ক্ষমতা আর অস্ত্র দিয়ে পুরো বিশ্বে রাজত্ব করার স্বপ্ন দেখে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তবে নিজ দেশের একটি বিশেষ অঞ্চলকেই নিজেদের নিয়ন্ত্রনে রাখতে পারেনি তারা।
আমেরিকার নেভাডা অঙ্গরাজ্যে রয়েছে অদ্ভুত এক এলাকা। মাত্র ১১ একর জায়গাকে-ই সেখানকার বাসিন্দারা ঘোষণা করে দিয়েছে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে।
বিশ্বের যেকোনো স্বাধীন দেশের মতো মতই, নিজস্ব সরকার প্রধান, পতাকা, সংবিধান, মুদ্রা সব-ই আছে তাদের। দেশটির নাম রিপাব্লিক অফ মোলোশিয়া।
মোলোশিয়ার জন্ম হয়েছিল দেশটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট কেভিন বওগের হাত ধরে। ১৯৭৭ সালে, মাত্র ১৫ বছর বয়সে বন্ধুদের সাথে দেখা এক সিনেমা থেকে, নিজের আলাদা দেশ তৈরীর স্বপ্ন দেখেন তিনি।
এরপর ১৯৯৯ সালে রীতিমত জায়গা মেপে, মোলোশিয়াকে স্বাধীন দেশ হিসেবে ঘোষণা করে বসেন কেভিন। তখন থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত, তিনি-ই সরকার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
বর্তমানে দেশটিতে সবমিলিয়ে ৩৪ জন নাগরিক বসবাস করেন। এর মধ্যে ৩০ জন মানুষ এবং ৪ জন কুকুর! বিশ্বের আর যেকোনো দেশ থেকে কোনো অংশে পিছিয়ে নেই মোলোশিয়া।
জাতীয় পতাকা, জাতীয় ফুল, জাতীয় পাখি, গাছ সব-ই আছে দেশটির। মোলোশিয়ার জাতীয় পতাকাটি আয়তাকার।
সাদা, নীল ও সবুজ রঙের তিনটি আড়াআড়ি দাগের সমন্বয় হয়েছে এর নকশায়। পতাকার নীল রঙ আকাশকে, সাদা রং পবিত্রতাকে এবং সবুজ রঙ দেশটির প্রকৃতিকে বোঝায়।
বিভিন্ন উপলক্ষে পতাকা উত্তোলনের সময় গাওয়া হয় মোলোশিয়ার জাতীয় সঙ্গীতও! এখন পর্যন্ত দুইবার দেশটির জাতীয় সঙ্গীত পরিবর্তন করা হয়েছে।
দেশের সীমানার মধ্যে লেনদেনের জন্য ব্যবহার করতে হয় আলাদা মুদ্রা। আমেরিকার অন্যান্য জায়গার মতো ডলারের কোনো দাম নেই এখানে।
মোলোশিয়ার নিজস্ব মুদ্রার নাম ভেলোরা। এই মুদ্রার বিনিময় মূল্য নির্ধারণ করা হয় কুকিজ বিস্কুটের দামের উপর নির্ভর করে।
অর্থ্যাৎ, একটি কুকিজ কিনতে ঠিক যত ডলার লাগে, ১ ভেলোরার কিনতেও সমপরিমাণ অর্থ লাগবে। বাইরে থেকে আগত পর্যটকেরাও লেনদেনের জন্য ভেলোরা ব্যবহার করতে বাধ্য।
মাত্র ১১ দশমিক ৩ একর জমির ভেতরেই মোলোশিয়ার রয়েছে নিজস্ব পোস্ট অফিস সিস্টেম, রেল নেটওয়ার্ক, ব্যাংক এবং আলাদা নৌ বাহিনী!
সবমিলিয়ে মোট ৫টি বোট ব্যবহার করে নৌ বাহিনীর সদস্যরা নিজেদের কার্যক্রম পরিচালনা করে। মূলত, তথাকথিত দেশটিকে শত্রুর আক্রমণ থেকে রক্ষা করা-ই তাদের দায়িত্ব।
এখানেই শেষ নয়, পাগলাটে এই দেশটির রয়েছে নিজস্ব মহাকাশ প্রোগ্রামও। এই প্রোগ্রামের আওতায় তারা রীতিমত মহাকাশে রকেট পর্যন্ত পাঠিয়েছে।
বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের পর্যটকেরা এই পাগলাটে দেশ পরিদর্শনে আসেন। মোলোশিয়ায় প্রবেশ করতে গেলে সবার আগে চোখে পড়ে একটি সাইনবোর্ড।
সাইনবোর্ডের দুইপ্রান্তে দু’টি তীর চিহ্ন দিয়ে একদিকে মোলোশিয়া আরেকদিকে ইউএসএ লেখা! এর মাধ্যমেই মোলোশিয়াকে আলাদা একটি দেশ হিসেবে চিহ্নিত করেছে এখানকার বাসিন্দারা।
এক দেশ থেকে আরেক দেশে যেতে যেমন পাসপোর্ট ও ভিসা লাগে, তেমনি মোলোশিয়ায় ঢুকতে হলেও লাগবে পাসপোর্ট। প্রবেশদ্বারের বাইরে থেকে পাসপোর্টে সীল নিয়ে তবেই ভেতরে ঢোকার অনুমতি মেলে।
তথাকথিত এই রাষ্ট্রের অর্থনীতি মূলত পর্যটনের উপর নির্ভর করেই টিকে আছে। পর্যটকদের কাছে মোলোশিয়ার ডাকটিকিট, মুদ্রা বিক্রি করেই আয় করে দেশটি।
পাশাপাশি, এখানকার ক্যাফে আর বারগুলো থেকেও খাবার-দাবার আর পানীয় কিনে বহিরাগতরা। তবে, পানি, বিদ্যুৎ আর গ্যাস আসে যুক্তরাজ্যের অন্যান্য স্থান থেকে।
প্রেসিডেন্ট কেভিন বওগ নিজেই আগত পর্যটকদের তার দেশের বিভিন্ন স্থান ঘুরে ঘুরে দেখান।
তার মুখ থেকে গল্প শুনে ও আজব লোকেদের দেশ মোলোশিয়া ঘুরে, দারুণ সময় কাটে দর্শনার্থীদের। প্রেসিডেন্ট কেভিন বওগ আগামীতেও তার এই ব্যতিক্রমধর্মী দেশটি টিকিয়ে রাখার স্বপ্ন দেখেন।