বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তি চিনের হাতে রয়েছে এমন একটি বিমান, যেটি আকাশে উড়ার পাশাপাশি পানিতেও চলাচল করতে পারে।
সাধারন বিমানের মতো ভুমির রানওয়ে ব্যবহার করে এই বিমান, আবার প্রয়োজনে এটি সাগরের পানি থেকেও আকাশে উঠানামা করতে সক্ষম।
গত কয়েক দশকে এভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রিতে অসামান্য অগ্রগতি অর্জন করেছে চীন।
অসংখ্য চালকবিহীন ড্রোনের পাশাপাশি তৈরি করেছে বিশাল যাত্রীবাহী বিমান। তবে এর মাঝেও তাদের সেরা আবিস্কার, পানিতে উঠানামা করতে সক্ষম এই বিমানটি।
চীনের তৈরি উভচর এই বিমানের নাম 'কুমলং এজি সিক্স হান্ড্রেড'। দেশটির দাবি, বর্তমানে এটিই পৃথিবীর সবচেয়ে বড় উভচর বিমান, যেটি জলে স্থলে দু' জায়গাতেই উঠানামা করতে সক্ষম।
চীনের এই বিমান 'বোয়িং 737' এর মতোই বিশাল আকারের। এটির দৈর্ঘ প্রায় ৩৯ মিটার বা ১২০ ফুটের কাছাকাছি। আর উচ্চতা প্রায় ৪০ ফুট। এতে করে প্রায় ৫০ জন যাত্রী ভ্রমন করতে সক্ষম।
তবে চীনের এই বিমানের মূল্য উদ্দেশ্য যাত্রী বহন নয়। বরং বহুমুখী উদ্দেশ্য সামনে রেখে ডিজাইন করা হয়েছে বিস্ময়কর এই বিমানটি।
চীনের এই বিমান ব্যবহার হবে অগ্নি নিবার্পন কাজে, এজন্য বিমানে রয়েছে বিশাল পরিমান পানি বহনের ব্যবস্থা। ফলে দাবানল কিংবা অন্য কোন দুর্যোগে এই বিমানটি খুবই কার্যকরী ভুমিকা রাখবে।
আবার সামুদ্রিক উদ্ধার কাজেও ব্যবহৃত হবে 'এজি সিক্স হান্ড্রেড এয়ারক্রাফট'। জাহাজ কিংবা নৌকাডুবির ঘটনায় দ্রুত উদ্ধার অভিযান জরুরি হয়ে পড়ে। তখন ধীরগতির কারণে নৌযান খুব একটা কার্যকরী হয়না।
এক্ষেত্রে চীনের এই উভচর বিমান খুবই কার্যকরী হবে। বিমানটি পানিতে উঠানামা করতে সক্ষম হবার কারণে সহজেই উদ্ধার অভিযানে অংশ নিতে পারবে।
শুধু তাই নয়, চীনের অত্যাধুনিক এই বিমান সামরিক ক্ষেত্রেও কাজে লাগবে। বিমানটিতে দেশটির অত্যাধুনিক কিছু সামরিক প্রযুক্তিও রাখা হয়েছে।
ফলে সমুদ্র সীমানায় এটি দেশটির অন্যতম ভরসা হয়ে উঠবে।
বর্তমানে তাইওয়ান সহ অনেক সাথেই চীনের বিরোধ চলছে। কখনো এরকম কোন দেশের সাথে যুদ্ধ বেধে গেলে চীনের অন্যতম অস্ত্র হবে উভচর এই বিমানটি।
'কুমলং এজি সিক্স হান্ড্রেড' এয়ারক্রাফট মাত্র একবার জ্বালানি নিয়ে বারো ঘন্টা পর্যন্ত আকাশে ভেসে থাকতে পারে। এ কারণে দেশটির সমুদ্র সীমার শেষ পর্যন্ত পাহারা দিতে সক্ষম হবে এটি।
২০১৬ সালে বিমানটি তৈরি করে চীনের রাষ্ট্রীয় একটি সংস্থা। এর পরের বছর সফল ভাবে আকাশে উড্ডয়ন করে এটি।
গত কয়েক বছর বিমানটির বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা চালানো হয়েছে। স্থলে অবস্থিত রানওয়ের পাশাপাশি সাগর থেকেও আকাশে উড়ানো হয়েছে বিমানটি।
সকল ক্ষেত্রেই সফল ভাবে উঠানামা করেছে এজি সিক্স হান্ড্রেড এয়ারক্রাফট।
প্রায় এক যুগ আগে ২০০৯ সালে, উভচর এই বিমান তৈরির পরিকল্পনা অনুমোদন করে দেশটির সরকার। এই লক্ষে একত্রে কাজ করে দেশটির ৭০ টি প্রতিষ্ঠান।
এছাড়া বিভিন্ন ইন্সটিটিউট সহ চীনের ২০ টি রাজ্য জড়িত ছিলো, এটি নির্মানের পেছনে। দীর্ঘ আট বছর প্রচেষ্টার পর অবশেষে বিমানটি তৈরিতে সফল হয় চীন।
এরপর একাধিক এয়ার-শোতে বিমানটি প্রদর্শন করা হয়েছে।
এতে করে আন্তর্জাতিক মহলেরও নজর কেড়েছে 'এজি সিক্স হান্ড্রেড এয়ারক্রাফট'। ইতিমধ্যেই বেশ কিছু দেশ বিমানটি কেনার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছে।