আন্তর্জাতিক


ইউক্রেন যুদ্ধে হারলেও লাভবান হবেন পুতিন


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১১:৫১ পূর্বাহ্ন, শনিবার

ইউক্রেন যুদ্ধে হারলেও লাভবান হবেন পুতিন

যুদ্ধের ফলাফল যাই হোক। শেষ হাসিটা পুতিনই হাসবেন। ধীরে ধীরে এ কথাই স্পষ্ট হচ্ছে! অবশ্য এর পেছনে যথেষ্ঠ কারণও রয়েছে।  

জানতে হলে ফিরে তাকাতে হবে একটু পেছনে। সময়টা ২০২০ রাশিয়ার বিরোধী দলীয় নেতা আলেক্সি নাভালিনকে উচ্চ মাত্রার বিষ প্রয়োগের ঘটনা নিয়ে হয়েছিলো ব্যাপক তোলপাড়! 

নাভালিন অসুস্থ হয়ে জার্মানির একটি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। অভিযোগের আঙুল উঠে রাশিয়ার গোয়েন্দা সংস্থার বিরুদ্ধে। 

সবাইকে চমকে দিয়ে পাঁচ মাস পরে রাশিয়ার ফিরে আসেন সুস্থ নাভালিন, তবে এয়ারপোর্টেই গ্রেফতার করা হয় তাকে। 

নাভালিনকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে রাশিয়ার অন্তত ১৮৫ টি শহর! এই বিক্ষোভে পুতিনের ছত্রছায়ায় গ্রেফতার করা হয় অন্তত ১১ হাজার লোকজনকে। 

এর বাইরে নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে সংঘর্ষে আহত হয়েছিলো বহু লোক। অনেকের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলাও করা হয়েছিলো। 

যদিও এই বিক্ষোভ পুতিনের জন্য বেশ অস্বস্তিকর ছিলো। তবে তার শাসনের কৌশলই ছিলো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় থেকে জনগণের দৃষ্টি সরিয়ে রাখা। 

অনেক বিশ্লেষক মনে করেন এই কৌশল বাস্তবায়ন করতেই পুতিন ইউক্রেনে আক্রমণ পরিচালনা করেছেন। 

খোলা চোখে দেখলে এই আক্রমণের পিছনে ন্যাটোর সম্প্রসারণবাদী নীতিই সামনে চলে আসে। কিন্তু একটু তলিয়ে দেখলে বোঝা যায় বিক্ষোভ দমন ও ইউক্রেনে অভিযান পরিচালনা এই দুইয়ের মধ্যে গভীর যোগসূত্র রয়েছে। 

ইউক্রেনে আক্রমণের মাধ্যমে পুতিন সুকৌশলে নিজের দেশের জনগণের সাথে সংঘাত এড়িয়েছেন। সেই সাথে বিরোধীদের কোনঠাসা করতেও সফল হয়েছেন। 

আলেক্সি নাভালিন নিয়ে আলোচনা একেবারেই থেমে গেছে। তবে এটাও সত্য যে, ইউক্রেন আক্রমণের পিছনে এটিই একমাত্র কারণ নয়। 

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলোনস্কির রাশিয়া নীতি পরিবর্তনও অন্যতম একটি কারণ। জো বাইডেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর ভলোদিমির জেলোনস্কি ইউক্রেনের রাশিয়া নীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন আনেন। 

রাশিয়া পন্থী পুতিনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু মেদভেদচুকের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক আক্রমণ শুরু করেন তিনি।

এছাড়া তিনি ইউক্রেনের ন্যাটোতে যোগদান স্থগিত করতে পাশাপাশি নর্ড স্ট্রিম ২ পাইপলাইন থেকে সরে আসার জন্য ব্যাপক তোড়জোড় শুরু করেন। 

জেলেনস্কির এসব কর্মকান্ডের বিপরীতে পুতিনপন্থী ইউক্রেনের রাজনীতিবিদরা রাজনৈতিক খেলা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। 

অনেক বিশ্লেষক মনে করেছিলেন পুতিন ধীরে চলার নীতি অনুসরণ করে দনবাস অঞ্চলে তার এজেন্ডা বাস্তবায়ন করবেন। 

সবার ধারণাকে ভুল প্রমাণিত করে পুতিন ইউক্রেনে সরাসরি অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছেন। 

এর ফলে নাভালিনের মুক্তির দাবিতে গড়ে উঠা আন্দোলন থামাতে সফল হয়েছেন। একই সাথে বিরোধীদের নানা তৎপরতাকে স্তিমিত করেছেন।

পুতিন ও তার ঘনিষ্ঠজনেরা নাভালিন ও তার সমর্থককে পশ্চিমাদের চর মনে করেন। তারা এও বলেন যে, নাভালিন ইউক্রেনের মায়দান বিক্ষোভের মতো আন্দোলন গড়ে তুলে পুতিনকে ক্ষমতাচ্যুত করতে চায়। 

বলা হয়ে থাকে মায়দান বিক্ষোভের জন্য সাজা দিতেই পুতিন ২০১৪ সালে ক্রিমিয়ায় আক্রমণ করেছিলো। কিন্তু এই হামলা পুতিনকে নিজ দেশে অনেকটাই অজনপ্রিয় করে তুলেছিলো। 

২০১৮ সালে লেভাডা সেন্টারের একটি জরিপ অনুযায়ী ৫৭ ভাগ মানুষ রাশিয়ায় সর্বাত্নক পরিবর্তন চেয়েছিলো। পরের বছরেও এই সমর্থন বেড়ে ৫৯ শতাংশে পৌঁছেছিলো। 

ঐ সময়েই নাভালিন জনগণের মাঝে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেন। বিশাল সমর্থন নিয়ে রাশিয়া জুড়ে সভা সমাবেশ শুরু করেন তিনি। 

এই অবস্থা পুতিনের দীর্ঘ শাসনের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছিল। বুদ্ধিমান পুতিন এই অবস্থার পরিবর্তন করতে চেয়েছিলেন। 

নিজের সকল শত্রুকে শায়েস্তা করার জন্য তিনি ইউক্রেনে সরাসরি আক্রমণ পরিচালনা করেন। এর মাধ্যমে একইসাথে নিজ দেশ ও প্রতিবেশী দেশের পশ্চিমা তৎপরতায় লাগাম টেনে দেয়া হয়। 

বর্তমানে নাভালিন ও তার সমর্থকেরা জেলে পঁচছেন। তাদের অনেকে গৃহবন্দী আবার অনেকেই নির্বাসনে আছেন। 

পুতিন বিরোধী হাজার হাজার লোক রাশিয়া ছেড়ে পালিয়েছেন। বলতে গেলে পুতিন এখন রাশিয়ার নতুন একচ্ছত্র সেনাপতি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। 

ইউক্রেনে অভিযান পুতিনের শাসনকে স্থিতিশীল করতে সাহায্য করেছে। তার বিরুদ্ধে জনগণের আস্থা বেড়েছে। 

বিশেষজ্ঞদের মতে পুতিন এই যুদ্ধে হেরে গেলেও সামনের দিনে রাশিয়াকে নির্বিঘ্নে শাসন করতে পারবেন। এমনকি অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি স্থিতিশীল সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে রাশিয়ায়৷




জনপ্রিয়


আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন

১১ মাসের কন্যাসন্তানকে হত্যা, দুর্ঘটনা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টাকালে বাবা-মা গ্রেফতার

ভারতের বেঙ্গালুরুতে মাত্র ১১ মাস বয়সী এক কন্যাশিশুকে হত্যার পর ঘটনাটি দুর্ঘটনা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে শিশুটির বাবা ও মাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে মৃত্যু বেড়ে ৩ হাজার ৫৩৫

ভেনেজুয়েলায় গত সপ্তাহে আঘাত হানা দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩ হাজার ৫৩৫ জনে পৌঁছেছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ১৬ হাজার ৭৪০ জন এবং প্রায় ১৮ হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। দুর্যোগ-পরবর্তী পরিস্থিতিতে দেশটিতে ভয়াবহ স্বাস্থ্য সংকট দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

বালোগানের নিষেধাজ্ঞা পুনর্বিবেচনায় ফিফাকে অনুরোধ করেছিলেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় ফুটবল দলের স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগানের এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পুনর্বিবেচনার জন্য ফিফাকে অনুরোধ করেছিলেন বলে নিশ্চিত করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার ভাষ্য, নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকলে তা চলমান বিশ্বকাপের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলত।

ট্রাম্পকে ‘ফিফা শান্তি পুরস্কার’ দেওয়ায় ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ফিফার ‘ফিফা শান্তি পুরস্কার’ দেওয়াকে কেন্দ্র করে ফিফা সভাপতি জিয়ানি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ৫০ জন সদস্য। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ফিফার নৈতিকতা কমিটির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।