আন্তর্জাতিক


এফ ১৬ যুদ্ধবিমান আকাশ যুদ্ধে কেন এত জনপ্রিয়


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:২৮ জানুয়ারি ২০২৩, ০৩:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার

এফ ১৬  যুদ্ধবিমান আকাশ যুদ্ধে কেন এত জনপ্রিয়

আকাশ যুদ্ধে জনপ্রিয়তার শীর্ষে রয়েছে F 16 যুদ্ধ বিমান। বিশ্বের অনেক দেশই এই যুদ্ধ বিমানকে নিজেদের পছন্দের তালিকায় রাখে।

৭০ এর দশকে তৈরি এই যুদ্ধ বিমান আজ পর্যন্ত দেশে দেশে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। আমেরিকার সব থেকে বেশি বিক্রিত যুদ্ধ বিমানের তালিকায় রয়েছে  F-16।

পাকিস্তান, তুরস্ক, গ্রিস, জাপান,দক্ষিণ কোরিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে সার্ভিসে রয়েছে এই ফাইটার প্লেন। মোটামুটি ভাবে বলতে গেলে, পৃথিবীর অনেক দেশের বিমান বাহিনী F-16 ছাড়া অনেকটাই অচল। 

আমেরিকা F- 16 তৈরির পরও বহু শক্তিশালী ও উন্নত প্রযুক্তির ফাইটার জেট বানিয়েছে। কিন্তু আজ পর্যন্ত আমেরিকার সামরিক বাহিনীতে এটি গুরুত্বপূর্ণ। 

এই ফাইটার প্লেনের পুরো নাম General Dynamics F-16 Fighting Falcon। এই যুদ্ধ বিমান সিঙ্গেল ইঞ্জিনের তৈরি। এটি যে-কোন শক্তিশালী অস্ত্র বহনে সক্ষম। এমনকি পারমাণবিক অস্ত্রও বহন করতে পারে F-16 ফাইটিং ফ্যালকন। 

বর্তমানে এই ফাইটার প্লেনের নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের নাম লকহিড মার্টিন। লকহিড মার্টিন মূলত আমেরিকার সেরা যুদ্ধাস্ত্রগুলো উৎপাদন করে থাকে।

যদিও এর মূল নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ছিল জেনারেল ডায়নামিক্স। 

 F-16 ড্রোন হিসেবে, অর্থাৎ  পাইলট ছাড়াও ব্যবহার করা যায়। দ্রুত গতি সম্পন্ন এই ফাইটার প্লেন শত্রু শিবিরে হঠাৎ আক্রমণ করে তাক লাগিয়ে দিতে পারে।

আবার ডগ ফাইট বা আকাশে শত্রুর সাথে লড়াই করতে পারে। যা একে মাল্টিরোল ফাইটার হিসেবে বিখ্যাত করেছে।

১৯৭৪ সালে প্রথম যখন এই যুদ্ধবিমান আকাশে উড়ে তখন প্রায় রানওয়েতেই ক্রাশ হয়ে যাচ্ছিল। পরে পাইলটের দক্ষতায় সফলভাবে উড়ে আবার ল্যান্ড করে F- 16।

এর পর থেকে যেন অপ্রতিরোধ্য হয়ে,ই দাপটের সাথে উড়ে চলছে ফাইটার প্লেনটি।

এখন পর্যন্ত সাড়ে চার হাজারের বেশি  F- 16 ও এর জাপানি ভার্সন তৈরি করা হয়েছে। এর মাঝে রয়েছে F 16 এর বিভিন্ন ভ্যারিয়েন্ট।

বর্তমানে ২৫টির মতো দেশের সামরিক বাহিনীতে ,সার্ভিসে রয়েছে F- 16 ফাইটার ফ্যালকন।

পাকিস্তানের হাতে এই বিমান থাকার কারণে প্রায়ই ভারতের ভয়ের কারণ হয়ে দাড়ায় F-16 ফাইটার প্লেন। ২০১৯ সালে ভারতের 'মিগ টুয়েন্টি ওয়ান' যুদ্ধ বিমানকে ভূপাতিত করেছিলো পাকিস্তানের F-16 ফাইটার। 

কয়েক মাস আগে পাকিস্তানকে এই যুদ্ধ বিমান আধুনিকায়নের জন্য সাহায্য দিতে যায় যুক্তরাষ্ট্র। তখন ভারত এতে উদ্বিগ্নতা প্রকাশ করে। যা ভারতের এই যুদ্ধ বিমানের প্রতি ভয়ের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে। 

উপসাগরীয় যুদ্ধে খোদ আমেরিকা F- 16 যুদ্ধবিমানের প্রচুর ব্যবহার করে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের নানান প্রান্তে যুদ্ধের সময় F-16 ব্যাপক হারে ব্যবহৃত হয়।

F-16 যুদ্ধবিমান থেকেও অনেক ক্ষমতা সম্পন্ন, উন্নত প্রযুক্তির এবং আধুনিক ফাইটার প্লেন রয়েছে। 

কিন্তু F-16 যুদ্ধবিমানের এমন কিছু সুবিধা রয়েছে, যা একে অন্যসব ফাইটার প্লেন থেকে আলাদা করে।

এর মধ্যে প্রধান কারণ হচ্ছে, যুদ্ধবিমানটি দামে যথেষ্ট সস্তা। অথচ যুদ্ধের জন্য সেরা ভূমিকা পালন করে। 

এছাড়াও আকার ওজনে ছোট ও হালকা এই ফাইটার প্লেন। 

পাইলট তার সুবিধামত সহজেই চারপাশে দেখতে পারেন। ইচ্ছেমত ছোট বড় অস্ত্র ও বোমা বহনও করতে পারেন। আবার শব্দের থেকে দ্বিগুণ গতিতে উড়িয়ে নিতে পারেন বিমানটি।

এমন সব গুণের কারণেই মূলত F-16 এর জনপ্রিয়তা তুঙ্গে। যা এই যুদ্ধবিমানকে শ্রেষ্ঠত্বের আসনে বসিয়েছে।




জনপ্রিয়


আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন

৪০ দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ- কোন দেশে কত নিহত, বাংলাদেশির সংখ্যা কত?

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর পাল্টা জবাব দিয়েছে ইরান। শুধু ইসরায়েল নয়, ইরানের পক্ষ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায়ও হামলা চালানো হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক বিজয় হয়েছে: ডোনাল্ড ট্রাম্প

ইরান-এর সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ‘সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক বিজয়’ অর্জন করেছে।

যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে ‘ইরানের বিজয়’

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের উত্থাপিত ১০ দফা দাবি মেনে নিয়েছেন বলে দাবি করেছে তেহরান। এর পরিপ্রেক্ষিতে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে নিজেদের কূটনৈতিক বিজয় হিসেবে দেখছে ইরান।

যুক্তরাষ্ট্র ‘রেড লাইন’ পার হলে সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ছড়িয়ে পড়বে: ইরান

যুক্তরাষ্ট্র যদি তেহরানের নির্ধারিত ‘রেড লাইন’ অতিক্রম করে, তাহলে চলমান সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ছড়িয়ে পড়তে পারে- এমন কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।