আন্তর্জাতিক


রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ কীভাবে শেষ হতে পারে?


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:২৮ জানুয়ারি ২০২৩, ১২:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ কীভাবে শেষ হতে পারে?

প্রায় এক বছর যাবত চলতে থাকে রাশিয়া- ইউক্রেন সংকট নিরসন, দিনদিন জটিল থেকে জটিলতর হচ্ছে। তবে কার্যকর ও বুদ্ধিদীপ্ত উপায়ে, অবসান হতে পারে বিশ্বকে অস্থিতিশীল করা এই যুদ্ধের।

ক্রমেই দুর্বল হওয়া রাশিয়ার সৈন্য সংখ্যা বৃদ্ধি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। শীতের সুযোগে নিজেদের ফ্রন্ট লাইনগুলোকে আরও স্থিতিশীল, এবং নতুন করে সেনা সংগ্রহ করতে পারে মস্কো। 

সেনা বহরে সংখ্যা বৃদ্ধির পর, সর্বশক্তি দিয়ে ইউক্রেনে আক্রমণ চালিয়ে, জয় ছিনিয়ে আনতে পারে রাশিয়া। যদিও এর ফলাফল হবে ভয়ঙ্কর। প্রাণহানি ঘটবে কয়েক লক্ষ নিরীহ নাগরিকের।

এদিকে সময় যতো গড়াবে, ইউক্রেনকে দেওয়া ইউরোপের সামরিক সহায়তা ততোই শেষ হতে থাকবে। 

সেক্ষেত্রে বৈশ্বিক মন্দায়, নতুন করে মিলিয়ন ডলারের সামরিক সাহায্য অব্যাহত রাখবে না মিত্র দেশগুলো। আর এই সুযোগেই রাশিয়ার জয়লাভ এক প্রকার নিশ্চিত হয়ে যাবে।

ইউক্রেনকে যুদ্ধে জড়িয়ে রাখার পেছনে কলকাঠি নাড়ছে যুক্তরাষ্ট্র সহ পশ্চিমা দেশগুলো। ক্রমাগত ক্ষয়ক্ষতি এবং পরিণতির কথা চিন্তা করে, আত্মসমর্পণ করতে পারে তারা। সেক্ষেত্রে রাশিয়ার দাবি পূরণ হলে থেমে যাবে চলমান সংকট।

কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করার মাধ্যমেও পরিস্থিতি শান্ত করা সম্ভব। কার্যকর এবং ফলপ্রসূ আলোচনার মাধ্যমে সম্ভাব্য দৃশ্যপট পালটে যেতে পারে।

বৈশ্বিক শান্তির উদেশ্যে, যুদ্ধ বন্ধ হওয়া অনেকটা কূটনৈতিকদের উপর নির্ভর করছে। এক্ষেত্রে জাতিসংঘের মতো সংগঠন গুলো গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রাখতে পারে।

এদিকে নতুন করে মাস্টারপ্ল্যান নিয়ে মাঠে নেমেছে পুতিন। ইউক্রেনকে অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল করতে উঠেপড়ে লেগেছেন তিনি। 

এরই মধ্যে ইউক্রেনের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ অবকাঠামো লক্ষ্য করে, ব্যাপক হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী। এই হামলায় যে পরিমান ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সেটি সহজে কাটিয়ে উঠতে পারবে না কিয়েভ।

এদিকে নতুন করে সৈন্য সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি, নতুন অস্ত্রের উৎপাদনও বাড়িয়েছে রাশিয়া। ইউক্রেনের পুরো বাণিজ্য খাত বন্ধ করে দেওয়ার সম্ভাব্য সব পথে হাটছে তারা। 

আর অর্থনৈতিক দুর্বলতার মধ্যে, যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেওয়া ছাড়া, বিকল্প পথ থাকবে না ইউক্রেনের হাতে।

পুতিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণায়ও শেষ হতে পারে রাশিয়া-ইউক্রেন সংকট। প্রেসিডেন্ট পুতিন  একতরফা যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করলেও বন্ধ হতে পারে এ সংঘাত।

প্যারিস, বার্লিন এবং রোম ইতোমধ্যেই জানিয়েছে, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হোক, তারা সেটি চায় না। বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক সংকট শেষ করতে চায় তারা। 

ফলে যুদ্ধ বিরতির বিষয়টি ইতোমধ্যেই আলোচনায় তুলেছে দেশগুলো। তাই যুদ্ধে সাময়িক বিরতি  হতে পারে সম্ভাব্য আরেকটি সমাধান

তবে এ পথে হাঁটতে গেলেও, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং পূর্ব ইউরোপের বেশিরভাগ দেশের বাধার মুখে পড়তে পারে রাশিয়া।  এমন পদক্ষেপের বিরোধিতা করতে পারে তারা। 

কারন ক্রমাগত যুদ্ধে রাশিয়ার শক্তি কমুক, এমনটাই চায় দেশগুলো। এছাড়াও, সফলভাবে নিজেদের অস্ত্র ব্যাবসা চালিয়ে যাওয়া আরেকটি কারন। সেক্ষেত্রে ইউক্রেনকে যুদ্ধে অটল রাখার মত কাজ করতে পারে তারা।

চলমান যুদ্ধ সমাপ্তির আরেকটি সম্ভাব্য দৃশ্যপট হল, ইউক্রেনের 'বিজয়'। যদি রুশ বাহিনীকে ইউক্রেনীয়রা পরাস্ত করতে পারে, তবে যুদ্ধের অবসান ঘটবে। 

বাস্তবে ইউক্রেনীয় বাহিনীর হাতে রুশদের পরাজয় অনেকটা অসম্ভব কল্পনার মতোই। তবে ঘটনা মোড় নিতে পারে ইউক্রেনের মিত্র শক্তি বেড়ে গেলে।

ইউরোপের দেশগুলো আধিপত্য ধরে রাখতে, এবং রাশিয়াকে কোণঠাসা করতে ইউক্রেনের পক্ষ নিচ্ছে। সেক্ষেত্রে মিত্র দেশগুলোর সম্মিলিত আক্রমনে হেরে যেতে পারে রাশিয়া। তাদের পরাজয়ে বন্ধ হতে পারে চলমান সংঘাত।

দীর্ঘ এগারো মাস ধরে চলা এই সংঘাতের ভবিষ্যৎ আসলে কোন দিকে যাবে, তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। উল্লেখিত সম্ভাব্য সমাধানের পথে হাঁটতে গেলেও, পৃথিবীতে শুরু হতে পারে পারমাণবিক যুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞ।





জনপ্রিয়


আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন

৪০ দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ- কোন দেশে কত নিহত, বাংলাদেশির সংখ্যা কত?

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর পাল্টা জবাব দিয়েছে ইরান। শুধু ইসরায়েল নয়, ইরানের পক্ষ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায়ও হামলা চালানো হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক বিজয় হয়েছে: ডোনাল্ড ট্রাম্প

ইরান-এর সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ‘সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক বিজয়’ অর্জন করেছে।

যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে ‘ইরানের বিজয়’

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের উত্থাপিত ১০ দফা দাবি মেনে নিয়েছেন বলে দাবি করেছে তেহরান। এর পরিপ্রেক্ষিতে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে নিজেদের কূটনৈতিক বিজয় হিসেবে দেখছে ইরান।

যুক্তরাষ্ট্র ‘রেড লাইন’ পার হলে সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ছড়িয়ে পড়বে: ইরান

যুক্তরাষ্ট্র যদি তেহরানের নির্ধারিত ‘রেড লাইন’ অতিক্রম করে, তাহলে চলমান সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ছড়িয়ে পড়তে পারে- এমন কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।