আন্তর্জাতিক


বিয়ে ছাড়াই নারীদের সন্তান নেয়ার অনুমতি দিলো চীন।


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০১:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার

বিয়ে ছাড়াই নারীদের সন্তান নেয়ার অনুমতি দিলো চীন।

জনসংখ্যা বাড়াতে এবার বিয়ে ছাড়াই নারীদের সন্তান নেয়ার অনুমতি দিলো চীন। 

বিশ্বের সবচাইতে বেশি জনসংখ্যার দেশ হয়েও জনসংখ্যা নিয়ে বিপাকে পড়তে হয়েছে দেশটিকে।

বিগত ৬০ বছরের মধ্যে গত বছর প্রথম বারের মত, চীনের জম্ম হারের তুলনায় মৃত্যু হারের পরিমান ছিলো বেশি। অর্থাৎ , দেশটিতে গত বছর যতজন জম্মগ্রহন করেছে তার চাইতে বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

২০২২ সালে দেশটির জনসংখ্যা হ্রাস পেয়েছে প্রায় শূন্য দশমিক শূন্য ছয় শতাংশ। 

ধারণা করা হচ্ছে দ্রুতই জনসংখ্যার দিক থেকে চীনকে ছাড়িয়ে যাবে ভারত। যা নিয়ে উদ্বিগ্ন দেশটির সরকার।

তাই জনসংখ্যা বাড়াতে এবার বেশকিছু পদক্ষেপ নিয়েছে দেশটি। যার অংশ হিসেবে সিচুয়ান প্রদেশে বিয়ে ছাড়া সন্তান জম্ম দেয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা তুলে দিয়েছে তারা।

প্রায় ৮০ মিলিয়ন মানুষ বসবাস করা প্রদেশটিতে এতোদিন অবিবাহিতরা সন্তান গ্রহন করতে পারতো না। গ্রহন করলেও বিবাহিতদের মত রাষ্ট্রীয় কোনো সুযোগ সুবিধা মিলতো না তাদের।

তবে জনসংখ্যা বৃদ্ধির উদ্যোগ হিসেবে-
গত সোমবার অবিবাহিতদের সন্তান গ্রহনের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয় প্রদেশটির হেলথ কমিশন।

এখন থেকে প্রদেশটিতে অবিবাহিত দম্পতিরা বিয়ে করা ছাড়াই সন্তান নিতে পারবেন। সেই সাথে বিবাহিত দম্পতিদের মত সন্তান গ্রহনের জন্য রাষ্ট্রীয় সকল সুযোগ সুবিধাও লাভ করবেন।

যদিও দেশটির জাতীয় প্রজনন নীতিমালা অনুযায়ী অবিবাহিতদের সন্তান গ্রহনে সরাসরি কোনো নিষেধাজ্ঞা ছিলো না।

কিন্তু প্রদেশটিতে বিয়ের প্রমাণ ছাড়া প্রসবপূর্ব স্বাস্থ্যসেবা, মাতৃত্বাকালীন ছুটির সময় মায়ের বেতন-  এবং চাকরির সুরক্ষাসহ বিনামূল্যে বিভিন্ন পরিষেবা দেয়া হতো না।

এমনকি অবিবাহিতরা সন্তানের জম্ম নিবন্ধন করার মাধ্যমে 'হুকোও' সেবা লাভের জন্য গুনতে হতো মোটা অংকের জরিমানা। হুকোও এর মাধ্যমেই চাইনিজ শিশুরা শিক্ষা ও সামাজিক সেবা পেয়ে থাকে।

তবে এখন থেকে আর এই সেবা পাওয়ার জন্য জরিমানা দেয়া লাগবে না তাদের। জনসংখ্যা বৃদ্ধির জন্য অবিবাহিতদের পাশাপাশি বিবাহিতদের জন্যও অনেক পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

২০১৬ সালে এক সন্তান নীতি প্রত্যাহার করার পর  থেকে, এতোদিন দুটি সন্তান নিতে পারতেন সিচুয়ানের বিবাহিত দম্পতিরা। তবে এখন থেকে যত খুশি তত সন্তান নিতে পারবেন তারা।

মূলত জনসংখ্যা হ্রাস এবং বৃদ্ধ মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায়, জনসংখ্যা বাড়ানোর জন্য নানা উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে প্রদেশটির স্থানীয় সরকারের পক্ষ থেকে।

প্রদেশটিতে ২০২১ সাল থেকে সন্তান গ্রহনে আগ্রহী করতে, দম্পতিদের ২য় কিংবা ৩য় সন্তানের বয়স ৩ বছর হওয়া পর্যন্ত মাসিক ভাতার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

একটা সময় পর্যন্ত এক সন্তান নীতির মাধ্যমে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করার কারনে, চীনে এমনিতেই জনসংখ্যার পরিমান কমতে শুরু করেছে।

তার উপর চীনের যুবতী নারীরা দিনদিন বিয়ে এবং সন্তান নেয়ার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। পুরো বিশ্বে চীনা নারীদের সন্তান নেয়ার ইচ্ছা সবচাইতে কম।

চীনা তরুণ তরুণীদের বিয়ের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলার কারন হিসেবে উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয়, কম মজুরি, ও দীর্ঘ কর্মঘন্টাকে দায়ী করা হচ্ছে।

সোর্স









জনপ্রিয়


আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন

কোরবানি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের উদাহরণ টানলেন হায়দরাবাদের ইসলামিক স্কলার

ভারতের হায়দরাবাদ–এর ইসলামিক স্কলার মাওলানা মোহাম্মদ জাফর পাশা কোরবানির পশু নিয়ে মুসলিমদের হেনস্তার অভিযোগ তুলে পশ্চিমবঙ্গের মুসলিমদের উদাহরণ অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছেন।

আল-আকসা প্রাঙ্গণে পশু জবাইয়ের চেষ্টায় আটক ১৩

পবিত্র আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে ইহুদি ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী পশু জবাইয়ের চেষ্টা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে ১৩ জনকে আটক করেছে ইসরায়েলি পুলিশ। শুক্রবার ইহুদিদের ধর্মীয় উৎসব শাভুত উপলক্ষে এ ঘটনা ঘটে।

এএপিআই হেরিটেজ মাসে নিউ জার্সি সিনেটের সম্মাননা পেলেন বাংলাদেশি-আমেরিকান অধ্যাপক শোয়েব ভূঁইয়া

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে এশিয়ান আমেরিকান অ্যান্ড প্যাসিফিক আইল্যান্ডার (এএপিআই) হেরিটেজ মাস উপলক্ষে বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন বাংলাদেশি-আমেরিকান অধ্যাপক শোয়েব আহমেদ ভূঁইয়া। নিউ জার্সি স্টেট সিনেট ও জেনারেল অ্যাসেম্বলির পক্ষ থেকে তাকে যৌথ আইনসভা প্রস্তাবনার (Joint Legislative Resolution) মাধ্যমে এ সম্মাননা দেওয়া হয়। তিনি প্রথম বাংলাদেশি-আমেরিকান হিসেবে এই মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি অর্জন করলেন।

বিজেপিকে ছাড়িয়ে ভাইরাল “তেলাপোকা পার্টি”

ভারতে হঠাৎ করেই তুমুল আলোচনায় উঠে এসেছে একটি ব্যতিক্রমধর্মী অনলাইন আন্দোলন “ককরোচ জনতা পার্টি” বা সিজেপি। কয়েকদিন আগেও যেটিকে অনেকে নিছক মিম, ট্রল কিংবা ব্যঙ্গাত্মক ক্যাম্পেইন হিসেবে দেখছিলেন, সেটিই এখন দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে অস্বস্তির বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে ফলোয়ার সংখ্যার দিক থেকে এই নতুন আন্দোলন ইতোমধ্যেই ক্ষমতাসীন বিজেপিকেও ছাড়িয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত সিজেপির অনুসারী সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ কোটি ২২ লাখে, যেখানে বিজেপির অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে রয়েছে প্রায় ৮৭ লাখ ফলোয়ার। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে এমন বিস্ফোরক উত্থান ভারতের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।