আন্তর্জাতিক


ইউরোপ জুড়ে রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের বিরোধীতা বাড়ছে কেন?


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:৩০ জানুয়ারি ২০২৩, ১০:৫৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার

ইউরোপ জুড়ে রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের বিরোধীতা বাড়ছে কেন?

দিন দিন রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের বিরোধিতা বেড়ে চলেছে। যুদ্ধ শুরুর এক বছর হতে চলছে। 

অথচ এই যুদ্ধ থামানোর জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টার চেয়ে হুমকি ধামকি এবং অস্ত্র সহায়তা যুদ্ধকে আরো তীব্র করেছে। 

এই যুদ্ধের ফলে শুধু দুটি দেশ নয়, পুরো বিশ্বের মানুষকে ফল ভোগ করতে হচ্ছে। দ্রব্যমূল্যের বাড়তি দাম, জ্বালানি সংকটের তীব্রতা- সব মিলিয়ে বিশ্ব এক নজিরবিহীন সংকটের দিকে ধাবিত হচ্ছে। 

এমন পরিস্থিতিতে বিশ্ব নেতাদের উচিত ছিল যুদ্ধ বন্ধের জন্য গভীরভাবে কাজ করা। দুই দেশের জন্যই সুবিধা হয় এমন কোনো নীতিমালা তৈরি করা। 

কিন্তু এসব না করে বিশ্ব নেতারা যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করার সকল আয়োজন করে চলেছেন।

একদিকে পুতিন সর্বাত্নক যুদ্ধের জন্য নতুন কৌশলে রুশ সেনাদের উজ্জীবিত করছেন। 

অন্যদিকে পশ্চিমা দেশগুলো ইউক্রেনকে মারণাস্ত্র ও আধুনিক ট্যাংক দিয়ে শক্তির পাল্লা ভারী করছে। 

 জেলেনস্কি তার পশ্চিমা মিত্রদের প্রতি আহবান জানাচ্ছেন, যেন তার দেশকে সহযোগিতা অব্যাহত রাখা হয়। 

তিনি যুদ্ধবিমান, লেপার্ড-টু ট্যাংক, সাবমেরিন সহ অত্যাধুনিক অস্ত্র দেওয়ার জন্য মিত্র দেশগুলোকে আহবান করেছেন। 

অন্যের সহযোগিতা নিয়ে আর কতদিন ইউক্রেন চলবে? ইউক্রেন আদৌ কতটা জয়ী হতে পারবে? এমন প্রশ্ন বিশ্ববাসীর মনে সংশয় বাড়াচ্ছে। 

বিশ্বের মানুষ কমবেশি অনেক যুদ্ধ দেখেছে। বিশেষ করে ইউরোপীয়দের এ ব্যাপারে বেশি অভিজ্ঞতা রয়েছে। ১ম ও ২য় বিশ্বযুদ্ধ কিংবা বলকান যুদ্ধের বিভীষিকা তাদের হৃদয় থেকে মুছে যায়নি। 

 দীর্ঘ অভিজ্ঞতা তাদেরকে ইউক্রেনে আমেরিকান যুদ্ধ নীতি নিয়ে সমালোচনায় উৎসাহিত করছে। 

ইউক্রেনকে লেপার্ড টু ট্যাংক দেয়ার সিদ্ধান্তে জার্মানি জুড়ে সাধারণ নাগরিকরা বিক্ষোভ করেছেন। 

তারা মনে করছেন, এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র জার্মানিকে ব্যবহার করছে। বিশেষজ্ঞরা ইউরোপ জুড়ে স্নায়ুযুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন। 

এমনিতেই রাশিয়ার গ্যাস না পাওয়ায় ইউরোপের জনগণকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। 

এই সুযোগে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো জ্বালানির দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। ইউরোপের যোগান নিশ্চিত করতে গিয়ে এশিয়ার উন্নয়নশীল দেশে জ্বালানি সংকট তৈরি হচ্ছে। এর ফলে কেউ উপকৃত হলেও অন্যরা সংকটে পড়ছে। 

জার্মানি তরল গ্যাস মজুত করার টার্মিনাল স্থাপন করেছে। জ্বালানি নিয়ে দেশে যেন অসন্তোষ না বাড়ে এজন্য জার্মানি  কম আয়ের মানুষদের ভর্তুকি দিয়েছে। জ্বালানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকেও বাড়তি অর্থ সহায়তা দিয়েছে দেশটি। 

জার্মানির মতো ইউরোপের অন্য দেশগুলোতে এমন ভর্তুকি দেয়া হয়নি। এর ফলে সেইসব দেশের জনগণকে বেশি দামে জ্বালানির ব্যবস্থা করতে হচ্ছে। এটা করতে গিয়ে অনেক দেশের জনগণই নাকাল হয়ে পড়ছেন।  

ইউরোপের অনেক অভিজ্ঞ কূটনীতিবিদরা এই যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ শুরু করেছেন।

তারা বলছেন, নৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে ইউক্রেনকে সমর্থন দেয়া সঠিক। কিন্তু তাদের অস্ত্র সহায়তা দেয়া কোনোভাবেই ভালো হয়নি। 

রাশিয়ার অভিযান আন্তর্জাতিকভাবে সমর্থনযোগ্য নয়। তবুও এই যুদ্ধের সমাধান আলাপ আলোচনার পথ ধরেই আসতে পারতো। 

পশ্চিমাদের অধিক সক্রিয়তা ও রাশিয়ার বাড়াবাড়ি পরিস্থিতিকে দিন দিন জটিল করে ফেলছে। 

এদিকে মার্কিন প্রশাসনের এক উর্ধতন কর্মকর্তা রাশিয়া ইউক্রেনের চলমান এই যুদ্ধকে মানবজাতির অর্থহীন অপচয় বলে অভিহিত করেন।

তার এই বক্তব্যের কারণে তিনি নিজ দেশেও ব্যাপক সমালোচিত হয়েছেন। 

ইউরোপের অধিকাংশ নাগরিক মনে করেন, এই যুদ্ধ জেদ ও ক্ষোভ থেকে শুরু হয়েছে। এজন্য এর সমাধান একমাত্র আলোচনার টেবিলেই সম্ভব, অন্যত্র নয়। 

অস্ত্র পাঠিয়ে এই যুদ্ধের তীব্রতাকে পশ্চিমারা নতুন করে উসকে দিচ্ছে। এমন অবস্থা চলতে থাকলে বিশ্বের  মানুষ অচিরেই বড় বিপদের সম্মুখীন হবে।


 



জনপ্রিয়


আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন

খামেনি ও তার ছেলেকে হত্যার পরিকল্পনা

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘিরে নতুন করে যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে একটি নতুন চুক্তিতে রাজি হওয়ার আহ্বান জানিয়ে সতর্ক করেছেন শর্ত না মানলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। চুক্তিতে সম্মত হওয়ার জন্য ইরানকে ১০ দিনের সময়সীমা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

গাজার পুনর্গঠনে ৭০০ কোটি ডলার: ‘শান্তি পর্ষদ’ বৈঠকে ট্রাম্পের ঘোষণা

ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত তথাকথিত ‘শান্তি পর্ষদ’–এর প্রথম বৈঠকে ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজা উপত্যকার পুনর্গঠনের জন্য ৭০০ কোটি ডলারের তহবিল প্রতিশ্রুতির কথা জানান। তাঁর দাবি, ৯টি সদস্যরাষ্ট্র প্রাথমিকভাবে এ তহবিলে অর্থ দিতে সম্মত হয়েছে। একই সঙ্গে গাজায় একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েনে পাঁচটি দেশ নীতিগত সম্মতি দিয়েছে।

‘হাড় না ভাঙা’ পর্যন্ত স্ত্রীকে মারার অনুমোদন- আফগানিস্তানে নতুন আইন ঘিরে বিতর্ক

নারীদের বিরুদ্ধে নতুন কড়া আইন জারির অভিযোগ উঠেছে আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের বিরুদ্ধে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেন্ডেন্ট-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির নতুন ফৌজদারি আইনে স্বামীদের স্ত্রী ও সন্তানদের শারীরিকভাবে শাস্তি দেওয়ার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যা পারিবারিক সহিংসতাকে কার্যত বৈধতা দিচ্ছে বলে সমালোচকরা দাবি করছেন।

ভোটে হেরে বাড়ি বাড়ি ঘুরে টাকা ফেরত চাইছেন প্রার্থীর স্ত্রী

ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যে পৌর নির্বাচনে পরাজয়ের পর এক প্রার্থীর পরিবারের কর্মকাণ্ড ঘিরে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, এক প্রার্থীর স্ত্রী বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের কাছ থেকে টাকা ফেরত চাইছেন বলে অভিযোগ