জনসংখ্যা বাড়াতে এবার বিয়ে ছাড়াই নারীদের সন্তান নেয়ার অনুমতি দিলো চীন।
বিশ্বের সবচাইতে বেশি জনসংখ্যার দেশ হয়েও জনসংখ্যা নিয়ে বিপাকে পড়তে হয়েছে দেশটিকে।
বিগত ৬০ বছরের মধ্যে গত বছর প্রথম বারের মত, চীনের জম্ম হারের তুলনায় মৃত্যু হারের পরিমান ছিলো বেশি। অর্থাৎ , দেশটিতে গত বছর যতজন জম্মগ্রহন করেছে তার চাইতে বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
২০২২ সালে দেশটির জনসংখ্যা হ্রাস পেয়েছে প্রায় শূন্য দশমিক শূন্য ছয় শতাংশ।
ধারণা করা হচ্ছে দ্রুতই জনসংখ্যার দিক থেকে চীনকে ছাড়িয়ে যাবে ভারত। যা নিয়ে উদ্বিগ্ন দেশটির সরকার।
তাই জনসংখ্যা বাড়াতে এবার বেশকিছু পদক্ষেপ নিয়েছে দেশটি। যার অংশ হিসেবে সিচুয়ান প্রদেশে বিয়ে ছাড়া সন্তান জম্ম দেয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা তুলে দিয়েছে তারা।
প্রায় ৮০ মিলিয়ন মানুষ বসবাস করা প্রদেশটিতে এতোদিন অবিবাহিতরা সন্তান গ্রহন করতে পারতো না। গ্রহন করলেও বিবাহিতদের মত রাষ্ট্রীয় কোনো সুযোগ সুবিধা মিলতো না তাদের।
তবে জনসংখ্যা বৃদ্ধির উদ্যোগ হিসেবে-
গত সোমবার অবিবাহিতদের সন্তান গ্রহনের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয় প্রদেশটির হেলথ কমিশন।
এখন থেকে প্রদেশটিতে অবিবাহিত দম্পতিরা বিয়ে করা ছাড়াই সন্তান নিতে পারবেন। সেই সাথে বিবাহিত দম্পতিদের মত সন্তান গ্রহনের জন্য রাষ্ট্রীয় সকল সুযোগ সুবিধাও লাভ করবেন।
যদিও দেশটির জাতীয় প্রজনন নীতিমালা অনুযায়ী অবিবাহিতদের সন্তান গ্রহনে সরাসরি কোনো নিষেধাজ্ঞা ছিলো না।
কিন্তু প্রদেশটিতে বিয়ের প্রমাণ ছাড়া প্রসবপূর্ব স্বাস্থ্যসেবা, মাতৃত্বাকালীন ছুটির সময় মায়ের বেতন- এবং চাকরির সুরক্ষাসহ বিনামূল্যে বিভিন্ন পরিষেবা দেয়া হতো না।
এমনকি অবিবাহিতরা সন্তানের জম্ম নিবন্ধন করার মাধ্যমে 'হুকোও' সেবা লাভের জন্য গুনতে হতো মোটা অংকের জরিমানা। হুকোও এর মাধ্যমেই চাইনিজ শিশুরা শিক্ষা ও সামাজিক সেবা পেয়ে থাকে।
তবে এখন থেকে আর এই সেবা পাওয়ার জন্য জরিমানা দেয়া লাগবে না তাদের। জনসংখ্যা বৃদ্ধির জন্য অবিবাহিতদের পাশাপাশি বিবাহিতদের জন্যও অনেক পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।
২০১৬ সালে এক সন্তান নীতি প্রত্যাহার করার পর থেকে, এতোদিন দুটি সন্তান নিতে পারতেন সিচুয়ানের বিবাহিত দম্পতিরা। তবে এখন থেকে যত খুশি তত সন্তান নিতে পারবেন তারা।
মূলত জনসংখ্যা হ্রাস এবং বৃদ্ধ মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায়, জনসংখ্যা বাড়ানোর জন্য নানা উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে প্রদেশটির স্থানীয় সরকারের পক্ষ থেকে।
প্রদেশটিতে ২০২১ সাল থেকে সন্তান গ্রহনে আগ্রহী করতে, দম্পতিদের ২য় কিংবা ৩য় সন্তানের বয়স ৩ বছর হওয়া পর্যন্ত মাসিক ভাতার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
একটা সময় পর্যন্ত এক সন্তান নীতির মাধ্যমে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করার কারনে, চীনে এমনিতেই জনসংখ্যার পরিমান কমতে শুরু করেছে।
তার উপর চীনের যুবতী নারীরা দিনদিন বিয়ে এবং সন্তান নেয়ার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। পুরো বিশ্বে চীনা নারীদের সন্তান নেয়ার ইচ্ছা সবচাইতে কম।
চীনা তরুণ তরুণীদের বিয়ের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলার কারন হিসেবে উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয়, কম মজুরি, ও দীর্ঘ কর্মঘন্টাকে দায়ী করা হচ্ছে।
সোর্স