বাংলাদেশকে পাশে চায় দুই বিশ্ব পরাশক্তি চীন ও যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশকে নিজেদের তৈরি জোটে জড়াতে টানাটানি শুরু করেছে দেশ দুটি।
ভারত মহাসাগরে নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। এর তীরবর্তী দেশ গুলোকে নিয়ে ইন্দো প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজি তৈরি করেছে তারা।
মূলত এই অঞ্চলে চীনের প্রভাব কমানোর একটি কৌশল এই ইন্দো প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজি।
দক্ষিণ এশিয়ায় নিজেদের আধিপত্য ও প্রভাব বিস্তার করতে বাংলাদেশকে পাশে চায় দেশটি। কারণ এই অঞ্চলের অন্য দেশ শ্রীলঙ্কা দেউলিয়া হয়ে গিয়েছে।
আর পাকিস্তান রাজনৈতিক ভাবে বেশ অস্থিতিশীল অবস্থায় আছে। বাংলাদেশ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে অনেকটাই স্থিতিশীল। তাই যুক্তরাষ্ট্র চায় বাংলাদেশ ইন্দো প্যাসিফিক জোটে যোগ দিক।
অন্যদিকে এশিয়ার উদীয়মান পরাশক্তি চীন। ইন্দো প্যাসিফিক অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের এই জোট গঠনকে তারা মোটেই ভালো চোখে দেখছে না।
এর আগে দক্ষিণ চীন সাগরে নিজেদের প্রবাব বাড়াতে শুরু করেছিল চীন। বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্র ঐ অঞ্চলে নতুন জোট গঠন করেছে।
ফলে চীন মনে করে, তাদের প্রভাব ও শক্তি কমাতে ইন্দো প্যাসিফিক জোট গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
চীন চায় বাংলাদেশ তাদের বেল্ট এন্ড রোড ইনিশিয়েটিভ প্রকল্পে যোগ দিক। বঙ্গোপসাগরের সীমানায় চীনের এই প্রকল্প থামাতে চেষ্টা করে চলেছে যুক্তরাষ্ট্র। নিজেদের বাণিজ্যিক স্বার্থে এই প্রকল্প হাতে নিয়েছিল চীন।
চীন ও যুক্তরাষ্ট্র নিজ নিজ প্রকল্পে যোগ দিতে বাংলাদেশকে চাপ দিয়ে যাচ্ছে।
এবছরের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ডোনাল্ড লু বাংলাদেশ সফর করেন। এই সফরেও নিজেদের ইন্দো প্যাসিফিক জোটের প্রসঙ্গ তুলেছেন তিনি।
অন্যদিকে বাংলাদেশ এই কৌশলে যুক্ত হলে চীন অসন্তুষ্ট হবে। গত বছর বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত এ নিয়ে সরাসরি মন্তব্য করেছিলেন।
বাংলাদেশের জন্য সরাসরি যেকোনো পক্ষকে বেছে নেয়া কঠিন। কারণ বাংলাদেশের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও চীন উভয় দেশই অনেক গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার।
বিগত কয়েক বছরে চীনের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক বেড়েছে। বাংলাদেশে বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মানে কাজ করছে চীন। এই খাতে যত উন্নয়ন তা চীনের হাত ধরেই এসেছে বলা চলে। তাছাড়া দেশটির প্রায় একশত কোম্পানি এদেশে ব্যবসা করছে।
আবার বাংলাদেশ বেশিরভাগ পণ্য আমদানি করে চীন থেকে। গত বছর বাংলাদেশের ৯৯ ভাগ পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে দেশটি।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সাথেও বাংলাদেশের গভীর বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। দেশের পোশাক রপ্তানির ৬০ ভাগ আয় আসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। তাছাড়া সামরিক ও অর্থনৈতিক নানা ক্ষেত্রে দুই দেশের সম্পর্ক রয়েছে।
কোভিড পরিস্থিতিতে বাংলাদেশকে ভ্যাকসিন দিয়ে সহযোগিতা করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। এই অবস্থায় চীনের পক্ষে গেলে বাংলাদেশের রপ্তানি খাত ব্যাপক হুমকির মুখে পড়তে পারে। সর্বোপরি বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে ভাঙ্গন আসতে পারে।
চীন ও যুক্তরাষ্ট্র দুটোই শক্তিশালী দেশ। কোনো একটি দেশকে চটিয়ে দিলে তার ফল ভালো হবে না। বাংলাদেশ এখনও পর্যন্ত কারো পক্ষে না গিয়ে ভারসাম্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
কিন্তু দিন দিন চাপ বাড়ছে দুই পক্ষ থেকেই। তাই কার পক্ষে যোগ দিবে- তা নিয়ে ভাবছে বাংলাদেশ। আপনাদের কি মনে হয়? কার পক্ষে গেলে লাভবান হবে বাংলাদেশ? চীন নাকি যুক্তরাষ্ট্র? জানাতে পারেন কমেন্ট বক্সে।