আন্তর্জাতিক


চীনের বিস্ময়কর উভচর বিমান, চলতে পারে পানিতেও


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:৩০ জানুয়ারি ২০২৩, ০৩:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার

চীনের বিস্ময়কর উভচর বিমান, চলতে পারে পানিতেও

বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তি চিনের হাতে রয়েছে এমন একটি বিমান, যেটি আকাশে উড়ার পাশাপাশি পানিতেও চলাচল করতে পারে। 

সাধারন বিমানের মতো ভুমির রানওয়ে ব্যবহার করে এই বিমান, আবার প্রয়োজনে এটি সাগরের পানি থেকেও আকাশে উঠানামা করতে সক্ষম। 

গত কয়েক দশকে এভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রিতে অসামান্য অগ্রগতি অর্জন করেছে চীন। 

অসংখ্য চালকবিহীন ড্রোনের পাশাপাশি তৈরি করেছে বিশাল যাত্রীবাহী বিমান। তবে এর মাঝেও তাদের সেরা আবিস্কার, পানিতে উঠানামা করতে সক্ষম এই বিমানটি। 

চীনের তৈরি উভচর এই বিমানের নাম 'কুমলং এজি সিক্স হান্ড্রেড'।  দেশটির দাবি, বর্তমানে এটিই পৃথিবীর সবচেয়ে বড় উভচর বিমান, যেটি জলে স্থলে দু' জায়গাতেই উঠানামা করতে সক্ষম। 

চীনের এই বিমান 'বোয়িং 737' এর মতোই বিশাল আকারের। এটির দৈর্ঘ প্রায় ৩৯ মিটার বা ১২০ ফুটের কাছাকাছি। আর উচ্চতা প্রায় ৪০ ফুট। এতে করে প্রায় ৫০ জন যাত্রী ভ্রমন করতে সক্ষম। 

তবে চীনের এই বিমানের মূল্য উদ্দেশ্য যাত্রী বহন নয়। বরং বহুমুখী উদ্দেশ্য সামনে রেখে ডিজাইন করা হয়েছে  বিস্ময়কর এই বিমানটি। 

চীনের এই বিমান ব্যবহার হবে অগ্নি নিবার্পন কাজে, এজন্য বিমানে রয়েছে বিশাল পরিমান পানি বহনের ব্যবস্থা। ফলে দাবানল কিংবা অন্য কোন দুর্যোগে এই বিমানটি খুবই কার্যকরী ভুমিকা রাখবে। 

আবার সামুদ্রিক উদ্ধার কাজেও ব্যবহৃত হবে 'এজি সিক্স হান্ড্রেড এয়ারক্রাফট'। জাহাজ কিংবা নৌকাডুবির ঘটনায় দ্রুত উদ্ধার অভিযান জরুরি হয়ে পড়ে। তখন ধীরগতির কারণে নৌযান খুব একটা কার্যকরী হয়না। 

এক্ষেত্রে চীনের এই উভচর বিমান খুবই কার্যকরী হবে। বিমানটি পানিতে উঠানামা করতে সক্ষম হবার কারণে সহজেই উদ্ধার অভিযানে অংশ নিতে পারবে। 

শুধু তাই নয়, চীনের অত্যাধুনিক এই বিমান সামরিক ক্ষেত্রেও কাজে লাগবে। বিমানটিতে দেশটির অত্যাধুনিক কিছু সামরিক প্রযুক্তিও রাখা হয়েছে। 

ফলে সমুদ্র সীমানায় এটি দেশটির অন্যতম ভরসা হয়ে উঠবে। 

বর্তমানে তাইওয়ান সহ অনেক সাথেই চীনের বিরোধ চলছে। কখনো এরকম কোন দেশের সাথে যুদ্ধ বেধে গেলে চীনের অন্যতম অস্ত্র হবে উভচর এই বিমানটি। 

'কুমলং এজি সিক্স হান্ড্রেড' এয়ারক্রাফট মাত্র একবার জ্বালানি নিয়ে বারো ঘন্টা পর্যন্ত আকাশে ভেসে থাকতে পারে। এ কারণে দেশটির সমুদ্র সীমার শেষ পর্যন্ত পাহারা দিতে সক্ষম হবে এটি। 

২০১৬ সালে বিমানটি তৈরি করে চীনের রাষ্ট্রীয় একটি সংস্থা। এর পরের বছর সফল ভাবে আকাশে উড্ডয়ন করে এটি। 

গত কয়েক বছর বিমানটির বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা চালানো হয়েছে। স্থলে অবস্থিত রানওয়ের পাশাপাশি সাগর থেকেও আকাশে উড়ানো হয়েছে বিমানটি। 

সকল ক্ষেত্রেই সফল ভাবে উঠানামা করেছে এজি সিক্স হান্ড্রেড এয়ারক্রাফট। 

প্রায় এক যুগ আগে ২০০৯ সালে, উভচর এই বিমান তৈরির পরিকল্পনা অনুমোদন করে দেশটির সরকার। এই লক্ষে একত্রে কাজ করে দেশটির ৭০ টি প্রতিষ্ঠান।  

এছাড়া বিভিন্ন ইন্সটিটিউট সহ চীনের ২০ টি রাজ্য জড়িত ছিলো, এটি নির্মানের পেছনে। দীর্ঘ আট বছর প্রচেষ্টার পর অবশেষে বিমানটি তৈরিতে সফল হয় চীন। 

এরপর একাধিক এয়ার-শোতে বিমানটি প্রদর্শন করা হয়েছে। 

এতে করে আন্তর্জাতিক মহলেরও নজর কেড়েছে 'এজি সিক্স হান্ড্রেড এয়ারক্রাফট'। ইতিমধ্যেই বেশ কিছু দেশ বিমানটি কেনার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছে। 












জনপ্রিয়


আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন

কোরবানি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের উদাহরণ টানলেন হায়দরাবাদের ইসলামিক স্কলার

ভারতের হায়দরাবাদ–এর ইসলামিক স্কলার মাওলানা মোহাম্মদ জাফর পাশা কোরবানির পশু নিয়ে মুসলিমদের হেনস্তার অভিযোগ তুলে পশ্চিমবঙ্গের মুসলিমদের উদাহরণ অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছেন।

আল-আকসা প্রাঙ্গণে পশু জবাইয়ের চেষ্টায় আটক ১৩

পবিত্র আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে ইহুদি ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী পশু জবাইয়ের চেষ্টা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে ১৩ জনকে আটক করেছে ইসরায়েলি পুলিশ। শুক্রবার ইহুদিদের ধর্মীয় উৎসব শাভুত উপলক্ষে এ ঘটনা ঘটে।

এএপিআই হেরিটেজ মাসে নিউ জার্সি সিনেটের সম্মাননা পেলেন বাংলাদেশি-আমেরিকান অধ্যাপক শোয়েব ভূঁইয়া

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে এশিয়ান আমেরিকান অ্যান্ড প্যাসিফিক আইল্যান্ডার (এএপিআই) হেরিটেজ মাস উপলক্ষে বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন বাংলাদেশি-আমেরিকান অধ্যাপক শোয়েব আহমেদ ভূঁইয়া। নিউ জার্সি স্টেট সিনেট ও জেনারেল অ্যাসেম্বলির পক্ষ থেকে তাকে যৌথ আইনসভা প্রস্তাবনার (Joint Legislative Resolution) মাধ্যমে এ সম্মাননা দেওয়া হয়। তিনি প্রথম বাংলাদেশি-আমেরিকান হিসেবে এই মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি অর্জন করলেন।

বিজেপিকে ছাড়িয়ে ভাইরাল “তেলাপোকা পার্টি”

ভারতে হঠাৎ করেই তুমুল আলোচনায় উঠে এসেছে একটি ব্যতিক্রমধর্মী অনলাইন আন্দোলন “ককরোচ জনতা পার্টি” বা সিজেপি। কয়েকদিন আগেও যেটিকে অনেকে নিছক মিম, ট্রল কিংবা ব্যঙ্গাত্মক ক্যাম্পেইন হিসেবে দেখছিলেন, সেটিই এখন দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে অস্বস্তির বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে ফলোয়ার সংখ্যার দিক থেকে এই নতুন আন্দোলন ইতোমধ্যেই ক্ষমতাসীন বিজেপিকেও ছাড়িয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত সিজেপির অনুসারী সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ কোটি ২২ লাখে, যেখানে বিজেপির অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে রয়েছে প্রায় ৮৭ লাখ ফলোয়ার। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে এমন বিস্ফোরক উত্থান ভারতের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।