মাসব্যাপী ব্যাপক অনিশ্চয়তা এবং দোলাচলের পর অবশেষে ইউক্রেন কে যুদ্ধ ট্যাঙ্ক দিতে সম্মত হয়েছে জার্মানি ও যুক্তরাষ্ট্র।
শক্তিশালী দুই রাষ্ট্রের এমন সিদ্ধান্তে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মোড় ঘুরে যেতে পারে বলে ধারনা করা হচ্ছে।
জানা গেছে, প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের পক্ষ থেকে কমপক্ষে ৩০ টি এম ওয়ান আব্রামস ট্যাঙ্ক পাঠানোর ঘোষণা আসতে পারে।
রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের 'ন্যাক্কারজনক উস্কানি" হিসেবে অভিহিত করেছেন।
অপরদিকে, জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শোলজ ইউক্রেনকে কমপক্ষে ১৪ টি 'লিওপার্ড টু ট্যাঙ্ক' পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
বুধবার সকালে পার্লামেন্টে এ ব্যাপারে আলোচনাও হয়েছে বলে জানা যায়।
জার্মানির এমন সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়েছে রাশিয়া। ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে বলা হয়, এতে করে জার্মানি-রাশিয়ার সম্পর্কে আজীবনের মতো দাগ থেকে যাবে।
এদিকে বার্লিন- পোলান্ড এবং ফিনল্যান্ডের মতো দেশগুলোকে তাদের মজুদে থাকা জার্মান দেশীয় ট্যাঙ্ক ইউক্রেনে রপ্তানির অনুমতি দিয়েছে।
প্রসঙ্গত, যেসব দেশ জার্মানি থেকে মিলিটারি অস্ত্র ক্রয় করে থাকে, তা অন্য কোনো দেশের কাছে রি-এক্সপোর্ট করতে চাইলে জার্মানির কাছ থেকে অনুমতি নিতে হয়।
তবে আমেরিকা ও জার্মানির এহেন কর্মকান্ডে রাশিয়া তেমন বিচলিত নয়। ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইউক্রেনকে অস্ত্র সরবরাহ করে কোনো লাভ নেই।
পশ্চিমা বিশ্ব যদি মনে করে এভাবে ইউক্রেন রাশিয়ার বিরুদ্ধে জিতে যাবে, তবে তারা ডিলিউশনে আছে। যার কারনে তাদের আফসোস করতে হবে।
জার্মানি কর্তৃক ইউক্রেনকে ট্যাঙ্ক সাহায্য পাঠানোর খবর প্রথম প্রকাশ করে স্পাইজেল মিডিয়া আউটলেট নামক একটি সংবাদ সংস্থা।
জার্মান আর্মি বুন্দেসফেয়ারের এক কোম্পানী 'লিওপার্ট টু এ সিক্স ট্যাঙ্ক' পাঠানো হবে বলে সংস্থাটি দাবি করেছে। উল্লেখ্য যে, এক কোম্পানিতে চৌদ্দটি ট্যাঙ্ক থাকে।
যদিও এ ব্যাপারে জার্মান সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রদান করা হয়নি।
এতোদিন আমেরিকা ইউক্রেনকে আব্রামস ট্যাঙ্ক দেয়া থেকে বিরত ছিল। কারন হিসেবে বলা হয়েছিল, এ ধরনের হাই টেক অস্ত্র বেশ জটিল এবং ঝুঁকিপূর্ণ।
তাছাড়া ওয়াশিংটন বিশ্বাস করতো, আব্রামসের তুলনায় জার্মান ট্যাঙ্ক লিওপার্ড পাঠানো অধিকতর যৌক্তিক, এবং ইউক্রেনীও অস্ত্রশস্ত্রের তুলনায় ,জটিল আব্রাহাম ট্যাঙ্কে অভ্যস্থ হতে ,বেশি সময় লাগতে পারে।
আব্রামস ট্যাঙ্কের গতি প্রতি ঘন্টায় সাড়ে ৬৭ কিলোমিটার। ড্রাইভার, কমান্ডার, লোডার এবং গানারসহ মোট চারজন বসতে পারে এতে।
অপরদিকে লিওপার্ড টু এর গতি আব্রামের তুলনায় একটু বেশি। ঘন্টায় যা ৭২ কিলোমিটার। তবে এই ট্যাঙ্কে মাত্র দুজন বসতে পারবেন।
জার্মানীর লিউপার্ড ট্যাঙ্ক রাশিয়ার ব্যবহার করা অন্য অনেক ট্যাঙ্কের তুলনায় যথেষ্ট শক্তিশালী এবং ভারি। তাই যুদ্ধে ইউক্রেন রাশিয়ার তুলনায় এগিয়ে থাকতে পারে বলে ধারনা করা হচ্ছে।
ইউরোপীয়ান ইউনিয়নের অনেক দেশের নিকট লিউপার্ড টু ট্যাঙ্কের নানা সংস্করন রয়েছে। মোট ১৬ টি দেশে এই ট্যাঙ্ক রয়েছে বলে জানা গেছে। এসব দেশগুলো ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটোর অন্তর্ভুক্ত।
যে সমস্ত দেশ ইউক্রেনকে সামরিক সাহায্য প্রদান করে থাকে, তাদের মধ্যে জার্মানির নাম সবার প্রথমে।
এছাড়া যুক্তরাজ্য 'চ্যালেঞ্জার টু" ট্যাঙ্ক পাঠাতে পারে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে। এটি ছাড়াও আরো কিছু স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রগুলোও অনেকটা ট্যাঙ্কের মতো। 'এএস নাইনটি'' নামক এই ট্যাঙ্কসদৃশ অস্ত্র ত্রিশটি পাঠানো হবে। অন্যদিকে ১৪ টি চ্যালেঞ্জার টু পাঠানো হতে পারে।
ইউক্রেনের প্রধানতম যুদ্ধ ট্যাঙ্কের নাম টি-72, যার বয়স ৩০ বছরের কিছু বেশি।
এতো পুরনো ট্যাঙ্ক দিয়ে যুদ্ধ করা কঠিন। তাই ইউক্রেনের ধারনা অন্তত ৩০০ ট্যাঙ্ক পেলে তারা ঘুরে দাঁড়াতে পারবে।