আন্তর্জাতিক


বিপাকে বাইডেন, বারবার তার কাছ থেকে উদ্ধার হচ্ছে সিক্রেট ডক্যুমেন্টস


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:২৩ জানুয়ারি ২০২৩, ০৬:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার

বিপাকে বাইডেন, বারবার তার কাছ থেকে উদ্ধার হচ্ছে সিক্রেট ডক্যুমেন্টস

ক্ষমতায় থাকা অবস্থাতেই বিপাকে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। বারবার তার বাসা থেকে উদ্ধার হচ্ছে সিক্রেট ডকুমেন্টস। 

সম্প্রতি ১৩ ঘন্টার দীর্ঘ তল্লাশি অভিযান চালিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বাইডেনের বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় সরকারি কিছু সিক্রেট ডকুমেন্টস। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা কর্মকর্তারা এসব গোপন নথি খুঁজে পান।

আমেরিকার ডেলাওয়্যার অঙ্গরাজ্যে জো বাইডেনের পারিবারিক বাড়িতে এরকম ছয়টি গোপন নথি পাওয়া যায়। এর আগেও প্রেসিডেন্টের অফিসে পাওয়া গিয়েছিল এরকম সিক্রেট ডকুমেন্টস। 

এ বিষয় মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন তিনি কোনো অপরাধ করেন নি। "নির্দোষ ভুল" হিসেবে তিনি এ ঘটনাকে চিহ্নিত করেছেন।

মূলত  আগে প্রেসিডেন্টের অফিস ও বাড়ি থেকে এরকম টপ সিক্রেট ডকুমেন্টস পাওয়ার পরই এবারের এই তল্লাশি চালায় FBI 

এসব ডকুমেন্টস গুলো ছিল বাইডেনের সিনেটর ও ওবামার আমলে ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসাবে দায়িত্ব পালনকালের।

তল্লাশি চলাকালে প্রেসিডেন্ট বাইডেন ও ফাস্ট লেডি জিল বাইডেন তাদের বাড়িতে ছিলেন না।

গতবছর নভেম্বরে ওয়াশিংটন ভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠান "পেন বাইডেন সেন্টার ফর ডেমোক্রেসি অ্যান্ড গ্লোবাল এনগেজডমেন্ট" এর অফিসেও গোপন নথি খুঁজে পাওয়া যায়। যেটি মূলত বাইডেনের সাবেক প্রতিষ্ঠান। 

এরপর ধারাবাহিক তল্লাশি অভিযানের মধ্য দিয়ে অনেকগুলো সরকারি সিক্রেট ডকুমেন্টস উদ্ধার হয়। 

আইন অনুযায়ী ভাইস প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন এসব সরকারি নথিপত্র স্বেচ্ছায় জমা দেওয়ার নিয়ম ছিল। কিন্তু বাইডেন তা করেন নি।

সরকারি ভাষ্য মতে এসব সিক্রেট ডকুমেন্টস ফাঁস হয়ে গেলে অনেক ক্ষতির কারণ হতো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য। 

প্রেসিডেন্ট বাইডেনের মতে এসব সিক্রেট ডকুমেন্ট গুলোতে কি আছে, তা তিনি জানেন না।

বাইডেনের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন,"নথিগুলো পাওয়ার তথ্য আমাকে জানানো হয়েছে। ওই অফিসে সরকারি কোনো নথি নেওয়া হয়েছে, এমনটা জানতে পেরে আমি বিস্মিত হয়েছি। তবে আমি জানি না, ওই সব নথিতে কী আছে।"

এমন সময় এসব ঘটনা ঘটছে, যখন  বাইডেন ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন কিনা, সেই প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এখন এই ঘটনার পর তিনি বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ার কথা।

এর আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাড়ি থেকেও এরকম গোপন সব দলিল উদ্ধার করা হয়।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাড়িতে সিআইএ ও এফবিআই তল্লাশিতে কয়েকশো  সিক্রেট ডকুমেন্টস খুঁজে বের করা হয়। 

সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও দায়িত্ব ছাড়ার পর এসব ডকুমেন্টস ন্যাশনাল আর্কাইভ ও সরকারি সংশ্লিষ্ট অফিসে জমা দেন নি।

এমন অসতর্কতার জন্য ট্রাম্পের বিরুদ্ধে এখনও তদন্ত চলছে। যার ফলে ডোনাল্ড ট্রাম্প বিচারের সম্মুখীন হতে পারেন। তাছাড়া এ ঘটনায় যথেষ্ট সমালোচিত হয়েছেন সাবেক এই মার্কিন প্রেসিডেন্ট। 

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মত দেশে কেন এমন ঘটনা প্রায়ই ঘটছে, তা নিয়ে রয়েছে আলোচনা সমালোচনা। 

বিশ্বের পরাশক্তি একটি দেশে এমন ঘটনায় সুযোগ নিতে পারে চীন ও রাশিয়ার মত প্রতিদ্বন্দ্বী রাষ্ট্রগুলো। যা আমেরিকার পরাশক্তি হিসেবে টিকে থাকাকে চ্যালেঞ্জ করছে প্রতিনিয়ত। 

এসব গোপন নথি খুঁজে বের করার জন্য সবসময় শত্রু দেশের গোয়েন্দাদের দৃষ্টি থাকে। একবার ফাঁস হয়ে গেলে নিজেদের স্বার্থে কাজ লাগানো হয় এসব সিক্রেট ডকুমেন্টস।

এসবে সরকারের নীতি নির্ধারনী পর্যায়ের বিভিন্ন বিষয় থাকতে পারে। সাথে থাকে সরকারের নানান গোপন পরিকল্পনাও।

তবে এসব ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন। 

বিচার বিভাগসহ বিভিন্ন তদন্তকারী সংস্থা সবসময় সতর্ক থাকে এসব নিয়ে। ফলে প্রেসিডেন্টের বাড়ি হলেও তল্লাশি অভিযান চালাতে পারে বিচার বিভাগসহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থা।












জনপ্রিয়


আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন

খামেনি ও তার ছেলেকে হত্যার পরিকল্পনা

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘিরে নতুন করে যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে একটি নতুন চুক্তিতে রাজি হওয়ার আহ্বান জানিয়ে সতর্ক করেছেন শর্ত না মানলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। চুক্তিতে সম্মত হওয়ার জন্য ইরানকে ১০ দিনের সময়সীমা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

গাজার পুনর্গঠনে ৭০০ কোটি ডলার: ‘শান্তি পর্ষদ’ বৈঠকে ট্রাম্পের ঘোষণা

ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত তথাকথিত ‘শান্তি পর্ষদ’–এর প্রথম বৈঠকে ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজা উপত্যকার পুনর্গঠনের জন্য ৭০০ কোটি ডলারের তহবিল প্রতিশ্রুতির কথা জানান। তাঁর দাবি, ৯টি সদস্যরাষ্ট্র প্রাথমিকভাবে এ তহবিলে অর্থ দিতে সম্মত হয়েছে। একই সঙ্গে গাজায় একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েনে পাঁচটি দেশ নীতিগত সম্মতি দিয়েছে।

‘হাড় না ভাঙা’ পর্যন্ত স্ত্রীকে মারার অনুমোদন- আফগানিস্তানে নতুন আইন ঘিরে বিতর্ক

নারীদের বিরুদ্ধে নতুন কড়া আইন জারির অভিযোগ উঠেছে আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের বিরুদ্ধে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেন্ডেন্ট-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির নতুন ফৌজদারি আইনে স্বামীদের স্ত্রী ও সন্তানদের শারীরিকভাবে শাস্তি দেওয়ার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যা পারিবারিক সহিংসতাকে কার্যত বৈধতা দিচ্ছে বলে সমালোচকরা দাবি করছেন।

ভোটে হেরে বাড়ি বাড়ি ঘুরে টাকা ফেরত চাইছেন প্রার্থীর স্ত্রী

ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যে পৌর নির্বাচনে পরাজয়ের পর এক প্রার্থীর পরিবারের কর্মকাণ্ড ঘিরে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, এক প্রার্থীর স্ত্রী বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের কাছ থেকে টাকা ফেরত চাইছেন বলে অভিযোগ