একদিকে শক্তিশালী আমেরিকার চোখ রাঙানি। অন্যদিকে বিশ্ব রাজনীতির মারপ্যাঁচ! এতো কিছুর পরেও বিশ্বের সবচেয়ে বড় নৌবাহিনী এখন চীনের।
আন্তর্জাতিক জলসীমায় নিজেদের সর্বোচ্চ শক্তিশালী করতে মরিয়া চীন একের পর এক সব অত্যাধুনিক বিমানবাহী রণতরী, সাবমেরিন, উভচর যুদ্ধজাহাজ যুক্ত করেই চলেছে নৌবাহিনীতে!
প্রকৃত অর্থেই এক সমুদ্র দানবে পরিণত হচ্ছে চীনা নৌবাহিনী। সবচেয়ে অবাক করার বিষয় কী জানেন? গত দুই দশকে অন্তত ৩ গুন বড় হয়েছে দেশটির নৌবাহিনী!
তবে চীন সর্বদা নিজেদের সামরিক সক্ষমতা লুকোতে ব্যস্ত থাকে। আর এজন্যই নিজেদের নৌবহরের কোনো দূর্ঘটনার তথ্যই প্রকাশ করেনা বেইজিং।
এখানেই শেষ নয়, নিজেদের অন্য কোনো বাহিনীরও সামরিক দুর্ঘটনার কোনো তথ্যই প্রকাশ করে না দেশটি। অবশ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন ভিন্ন কথা।
তাদের দাবী, চীন মূলত নিজেদের সামরিক দূর্বলতা ঢাকতেই এসব লুকোয়। চীন চায় বিশ্ব তাদের শক্তিটাই দেখুক, দূর্বলতা নয়।
দক্ষিণ চীন সাগর তো রয়েছেই, বাকি সবকটি মহাসাগরেই নিজেদের শক্তিশালী অবস্থান দেখাতে চাচ্ছে চীন। এজন্যই যুদ্ধ বিমানের সংখ্যা বাড়িয়েই চলছে তারা।
এই সক্ষমতা বিশ্বের যেকোনো চীন বিরোধী শক্তির জন্য এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় মাথাব্যাথার কারণ। চলুন দেখে নেয়া যাক নৌসক্ষমতা কতোটা বাড়িয়েছে চীন?
বর্তমানে দেশটিতে রয়েছে ৩৪০ টি যুদ্ধজাহাজ। চীন আগামী দুই বছরে এই সংখ্যাকে ৪২০ এ উন্নীত করতে চলেছে।
এরই মধ্যে জাহাজ নির্মাণ প্রকৌশল দেখিয়ে সারা বিশ্বে সাড়া ফেলে দিয়েছে বেইজিং। শুধুমাত্র ২০১৯ সালেই সুমুদ্রে নেমেছে চীনা প্রযুক্তিতে তৈরি অন্তত দুই ডজন সামরিক নৌযান।
করভেট, ডেস্ট্রয়ার থেকে ভাসমান ডক- কী নেই সেই তালিকায়?
২০১৮ সাল ছিলো চীনের সামরিক সক্ষমতার একটি মাইলফলক, কারণ প্রথমবারের মতো চীন সেবছর তৈরি করে বিমানবাহী রনতরী।
এটি মূলত প্রশিক্ষণের স্বার্থে নির্মাণ করা হয়েছিলো। বিশালকায় এ রণতরীটির ওজন ছিলো ৫০ হাজার টন! এর নকশা থেকে থেকে শুরু করে প্রত্যেকটা অংশই তৈরি করা হয়েছে চীনে।
বিশালাকায় এ রণতরীটি দৈর্ঘ্যে ৩১৫ মিটার ও প্রস্থে ৭৫ মিটার। এটি সর্বোচ্চ ঘণ্টায় ৩১ নটিক্যাল মাইল গতিতে চলতে পারে, যা সারাবিশ্বে মুহূর্তেই রেকর্ডে পরিণত হয়।
২০১৩ সালে এর নির্মাণকাজ শুরু করা হয়েছিল। মাত্র পাঁচ বছরের মধ্যেই শেষ হয় এর নির্মাণকাজ।
ধারণা করা হচ্ছে ২০৩০ সাল নাগাদ চীনা নৌবহরে যুদ্ধজাহাজ সংখ্যা ৪৬০ এ উন্নীত হবে যা বিশ্বের যেকোনো ক্ষ্মতাধর রাষ্ট্রের ঘুম হারাম করতে যথেষ্ঠ!
শুধু তাই নয়, ২০৩৫ সালের মধ্যে ছয়টি বিমানবাহী রণতরী সমুদ্রে নামাবে দেশটি। এর মধ্যে চারটির পরমাণু সক্ষমতা থাকবে বলে জানিয়েছেন খোদ চীনের সামরিক বিশেষজ্ঞরা।
যুদ্ধজাহাজ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে চীন পাল্লা দিয়ে বাড়িয়েছে মেরিন ক্রুর সংখ্যাও! খুব অল্প সময়ের মধ্যেই চীন নিজেদের মেরিন ক্রুর সদস্য সংখ্যা ২০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১ লাখে নিয়ে গেছে।
বিভিন্ন মিশনের স্বার্থে রাত-দিন কঠোর প্রশিক্ষণ চলছে তাদের। চীনা নৌ বাহিনীর প্রধান অংশই হচ্ছে সারফেস শিপ বা পানির উপরের যুদ্ধ জাহাজ। এর অধিকাংশই অনেক দূরের লক্ষ্যে আঘাত হানতে সক্ষম!
চীনের প্রতিটি এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার একেকটি, নৌবহরের নেতৃত্ব দেয়। এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ারের চারপাশে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হিসেবে থাকে গাইডেড মিসাইল ক্রুজার, গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার, ও গাইডেড মিসাইল ফিগ্রেট।
শত্রুপক্ষ যাতে পানির তলদেশ দিয়ে আক্রমণ করতে না পারে সেজন্য সার্বক্ষণিক সতর্ক অবস্থানে থাকে ১ টি বা ২ টি অ্যাটাক সাবমেরিন। যেকোনো সরবরাহের জন্য সদা প্রস্তুত একটি সাপ্লাই শিপ।
চীনের বিশাল আকৃতির উভচর অ্যাসল্ট জাহাজ, যে কোনো যুদ্ধকবলিত দ্বীপে চীনা মেরিনারদের রক্ষা করার জন্য প্রস্তুত। সেই সাথে আকাশে পাহাড়ায় রয়েছে ঝাঁকে ঝাঁকে যুদ্ধ বিমান।
চীনের নৌ শক্তির আধুনিকায়নের সঙ্গে তাল মেলাতে ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বড় বড় দেশগুলোও একই পথে হাঁটছে। শুধু হাঁটছেই না, যত দ্রুত সম্ভব সক্ষমতা বাড়াচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে এই অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে অস্ত্র কেনায় রীতিমতো হিড়িক পড়ে গেছে…