আন্তর্জাতিক
ভয়ংকর এক ক্যাপসুলের খোঁজে অস্ট্রেলিয়া!
অস্ট্রেলিয়াতে জরুরি অবস্থা! সতর্ক অবস্থানে দেশটির পশ্চিমাঞ্চল! ক্যাপসুল খুঁজে না পেলে ভয়ংকর সমস্যায় পড়তে পারে দেশটি!
অস্ট্রেলিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে তেজস্ক্রিয় উপাদানভর্তি একটি ক্যাপসুল হারিয়ে গেছে। এরপর থেকেই সেখানে জারি করা হয়েছে জরুরি অবস্থা।
পুরো অস্ট্রেলিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে ক্যাপসুলটি খোঁজার জন্য চলছিলো চিরুনি অভিযান! অবশেষে খুঁজে পাওয়া গেলো ক্যাপসুলটিকে। এই বার্তা জানিয়েছে সি.এন.এন।
টানা অভিযানের পর ক্যাপসুলটি পাওয়া গিয়েছে।ক্যাপসুলটি হারিয়ে যাওয়ার পর ঐ রাজ্যে জরুরি সতর্কতা জারি করে
ফায়ার এবং জরুরী সেবা বিভাগ।
কর্তৃপক্ষ জানায়, ক্ষুদ্র এই ক্যাপসুলটি থেকে ছড়িয়ে পড়তে পারে ক্ষতিকর পদার্থ।
এতে রয়েছে প্রায় Caesium-137, যা সাধারণত খনিতে ব্যবহার করা হয়। এটি কোনো মারণাস্ত্র না হলেও এটিতে রয়েছে স্বাস্থ্যঝুঁকি।
এর তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়লে ক্যান্সারের মত দুরারোগ্য রোগ হতে পারে। সতর্ক বার্তায় ঘোষণা করা হয়েছে, কেউ যদি ক্যাপসুলটি খুঁজে পায়, তাহলে তিনি যেন ক্যাপসুলটি থেকে দূরে থাকেন।
কোনো অবস্থাতেই কেউ যেন ক্যাপসুলটিতে স্পর্শ না করে। এটি স্পর্শ করলে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় চামড়া পুড়ে যেতে পারে, সেই সাথে মারাত্মকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তবে কেউ যদি মনে করেন, তিনি অবচেতন মনের অজান্তে হলেও কোনোভাবে ক্যাপসুলটির সংস্পর্শে এসেছেন, তাহলে অবশ্যই তাকে দ্রুত জরুরি চিকিৎসার অধীনে আসতে হবে।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধান রাজ্য স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও রেডিওলজিক্যাল কাউন্সিলের চেয়ার অ্যান্ড্রু রবার্টসন বলেন, ক্যাপসুলটি গ্রহণযোগ্য মাত্রায় বিকিরণ ঘটাতে পারে। ছোট এই জিনিসটি না জেনে কেউ তুলে নেয় কি না, সেটিই আমাদের চিন্তার বিষয়।
ঘটনার সূত্রপাত জানুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময়ে। তখন পূর্ব অস্ট্রেলিয়ার কিম্বারলি অঞ্চলে রিও টিন্টোর গুদাই-দারি খনিতে সিডিয়াম-১৩৭ সমৃদ্ধ ক্যাপসুল - ঘনত্ব পরিমাপক যন্ত্রে ব্যবহার করা হয়েছিল।
কাজ শেষ হয়ে গেলে ওই সাব-কন্ডাক্টর প্রতিষ্ঠান খনি থেকে ঘনত্ব পরিমাপক যন্ত্রটি সংগ্রহ করে। এরপর স্থলপথে নিউম্যান শহর থেকে পার্থ শহরে যাওয়ার পথে যন্ত্রটি ভেঙে ক্যাপসুলটি পড়ে যায়।
কর্তৃপক্ষের মতে, ক্যাপসুলটি ১০-ই জানুয়ারী একটি প্যাকেজের ভিতরে রাখা হয়েছিল। তারপর সেটি ১২ই জানুয়ারী একজন ঠিকাদার দ্বারা রিও টিন্টোর গুদাই-দারি খনি সাইট থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল।
এর চার দিন পর ১৬ই জানুয়ারী পার্থে পৌঁছেছিল সেটি। কিন্তু ২৫শে জানুয়ারী পরিদর্শনের জন্য এটি আনলোড করা হয়েছিল। তখন আবিষ্কার করা হয় যে ক্যাপসুলটি নেই।
এরপরই চারিদিকে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। স্বাস্থ্যঝুঁকি থাকায় ক্যাপসুলটি হারানোর জন্য রাজ্য কর্তৃপক্ষ বিপাকে পড়ে যায়।
নিউম্যান শহর থেকে পার্থ শহর পর্যন্ত দুই নগরীর দূরত্ব মোটামুটি এক হাজার ৪০০ কিলোমিটার বা ৮৭০ মাইল। আর হারিয়ে যাওয়া ক্যাপসুলটির আকার বেশ ছোট।
এটি দেখতে কেমন তার একটি ছবিও প্রকাশ করেছে ডিএফইএস। ক্ষুদ্র এই ক্যাপসুলের প্রস্থ ৬ মিলিমিটার ও উচ্চতা ৮ মিলিমিটার মাত্র।
এত বিশাল জায়গার মধ্যে এত ছোট্ট একটি ক্যাপসুল খুঁজে বের করা আর খড়ের গাদায় সুচ খুঁজে বের করা একই কথা। কিন্তু কয়েক দিনের নিরলস পরিশ্রমের পর অবশেষে উদ্ধার করা হয় সেই তেজস্ক্রিয় ক্যাপসুলটি।
দেশটির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এবং রেডিওলজিক্যাল কাউন্সিলের চেয়ারম্যান অ্যান্ড্রু রবার্টসন বলেছেন, যেখান থেকে ক্যাপসুলটি উদ্ধার করা হয়েছে, তার আশেপাশে রয়েছে বিস্তীর্ণ ফাঁকা অঞ্চল।
এসব স্থানে কোনো মানুষের জনবসতি নেই। তাই এই ক্ষতিকারক ক্যাপসুলটি উদ্ধার করার আগে কেউ এটির সংস্পর্শে এসেছে বলে মনে হয় না।
কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে ক্যাপসুল হারানোর এই ঘটনাটি ঘটিয়েছে কিনা কিংবা কারো দায়িত্বে অবহেলা আছে কিনা, সেটা জানার জন্য শুরু করা হয়েছে তদন্ত।
জনপ্রিয়
আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন
৪০ দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ- কোন দেশে কত নিহত, বাংলাদেশির সংখ্যা কত?
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর পাল্টা জবাব দিয়েছে ইরান। শুধু ইসরায়েল নয়, ইরানের পক্ষ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায়ও হামলা চালানো হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক বিজয় হয়েছে: ডোনাল্ড ট্রাম্প
ইরান-এর সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ‘সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক বিজয়’ অর্জন করেছে।

যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে ‘ইরানের বিজয়’
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের উত্থাপিত ১০ দফা দাবি মেনে নিয়েছেন বলে দাবি করেছে তেহরান। এর পরিপ্রেক্ষিতে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে নিজেদের কূটনৈতিক বিজয় হিসেবে দেখছে ইরান।

যুক্তরাষ্ট্র ‘রেড লাইন’ পার হলে সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ছড়িয়ে পড়বে: ইরান
যুক্তরাষ্ট্র যদি তেহরানের নির্ধারিত ‘রেড লাইন’ অতিক্রম করে, তাহলে চলমান সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ছড়িয়ে পড়তে পারে- এমন কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।

.jpg)
.jpg)






