাত্রিক সমস্যার সৃষ্টি করবে।