বিশ্ব বাজারে তিন চাকার বাইক লঞ্চ করেছে হার্লে ডেভিডসন। নতুন বছর একের পর এক বাইক লঞ্চ করেছে বিশ্বের বড় যান প্রস্তুতকারক সংস্থাটি।
হার্লে ডেভিডসন বাইক কেনার স্বপ্ন থাকে অনেকেরই। তবে তিন চাকার নতুন মডেলের বাইকটি ক্রেতাদের মধ্যে হইচই ফেলে দিয়েছে।
ফ্রিহুইলার ট্রাইক নামের এই বাইকটির বাজার মূল্য ২৯ হাজার ৯৯৯ মার্কিন ডলার। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩১ লাখ ৬৯ হাজার টাকা।
এটি আন্তর্জাতিক বাজারে এসেছে এবারই প্রথম নয়। বেশ অনেক দিন আগে থেকেই এর কেনাবেচা শুরু হয়। ক্রেতাদের মধ্যেও পরিচিতি পায়।
তবে এটি আবারও আলোচনায় এসেছে কালো আপডেটেড ভার্সনের জন্য।
বাইকটির সামনের প্রান্তে head lamp নেসেল, tank console, power train এবং exost কালো করা হয়েছে। দেখতে বেশ আকর্ষণীয় এই যান।
বাইকটিতে দেওয়া হয়েছে তিনটি চাকা। এর মধ্যে সামনে একটি এবং পেছনে রয়েছে দুটি চাকা। পেছনের দুটি চাকা ১৮ ইঞ্চি করে এবং সামনে ১৫ ইঞ্চি চাকা ব্যবহার করা হয়েছে।
বাইকে বসতে পারবেন দুজন আরোহী। এর আসনের উচ্চতা short rider দের কথা মাথায় রেখে তৈরি করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, আরামদায়ক যাত্রার জন্য floor board এবং সোজা রাইডিং পজিশন পাওয়া যাবে নতুন বাইকে।
এছাড়া ৬.৫ ইঞ্চি touch screen রয়েছে এই বাইকে। যেটি স্মার্টফোনের সাথে যুক্ত হলে GPS, AM/FM এবং আবহাওয়া রেডিও ব্যান্ড, সঙ্গীত এবং টেলিফোন ইন্টিগ্রেশনের সুবিধা দিবে। আইফোন ব্যবহারকারীদের জন্যও রয়েছে বিশেষ সুবিধা।
যাত্রীর জিনিসপত্র রাখার জন্য বাইকের পেছনে আছে একটি trunk এর ব্যবস্থা। যার ক্ষমতা ৫৫ লিটার।
তাছাড়াও এতে সহজে রিভার্স করার জন্য রয়েছে একটি রিভার্স গিয়ার। গিয়ার box টি ৬-স্পিড ইউনিটে দেয়া হয়েছে।
দুর্দান্ত গতির বাইকটিকে সম্পূর্ণ LED head lamp দেয়ায় আরও প্রিমিয়াম লাগছে দেখতে।
ইলেকট্রনিক link যুক্ত ব্রেকিং, enhanced anti lock ব্রেকিং সিস্টেম, enhanced traction control system এবং drag tork slip control system পাওয়া যাবে এই বাইকে।
২০১৮ সালে বিশ্বের সবচেয়ে দামি বাইক লঞ্চ করেছিল তিন চাকা বাইকের সংস্থা হার্লে-ডেভিডসন। soft tail slim S নামের বাইকটি হার্লে-ডেভিডসনের ব্লু-এডিশন ভার্সন।
বিশ্ব বাজারে যার দাম ১২ কোটি ২০ লক্ষ টাকা। সেসময় নিলামে ওঠা দরের কারণেই বাইকটি বিশ্বের সবচেয়ে দামি বাইকের তকমা পায়।
সুইজারল্যান্ডের বিখ্যাত গয়না ও ঘড়ি প্রস্তুতকারক সংস্থা ‘বুশারার’ এবং বাইক প্রস্তুতকারক সংস্থা ‘বান্ডানার bike-এর যৌথ উদ্যোগে বিলাসবহুল এই বাইকটি তৈরি হয়।
দুই সংস্থার মোট আট জন বিশেষজ্ঞ এক বছর ধরে ২৫০০ ঘণ্টা নানা গবেষণা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বাইকটির ডিজাইন তৈরি করেন।
গাড়িটি সাজাতে ৩৬০টি হিরে ব্যবহার করা হয়। হীরার পাশাপাশি স্বর্ণের ব্যবহারও ছিল প্রচুর। বাইকে যে scru গুলো ব্যবহার করা হয়েছে, সেগুলো সবই সোনার।
এছাড়া ছয়টি স্তরে রঙের কোটিং দেওয়া হয়েছে বাইকটিতে। কিন্তু সেই কোটিং টেকনিকটা কী, সেটা প্রকাশ্যে আনতে চায়নি প্রস্তুতকারক সংস্থা।
blue eddition এই গাড়ির fuel tank এর ডান পাশে একটি ঘড়ি লাগানো হয়।
পাশাপাশি ফুয়েল ট্যাঙ্কের বাম পাশে লাগানো হয় ৫.৪ ক্যারেটের ডায়মন্ড রিং।
ফুয়েল ট্যাঙ্কের এক পাশে ঘড়ি এবং অন্য পাশে হিরে খচিত রিং এবং তার থেকে বেরিয়ে আসা আলো গাড়ির শোভা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
২০১৮ সালে নীল রঙের বাইকটি বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।