দিন দিন রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের বিরোধিতা বেড়ে চলেছে। যুদ্ধ শুরুর এক বছর হতে চলছে।
অথচ এই যুদ্ধ থামানোর জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টার চেয়ে হুমকি ধামকি এবং অস্ত্র সহায়তা যুদ্ধকে আরো তীব্র করেছে।
এই যুদ্ধের ফলে শুধু দুটি দেশ নয়, পুরো বিশ্বের মানুষকে ফল ভোগ করতে হচ্ছে। দ্রব্যমূল্যের বাড়তি দাম, জ্বালানি সংকটের তীব্রতা- সব মিলিয়ে বিশ্ব এক নজিরবিহীন সংকটের দিকে ধাবিত হচ্ছে।
এমন পরিস্থিতিতে বিশ্ব নেতাদের উচিত ছিল যুদ্ধ বন্ধের জন্য গভীরভাবে কাজ করা। দুই দেশের জন্যই সুবিধা হয় এমন কোনো নীতিমালা তৈরি করা।
কিন্তু এসব না করে বিশ্ব নেতারা যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করার সকল আয়োজন করে চলেছেন।
একদিকে পুতিন সর্বাত্নক যুদ্ধের জন্য নতুন কৌশলে রুশ সেনাদের উজ্জীবিত করছেন।
অন্যদিকে পশ্চিমা দেশগুলো ইউক্রেনকে মারণাস্ত্র ও আধুনিক ট্যাংক দিয়ে শক্তির পাল্লা ভারী করছে।
জেলেনস্কি তার পশ্চিমা মিত্রদের প্রতি আহবান জানাচ্ছেন, যেন তার দেশকে সহযোগিতা অব্যাহত রাখা হয়।
তিনি যুদ্ধবিমান, লেপার্ড-টু ট্যাংক, সাবমেরিন সহ অত্যাধুনিক অস্ত্র দেওয়ার জন্য মিত্র দেশগুলোকে আহবান করেছেন।
অন্যের সহযোগিতা নিয়ে আর কতদিন ইউক্রেন চলবে? ইউক্রেন আদৌ কতটা জয়ী হতে পারবে? এমন প্রশ্ন বিশ্ববাসীর মনে সংশয় বাড়াচ্ছে।
বিশ্বের মানুষ কমবেশি অনেক যুদ্ধ দেখেছে। বিশেষ করে ইউরোপীয়দের এ ব্যাপারে বেশি অভিজ্ঞতা রয়েছে। ১ম ও ২য় বিশ্বযুদ্ধ কিংবা বলকান যুদ্ধের বিভীষিকা তাদের হৃদয় থেকে মুছে যায়নি।
দীর্ঘ অভিজ্ঞতা তাদেরকে ইউক্রেনে আমেরিকান যুদ্ধ নীতি নিয়ে সমালোচনায় উৎসাহিত করছে।
ইউক্রেনকে লেপার্ড টু ট্যাংক দেয়ার সিদ্ধান্তে জার্মানি জুড়ে সাধারণ নাগরিকরা বিক্ষোভ করেছেন।
তারা মনে করছেন, এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র জার্মানিকে ব্যবহার করছে। বিশেষজ্ঞরা ইউরোপ জুড়ে স্নায়ুযুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন।
এমনিতেই রাশিয়ার গ্যাস না পাওয়ায় ইউরোপের জনগণকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
এই সুযোগে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো জ্বালানির দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। ইউরোপের যোগান নিশ্চিত করতে গিয়ে এশিয়ার উন্নয়নশীল দেশে জ্বালানি সংকট তৈরি হচ্ছে। এর ফলে কেউ উপকৃত হলেও অন্যরা সংকটে পড়ছে।
জার্মানি তরল গ্যাস মজুত করার টার্মিনাল স্থাপন করেছে। জ্বালানি নিয়ে দেশে যেন অসন্তোষ না বাড়ে এজন্য জার্মানি কম আয়ের মানুষদের ভর্তুকি দিয়েছে। জ্বালানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকেও বাড়তি অর্থ সহায়তা দিয়েছে দেশটি।
জার্মানির মতো ইউরোপের অন্য দেশগুলোতে এমন ভর্তুকি দেয়া হয়নি। এর ফলে সেইসব দেশের জনগণকে বেশি দামে জ্বালানির ব্যবস্থা করতে হচ্ছে। এটা করতে গিয়ে অনেক দেশের জনগণই নাকাল হয়ে পড়ছেন।
ইউরোপের অনেক অভিজ্ঞ কূটনীতিবিদরা এই যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ শুরু করেছেন।
তারা বলছেন, নৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে ইউক্রেনকে সমর্থন দেয়া সঠিক। কিন্তু তাদের অস্ত্র সহায়তা দেয়া কোনোভাবেই ভালো হয়নি।
রাশিয়ার অভিযান আন্তর্জাতিকভাবে সমর্থনযোগ্য নয়। তবুও এই যুদ্ধের সমাধান আলাপ আলোচনার পথ ধরেই আসতে পারতো।
পশ্চিমাদের অধিক সক্রিয়তা ও রাশিয়ার বাড়াবাড়ি পরিস্থিতিকে দিন দিন জটিল করে ফেলছে।
এদিকে মার্কিন প্রশাসনের এক উর্ধতন কর্মকর্তা রাশিয়া ইউক্রেনের চলমান এই যুদ্ধকে মানবজাতির অর্থহীন অপচয় বলে অভিহিত করেন।
তার এই বক্তব্যের কারণে তিনি নিজ দেশেও ব্যাপক সমালোচিত হয়েছেন।
ইউরোপের অধিকাংশ নাগরিক মনে করেন, এই যুদ্ধ জেদ ও ক্ষোভ থেকে শুরু হয়েছে। এজন্য এর সমাধান একমাত্র আলোচনার টেবিলেই সম্ভব, অন্যত্র নয়।
অস্ত্র পাঠিয়ে এই যুদ্ধের তীব্রতাকে পশ্চিমারা নতুন করে উসকে দিচ্ছে। এমন অবস্থা চলতে থাকলে বিশ্বের মানুষ অচিরেই বড় বিপদের সম্মুখীন হবে।