আন্তর্জাতিক


ইউক্রেনে রাশিয়ার নয়া কৌশল, কোন পথে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:৩০ জানুয়ারি ২০২৩, ১০:৫৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার

ইউক্রেনে রাশিয়ার নয়া কৌশল, কোন পথে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ

প্রায় এক বছর হতে চলেছে রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের। প্রথম থেকেই রাশিয়া ইউক্রেনে বিশেষ কৌশল নিয়ে লড়াই করছে৷ 

অভিযানের শুরুতে মনে করা হয়েছিল জেলেনস্কি সরকারকে হটাতেই পুতিনের বাহিনী অভিযান পরিচালনা করছে। তবে ধীরে ধীরে এই ধারণার পরিবর্তন হয়। 

বছরব্যাপী চলমান এই অভিযানের গতিপ্রকৃতি ক্ষণে ক্ষণে বদলেছে। রাশিয়া নিজেকে অপরাজেয় মনে করলেও বেশ কয়েকবার তাদেরকে পিছু হটতে  হয়েছে৷ 

২০১৪ সালে পুতিনের বাহিনী যত সহজে ক্রিমিয়া দখল করেছিলো, এবার তেমনটা হয়নি। পুতিন ইউক্রেনের শক্তি সম্পর্কে ভুল হিসাব নিকাশ করেছিলেন। 

অভিযানের শুরুতে রাশিয়া ইউক্রেনের বেশ কিছু এলাকা দখল করেছিলো। সময় যত গড়িয়েছে, রুশ বাহিনী ততটাই অগোছালো হয়ে পড়েছে। এর ফলে ইউক্রেন কিছু অঞ্চল পুর্নদখল করে নিতে সমর্থ হয়। 

এখানে রাশিয়ার বিশেষ কৌশল খানিক সময়ের জন্য অকেজো হয়ে পড়ে। ফলে রাশিয়ার এমন দুর্গতি দেখে  পশ্চিমা অনেক বিশ্লেষক পূর্বাভাস দিয়েছিলেন, ইউক্রেনে রুশ বাহিনী দিশেহারা অবস্থায় পতিত হবে। 

তবে এসব পূর্বাভাস সত্য হয় নি, সত্য হওয়ার কোনো লক্ষণও দেখা যাচ্ছে না। এমনকি চলমান এই সংঘাত বন্ধের জন্য কোনো পক্ষই গ্রহণযোগ্য প্রস্তাব তৈরি করতে পারেননি। উল্টো দুই পক্ষই আরো শক্তিশালী ভাবে সর্বাত্নক অভিযানের দিকে ধাবিত হচ্ছে। 

রাশিয়া বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে শুরু করেছে। পুতিন উত্তর কিয়েভ থেকে রুশ সেনা সরিয়ে নিয়ে পুর্বাঞ্চলে পুনরায় বিপুল পরিমানে সেনা মোতায়েন করেছেন। 

এছাড়া রাশিয়া এই অঞ্চলে সামরিক সরঞ্জামের শক্তিশালী মজুদ গড়ে তুলছে। দক্ষিণ খেরসনেও রাশিয়া সেনা সরিয়ে নেয়ার কৌশল গ্রহণ করেছে। 

ইউক্রেন অভিযানের শুরুতে রাশিয়া কম সংখ্যক সেনা নিয়োগ দিয়েছিলো। এখন সেই সংখ্যা বৃদ্ধি  পেয়েছে। বড় আকারের সর্বাত্নক যুদ্ধের জন্য পুতিন যুদ্ধকৌশলে পরিবর্তন এনেছেন। 

রিজার্ভ বাহিনী থেকে সেনা মোতায়েন করায় রাশিয়ার জনবল বেড়েছে। এর মাধ্যমে রাশিয়া অধিক প্রাণহানি এড়িয়ে আগের বছরের চেয়ে বেশি সুবিধা আদায় করে নিতে চায়। 

ইতোমধ্যে দখলকৃত অঞ্চলকে নিরাপদ রাখার মূল লক্ষ্য নিয়েই রুশ বাহিনী যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। 

দোনেতস্ক ও লুহানস্কের মতো অঞ্চলগুলো যেন আর কোনপ্রকারে হাতছাড়া না হয় সেদিকে জোরালো নজর রাখছে রাশিয়া। 

অন্যদিকে রুশ বাহিনী গুড়িয়ে দিয়ে সামনে অগ্রসর হওয়ার নীতি নিয়েছে। 

এর আগে ক্ষয়ক্ষতি এড়িয়ে অঞ্চল দখলের দিকে মনোযোগ ছিলো রাশিয়ার। বর্তমানে সেই অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। 

সংঘাতের ক্ষেত্র সীমিত করে ফেলায় রাশিয়ার কমান্ড ও কন্ট্রোল আগের তুলনায় শক্তিশালী। এর আগে রাশিয়া চেচনিয়ার রাজধানী গ্রোজনিতে যেভাবে আক্রমণ পরিচালনা করেছিল, সেই কৌশল অনুসরণ করেছিলো ইউক্রেনেও। 

এখন পরিবর্তিত যুদ্ধ কৌশলে মজুত বাহিনীর সেনারাও ভালো করছে। অনেক বিশ্লেষক বলেছিলেন, মজুত বাহিনীর সদস্যরা পর্যাপ্ত ট্রেনিং না থাকায় যুদ্ধে খুব বেশি সুবিধা করতে পারবে না। এই পূর্বাভাস ভুল প্রমাণিত হয়েছে। 

রুশ বাহিনী ভারী অস্ত্র ও দূর পাল্লার গোলা নিক্ষেপে দক্ষ হয়ে উঠেছে। ২য় বিশ্বযুদ্ধের সময় ভারী ও দূরপাল্লার গোলানির্ভর যুদ্ধ অনেক কার্যকরী এক কৌশল ছিলো। রুশ বাহিনী সম্প্রতি মারিউপোল দখল নিতে এই কৌশল ব্যবহার করেছে। 
 
রুশদের এমন সাফল্যে ইউক্রেনীয় শিবিরে হতাশা বিরাজ করলেও দেশটির জনগণের সমর্থন সেনাদের উজ্জীবিত করবে এতে সন্দেহ নেই। সাম্প্রতিক জরিপের তথ্য অনুসারে ইউক্রেনের অধিকাংশ জনগণ যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে মত দিচ্ছেন।

ইউক্রেনের পক্ষে পশ্চিমা মিত্র দেশগুলো শক্ত অবস্থান নিয়েছে। নতুন করে ইউক্রেনকে অত্যাধুনিক অস্ত্র সহায়তা দিচ্ছে। 

অন্যদিকে, ইউক্রেন তাদের দখল করা সব ভূখন্ড ফিরিয়ে নিতে বদ্ধপরিকর। কিন্তু রাশিয়া এসব ভূখণ্ড ধরে রাখতে যা দরকার তাই করবে।

এমন পরিস্থিতিতে রাশিয়া ইউক্রেন সংঘাত কবে শেষ হবে তা বলা কারো পক্ষেই সম্ভব হচ্ছে না। এখন দেখার বিষয় রাশিয়ার পরিবর্তিত যুদ্ধ কৌশল, ও ইউক্রেনের পক্ষে পশ্চিমাদের শক্তিশালী সর্মথন- কোন পক্ষকে জয়ী করে।

দর্শক, আপনাদের কি মনে হয়? কোন পক্ষ জয়ী হবে এই যুদ্ধে? রাশিয়ার নতুন কৌশল কি কাজে লাগবে? কমেন্ট বক্সে নিজেদের মতামত জানাবেন আশাকরি।





জনপ্রিয়


আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন

খামেনি ও তার ছেলেকে হত্যার পরিকল্পনা

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘিরে নতুন করে যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে একটি নতুন চুক্তিতে রাজি হওয়ার আহ্বান জানিয়ে সতর্ক করেছেন শর্ত না মানলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। চুক্তিতে সম্মত হওয়ার জন্য ইরানকে ১০ দিনের সময়সীমা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

গাজার পুনর্গঠনে ৭০০ কোটি ডলার: ‘শান্তি পর্ষদ’ বৈঠকে ট্রাম্পের ঘোষণা

ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত তথাকথিত ‘শান্তি পর্ষদ’–এর প্রথম বৈঠকে ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজা উপত্যকার পুনর্গঠনের জন্য ৭০০ কোটি ডলারের তহবিল প্রতিশ্রুতির কথা জানান। তাঁর দাবি, ৯টি সদস্যরাষ্ট্র প্রাথমিকভাবে এ তহবিলে অর্থ দিতে সম্মত হয়েছে। একই সঙ্গে গাজায় একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েনে পাঁচটি দেশ নীতিগত সম্মতি দিয়েছে।

‘হাড় না ভাঙা’ পর্যন্ত স্ত্রীকে মারার অনুমোদন- আফগানিস্তানে নতুন আইন ঘিরে বিতর্ক

নারীদের বিরুদ্ধে নতুন কড়া আইন জারির অভিযোগ উঠেছে আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের বিরুদ্ধে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেন্ডেন্ট-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির নতুন ফৌজদারি আইনে স্বামীদের স্ত্রী ও সন্তানদের শারীরিকভাবে শাস্তি দেওয়ার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যা পারিবারিক সহিংসতাকে কার্যত বৈধতা দিচ্ছে বলে সমালোচকরা দাবি করছেন।

ভোটে হেরে বাড়ি বাড়ি ঘুরে টাকা ফেরত চাইছেন প্রার্থীর স্ত্রী

ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যে পৌর নির্বাচনে পরাজয়ের পর এক প্রার্থীর পরিবারের কর্মকাণ্ড ঘিরে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, এক প্রার্থীর স্ত্রী বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের কাছ থেকে টাকা ফেরত চাইছেন বলে অভিযোগ