আন্তর্জাতিক


স্যাটেলাইটের চেয়েও কাছ দিয়ে চলে গেল গ্রহাণু।


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:২৮ জানুয়ারি ২০২৩, ১১:১৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার

স্যাটেলাইটের চেয়েও কাছ দিয়ে চলে গেল গ্রহাণু।

ট্রাকের আকারের একটি গ্রহাণু পৃথিবীর পাশ দিয়ে চলে গেছে। এ সময় কৃত্রিম স্যাটেলাইটের চেয়েও কম ছিলো এর দূরত্ব 

BU-২০২৩ নামের এই গ্রহানুটি উত্তর আমেরিকার সবচেয়ে কাছ দিয়ে পৃথিবীর ৩,৬০০ কিলোমিটার অতিক্রম করেছে। 

বিজ্ঞানীরা গ্রহাণুটির যাত্রাপথকে পৃথিবীর জন্য “কানের পাশ দিয়ে চলে যাওয়া” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। বাংলাদেশ সময় শুক্রবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। 

গ্রহাণুটির আকার বিপজ্জনক নয় বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। এটি সরাসরি পৃথিবীর সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হলেও তেমন কোনো ক্ষতি করার সক্ষমতা নেই। 

তবে যেসব ক্ষুদ্র গ্রহাণু বা উল্কাপিণ্ড পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে এসে ধ্বংস হয়ে যায়, এটি সে তুলনায় কিছুটা বড়। 

গ্রহাণু নিয়ে বেশ সতর্ক নাসার বিজ্ঞানীরা। বড় কোনো গ্রহাণুর খোঁজ পেতে সার্বক্ষনিক চেষ্টা চালিয়ে যান তারা। যাতে সেগুলো পৃথিবীতে আঘাত হানার আগেই সতর্ক হওয়া যায়। 

সে লক্ষ্যে ২০২১ সালের ২৪ নভেম্বর উৎক্ষেপণ করা হয় ডার্ট। ডাইমরফোস নামের ৫৩০ ফুট ব্যাসের গ্রহাণুকে আঘাত করাই ছিল এর লক্ষ্য।

গত বছর ২৭ জুলাই এটি গ্রহাণুটিকে ৩২ মিলিয়ন কিলোমিটার দূরে শনাক্ত করে, এবং  সেভাবে নিজের গতিপথ ঠিক করে নেয়। 

এরপর ১১ সেপ্টেম্বর এটি সঙ্গে করে নিয়ে যাওয়া একটি ন্যানোস্যাটেলাইটকে মুক্ত করে দেয় মহাকাশে। 

এই স্যাটেলাইটটিই মূলত ডার্টের সংঘর্ষের ছবি দেয়। অবশ্য পৃথিবীর প্রায় সব দেশের বিজ্ঞানীরাই অধীর প্রতীক্ষায় ছিলেন ডার্টের। 

যে কারণে জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ, হাবল টেলিস্কোপের মতো বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ টেলিস্কোপও এই সংঘর্ষের সময় ডার্টের ওপর চোখ রেখেছে, এবং ছবি পাঠিয়েছে পৃথিবীতে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, গ্রহাণুর সঙ্গে পৃথিবীর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলে সেটি হবে পারমাণবিক বোমার চেয়েও শক্তিশালী।

৭ হাজার ৫শ কেজি ওজনের কোনো গ্রহাণু, পৃথিবীর সঙ্গে সংঘর্ষ করলে সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া হবে প্রায় ১২০০ মেগা টনের কাছাকাছি।

যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় হিরোশিমায় আঘাত করা, দা লিটল বয়ের চেয়েও কয়েকশ গুণ বেশি ক্ষতি করতে সক্ষম। এমনটা হলে যেকোনো স্থানে অন্তত দেড় কিলোমিটার গভীর ক্ষতের সৃষ্টি হতে পারে। 

এমনকি ১০ কিলোমিটার প্রশস্ত একটি গ্রহাণু পৃথিবীতে আঘাত হানার মাধ্যমে যে শক ওয়েব হবে, তাতেই পৃথিবীর একটা বিশাল সংখ্যক জনগোষ্ঠী নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। 

পৃথিবী পৃষ্ঠে শত কিলোমটারজুড়ে ,একটি বিশাল গর্তের সৃষ্টি হবে। গ্রহাণুটির ধ্বংসাবশেষ পৃথিবীর বাইরে একটি বলয় সৃষ্টি করবে, যা দেখতে শনি গ্রহের বলয়ের মতো হবে।

গ্রহাণুর আঘাতে পৃথিবী পৃষ্ঠ একসময় ধুলোতে ঢেকে যাবে, যা সূর্যের আলো আটকে দেবে। আর সূর্যের আলো ছাড়া পৃথিবীতে অধিকাংশ প্রাণী ও গাছপালা মারা যাবে। 

অন্যদিকে উল্কাপিন্ডের আঘাতে বনজঙ্গল জ্বলে যাবে, শহরগুলো ঝলসে যাবে উত্তপ্ত ধ্বংসাবশেষের উত্তাপে। মানুষসহ অন্যanno সকল প্রাণির জন্য পৃথিবীতে বেঁচে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়বে।
১৯০৮ সালের ঘটনা। মাত্র ৪ হাজার কিলোমিটারের জন্য, ধ্বংসের হাত থেকে বেঁচে যায় রাশিয়ার রাজধানী মস্কো। 

দ্বিতীয়বার ভ্লাদিভস্তক শহরের ৪০০ কিলোমিটারেরও কম দূরত্বে আঘাত হানে একটি গ্রহাণু। 

তবে সে যাত্রায়ও বেঁচে যায় মানুষ৷ কারণ, গ্রহাণুটি আঘাত করে বিশাল জনমানবহীন এক বনভূমিতে।

ভবিষ্যতে এসব সমস্যা যাতে না হয়, তাই বিজ্ঞানীরা আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে রাখছেন। 

পরিকল্পনা অনুযায়ী কোন গ্রহাণু পৃথিবীর দিকে আসতে থাকলে, কৃত্রিম ভাবে সেটির গতিপথ বদলে দেয়া হবে। 



জনপ্রিয়


আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন

কোরবানি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের উদাহরণ টানলেন হায়দরাবাদের ইসলামিক স্কলার

ভারতের হায়দরাবাদ–এর ইসলামিক স্কলার মাওলানা মোহাম্মদ জাফর পাশা কোরবানির পশু নিয়ে মুসলিমদের হেনস্তার অভিযোগ তুলে পশ্চিমবঙ্গের মুসলিমদের উদাহরণ অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছেন।

আল-আকসা প্রাঙ্গণে পশু জবাইয়ের চেষ্টায় আটক ১৩

পবিত্র আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে ইহুদি ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী পশু জবাইয়ের চেষ্টা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে ১৩ জনকে আটক করেছে ইসরায়েলি পুলিশ। শুক্রবার ইহুদিদের ধর্মীয় উৎসব শাভুত উপলক্ষে এ ঘটনা ঘটে।

এএপিআই হেরিটেজ মাসে নিউ জার্সি সিনেটের সম্মাননা পেলেন বাংলাদেশি-আমেরিকান অধ্যাপক শোয়েব ভূঁইয়া

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে এশিয়ান আমেরিকান অ্যান্ড প্যাসিফিক আইল্যান্ডার (এএপিআই) হেরিটেজ মাস উপলক্ষে বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন বাংলাদেশি-আমেরিকান অধ্যাপক শোয়েব আহমেদ ভূঁইয়া। নিউ জার্সি স্টেট সিনেট ও জেনারেল অ্যাসেম্বলির পক্ষ থেকে তাকে যৌথ আইনসভা প্রস্তাবনার (Joint Legislative Resolution) মাধ্যমে এ সম্মাননা দেওয়া হয়। তিনি প্রথম বাংলাদেশি-আমেরিকান হিসেবে এই মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি অর্জন করলেন।

বিজেপিকে ছাড়িয়ে ভাইরাল “তেলাপোকা পার্টি”

ভারতে হঠাৎ করেই তুমুল আলোচনায় উঠে এসেছে একটি ব্যতিক্রমধর্মী অনলাইন আন্দোলন “ককরোচ জনতা পার্টি” বা সিজেপি। কয়েকদিন আগেও যেটিকে অনেকে নিছক মিম, ট্রল কিংবা ব্যঙ্গাত্মক ক্যাম্পেইন হিসেবে দেখছিলেন, সেটিই এখন দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে অস্বস্তির বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে ফলোয়ার সংখ্যার দিক থেকে এই নতুন আন্দোলন ইতোমধ্যেই ক্ষমতাসীন বিজেপিকেও ছাড়িয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত সিজেপির অনুসারী সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ কোটি ২২ লাখে, যেখানে বিজেপির অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে রয়েছে প্রায় ৮৭ লাখ ফলোয়ার। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে এমন বিস্ফোরক উত্থান ভারতের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।