আন্তর্জাতিক


সাত মাসের পরিবর্তে মাত্র ৪৫ দিনে মঙ্গলে পৌঁছাবে নাসার মহাকাশযান


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:২৭ জানুয়ারি ২০২৩, ১১:৪৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার

সাত মাসের পরিবর্তে মাত্র ৪৫ দিনে মঙ্গলে পৌঁছাবে নাসার মহাকাশযান

সাত মাসের পরিবর্তে মাত্র ৪৫ দিনে মঙ্গলে পৌঁছানো যাবে- এমন একটি পারমানবিক শক্তিসম্পন্ন  রকেটের পেছনে বিনিয়োগ করবে নাসা। 

"বাইমোডাল নিউক্লিয়ার থার্মাল রকেট" নামক  এই বিশেষ রকেটটি সৌরজগতে একই সাথে মানুষ ও পণ্য উভয়ই বহন করতে সক্ষম। 

শুধু তাই নয়, এক গ্রহ থেকে অন্য গ্রহে ভ্রমনকালে রকেটটি 'রেডিয়েশন এক্সপোজার" এর মতো ঝুঁকির পরিমাণ কমাতে পারবে। 

এখানে বাইমোডাল বলতে ডুয়েল মোড  নিউক্লিয়ার থার্মাল প্রোপালশন বা এনটিপি এবং, নিউক্লিয়ার ইলেক্ট্রিক প্রোপালশন বা এনইপি বোঝানো হয়েছে। 

এটি ২০২৩ সালের "নিউক্লিয়ার ইনোভেটিভ এডভান্স কনসেপ্ট" বা এনআইএসি প্রকল্পের অংশবিশেষ। 

এই অভিনব ধারনাটির প্রবর্তক ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর রায়ান গস। তাঁর দাবী, বাইমোডাল ডিজাইন মহাকাশ ভ্রমনে যুগান্তকারী পরিবর্তন আনবে। 

আগামী দশকগুলোতে মহাকাশ মিশনের ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য উন্নতি বিধানের লক্ষ্যে বিশেষ অর্থায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নাসা। 

বিরাট ঝুঁকিপূর্ণ কিন্তু একই সাথে বিশাল প্রাপ্তির সম্ভাবনা রয়েছে, এমন কিছু প্রকল্পের পেছনে বিনিয়োগ করা হবে বলে জানা গেছে। 

আমেরিকার লক্ষ্য হলো একই সাথে সরকার ও মহাকাশ শিল্পের সাথে কাজ করে মহাকাশ সংক্রান্ত পারমানবিক কার্যক্রমকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। 

ভবিষ্যতের নতুন নতুন মিশন ও অবিস্মরণীয় আবিষ্কারের লক্ষ্যে, প্রয়োজন বাস্তবসম্মত পারমাণবিক হার্ডওয়্যার। এবং এই হার্ডওয়্যারের নির্মাণে করা চুক্তিসমূহ একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।  

এনটিপি'র পূর্ণরুপ "নিউক্লিয়ার থার্মাল প্রোপালশন। একে "নিউক্লিয়ার থার্মাল রকেট ইঞ্জিন"ও বলা যেতে পারে। এটি এক ধরনের ফিউশন চুল্লি। 
অত্যধিক তাপ উৎপাদনে এটি ব্যবহার করা হয়। 

নিউক্লিয়ার থার্মাল ইঞ্জিন এই তাপকে তরল প্রোপেলেন্টে ট্রান্সফার করে। এই প্রোপেলেন্ট একটি নজেলের মাধ্যমে তার কার্যকারিতা দেখায় এবং যেকোনো মহাকাশযানকে চালনা করে। 

একটি এনটিপি রকেটে ইউরেনিয়াম এবং ডিউটেরিয়াম চুল্লি ব্যবহার করে, চুল্লিতে উপস্থিত তরল হাইড্রোজেনের তাপমাত্রা বাড়ানো হয়। 

ফলে তরল হাইড্রোজেন প্লাজমাতে পরিণত হয়। পরবর্তীতে রকেটের মধ্যে গতি সঞ্চার করতে একটি রকেট নজেলে প্রবেশ করানো হয় এটি। 

নিউক্লিয়ার থার্মাল প্রোপালশন নিয়ে কাজ করার চিন্তাটি নতুন নয়। 

১৯৫০ থেকে ১৯৮০ সালের মধ্যে আমেরিকা ও তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন মহাকাশ ভ্রমনের কাজে নিউক্লিয়ার প্রোপালশন ব্যবহার করা  নিয়ে গবেষণা করেছিল।  

2000 সালে নাসা নিউক্লিয়ার ইলেকট্রিক প্রোপালশন বা এনইপি ব্যবহার করে একটি নতুন ধরনের রকেট তৈরীর উদ্যোগ নিয়েছিল। 

এই পদ্ধতিতে বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী নিউক্লিয়ার চুল্লি ব্যবহার করা হয়। এই বিদ্যুৎ- তড়িৎ চৌম্বক উৎপাদনে সক্ষম এমন এক ইঞ্জিনে  ব্যবহার করা হয়েছিল। 

বাই মোডাল প্রোপালশান পদ্ধতি দুটো মোড, অর্থ্যাৎ এনটিপি এবং এনইপি প্রযুক্তির  সমন্বয়ে গঠিত। 

প্রফেসর গুস কর্তৃক তৈরীকৃত নকশা অনুযায়ী, এই প্রযুক্তি রকেটে প্রয়োগ করা হবে এবং রকেটটি চলবে দ্বিগুন বেগে। ফলে রকেট পৌঁছাবে মাত্র ৪৫ দিনে। 

গত পাঁচ দশকে নাসাসহ পৃথিবীর নামি দামি মহাকাশ সংস্থা দারুন এবং বিস্ময়কর কিছু কাজ করেছে। তারা চাঁদে পাঠিয়েছে মানুষ l মানচিত্র তৈরী করেছে ভেনাস এবং বৃহস্পতি গ্রহের।

এছাড়া নানারকম জরিপের পাশাপাশি ,আমাদের সৌরজগতের বাইরে নানা তাৎপর্যবাহী চিত্র ধারনেও, সক্ষম হয়েছে তারা। 


জনপ্রিয়


আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন

৪০ দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ- কোন দেশে কত নিহত, বাংলাদেশির সংখ্যা কত?

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর পাল্টা জবাব দিয়েছে ইরান। শুধু ইসরায়েল নয়, ইরানের পক্ষ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায়ও হামলা চালানো হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক বিজয় হয়েছে: ডোনাল্ড ট্রাম্প

ইরান-এর সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ‘সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক বিজয়’ অর্জন করেছে।

যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে ‘ইরানের বিজয়’

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের উত্থাপিত ১০ দফা দাবি মেনে নিয়েছেন বলে দাবি করেছে তেহরান। এর পরিপ্রেক্ষিতে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে নিজেদের কূটনৈতিক বিজয় হিসেবে দেখছে ইরান।

যুক্তরাষ্ট্র ‘রেড লাইন’ পার হলে সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ছড়িয়ে পড়বে: ইরান

যুক্তরাষ্ট্র যদি তেহরানের নির্ধারিত ‘রেড লাইন’ অতিক্রম করে, তাহলে চলমান সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ছড়িয়ে পড়তে পারে- এমন কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।