রাশিয়াকে মোকাবেলার জন্য আমেরিকা ও জার্মানির বিধ্বংসী ট্যাংক পাচ্ছে ইউক্রেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে এগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের এম ওয়ান আব্রামস এবং জার্মানির লেপার্ড- ২, দুটি ট্যাংকই অত্যাধুনিক প্রযুক্তির। তৎকালীন সোভিয়েত আমল থেকে, অত্যন্ত শক্তিশালী সমরাস্ত্র হিসেবে গণ্য করা হয় এসব ট্যাংককে।
কার্যক্ষমতার দিক থেকে জার্মানির লেপার্ড এবং আমেরিকার আব্রামস এর খুব বেশি পার্থক্য নেই। যুদ্ধক্ষেত্রে তীব্র আকারে ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে সক্ষম উভয় ট্যাংক। তবে তুলনামূলকভাবে লেপার্ড-২ এগিয়ে থাকবে কিছুটা।
আধুনিক এই ট্যাংকের বিশেষত্ব হলো, এতে নাইটভিশন ইকুইপমেন্ট এবং একটি লেজার রেঞ্জ ফাইন্ডার রয়েছে, যার সাহায্যে লক্ষ্যবস্তুর দূরত্ব মাপা যায়। অর্থাৎ দূরত্ব পরিমাপ করে নিখুঁতভাবে আঘাত হানতে সাহায্য করে এটি।
এছাড়াও, লেজার রেঞ্জ ফাইন্ডার রুক্ষ ভূমির ওপর দিয়ে যাওয়ার সময়, চলমান লক্ষ্যের ওপর ভালোভাবে নজরদারি করতে সাহায্য করে।
লেপার্ড টু হল বর্তমানে বিশ্বের প্রথম সারির ট্যাঙ্ক গুলোর মধ্যে একটি। জার্মানির তৈরি এই ট্যাঙ্ক ব্যবহৃত হচ্ছে ঊনিশটির বেশি দেশে। সর্বশেষ আফগানিস্তান, কসোভো এবং সিরিয়ার লড়াইয়ে এর সফলতা দেখেছে বিশ্ববাসী।
এদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি, এম ওয়ান আব্রামস বিশ্বের সবচেয়ে আধুনিক যুদ্ধ ট্যাংকগুলোর মধ্যে একটি।
জার্মানির লেপার্ড- ২ চালাতে বিশেষ কোনো প্রশিক্ষণ না লাগলেও, এটি চালানোর জন্য প্রয়োজন হয় ব্যাপক প্রশিক্ষনের।
সর্বাধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার করা হয়েছে এই ট্যাঙ্কে। গায়ের বিশেষ আর্মার আব্রামসকে রক্ষা করে যেকোনো আক্রমণ থেকে। তীব্র আক্রমণের মধ্যেও টিকে থাকবে এই সমরাস্ত্র।
শুধুমাত্র লক্ষ্যভেদী গোলা নিক্ষেপ কিংবা আগ্রাসন নয়, ক্রু দের নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও এটি অনন্য। এর রয়েছে বিশেষ আর্মার প্লেট।
নিজস্ব রাডার ব্যবস্থা থাকায়, প্রায় আট হাজার মিটার দূরে লক্ষ্য বস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম এটি। এর ক্যাটার পিলার ট্র্যাক, যেকোনো ধরনের পথে চলতে সক্ষম।
অত্যাধুনিক এম ওয়ান আব্রামস ট্যাংক, যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর জন্য ১৯৭৮ সালে তৈরি করা হয়। এরপর মার্কিন সেনাবাহিনীর কাছে এটি ১৯৮০ সালে হস্তান্তর করা হয়।
প্রায় এক বছর ধরে চলা যুদ্ধে, ইউক্রেন ও রাশিয়া দুই পক্ষই সোভিয়েত যুগের ট্যাংক ব্যবহার করে আসছিল।
কিন্তু পথিমধ্যে, এমওয়ান আব্রামস ও লেপার্ড-২ এর মতো আধুনিক যুদ্ধট্যাংক পাল্টে দেবে পুরো দৃশ্যপট, এমনটাই মনে করছেন বিশেজ্ঞরা। অত্যাধুনিক এসব ট্যাংক এর কারণে, রাশিয়া চাপে পড়বে বলে মত দিয়েছেন তারা।
তবে ইউক্রেনে ট্যাংক দেওয়ার প্রতিক্রিয়ায় কড়া হুঁশিয়ারি জানিয়েছে রাশিয়া। পশ্চিমা ট্যাংকগুলো অন্যান্য সমরাস্ত্রের সঙ্গে পুড়িয়ে দেওয়া হবে বলে জানিয়ে দিয়েছে পুতিন সরকার।
যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ট্যাংক সরবরাহের এই ঘটনাকে, নির্লজ্জ উসকানি হিসেবে অভিহিত করেছেন। পাশপাশি রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে ইউক্রেন বিজয়ী হবে, এই ভ্রান্তির জন্য পশ্চিমারা ভবিষ্যতে পরিতাপ করবে বলে জানান তিনি।
প্রথম দিকে রাশিয়ার আগ্রাসী আক্রমণ চললেও, সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু জায়গা থেকে পিছু হটেছে পুতিন বাহিনী। সেসব জায়গায় দখল নিয়েছে জেলেনেস্কির সৈন্যরা।
এটিকে রাশিয়ার কূটচাল মনে করছেন অনেকে। ইউক্রেনকে সুযোগ বুঝে কাবু করতেই, মাইন্ড গেম খেলছেন পুতিন, এমনটাই ভাবা হচ্ছে।
ধারণা করা হচ্ছে তীব্র শীতে নতুন করে আক্রমণে যাবেন পুতিন। ততদিনে ইউক্রেনকে দেওয়া সামরিক সহায়তাও শেষের দিকে থাকবে।
আর নতুন করে সহায়তা পাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে না ইউক্রেনের। তবে পরিস্থিতি কোনদিকে যাবে তা সময়ই বলে দেবে।