আবারো উত্তপ্ত দক্ষিণ এশিয়া! লাদাখ সীমান্তে হুট করেই চীনা সৈন্য মোতায়েন! সামরিক তৎপরতা আশংকাজনক হারে বাড়িয়েছে বেইজিং!
যেকোনো মুহূর্তে নতুন করে সংঘর্ষে জড়াতে পারে দুই পরাশক্তি!এমনটাই আশংকা করছে ভারতের আইন শৃঙ্খলা বাহিনী!
লাদাখ সীমান্তে স্বস্তিই পাচ্ছে না ভারত! বারবার চীনের এমন বিতর্কিত আচরণে বিপাকে দেশটির অভ্যন্তরীন নিরাপত্তা!
ইতোমধ্যেই লাদাখ সীমান্তে সামরিক অস্থিতিশীলতার জেরে, প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ে একটি বৈঠক হয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
তথ্যমতে চলতি জানুয়ারির তৃতীয় সপ্তাহে, দিল্লিতে ভারতের শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তাদের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
বৈঠকে লাদাখের পুলিশ কর্মকর্তারা একটি ‘কনফিডেন্টশিয়াল রিসার্চ পেপার’ জমা দেন। গোপনীয় নথির একটি অংশে, লাদাখ সীমান্তে ভারত ও চীনের মধ্যে আবারো সংঘাত হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়।
লাদাখ পুলিশের গোপন সেই রিপোর্ট হাতে পেয়েছে বলে জানিয়েছে সংবাদ সংস্থা রয়টার্স । কিন্তু এ বিষয়ে ভারতীয় সেনাবাহিনীর কাছে জানতে চাওয়া হলে, তারা কোনো ধরনের মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এছাড়া সম্মেলনে স্বয়ং দেশের প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত থাকলেও, প্রকাশিত রিপোর্ট নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও।
তবে সম্পূর্ণ ভিন্ন কথা বলছে চীনের কর্তৃপক্ষ। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়, বর্তমানে সীমান্ত জুড়ে স্থিতিশীল অবস্থা বিরাজ করছে।
কিন্তু সীমান্তে সামরিক অবকাঠামো আরো শক্তিশালী করার বিষয়টি স্বীকার করেছে তারা।
নিজস্ব ভূখণ্ডে স্বাভাবিক নির্মাণকাজ, সম্পূর্ণরূপে চীনের সার্বভৌমত্বের একটি বিষয় বলে জানায়, দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
এদিকে চীনের সৈন্য সমাবেশ এবং সামরিক উস্কানি পূর্বের সংঘর্ষের আভাস দিচ্ছে বলে ধারণা করছেন কেউ কেউ।
বছর দুয়েক আগে ভারত-চীন নিয়ন্ত্রণ রেখার কাছে গালওয়ান উপত্যকায় সংঘর্ষে লিপ্ত হয় দু’দেশের সেনারা। ২০২০ সালের জুন মাসে ঘটে যাওয়া সেই সংঘর্ষে, ভারতের ২৪ জন সৈনিক প্রাণ হারান।
ভারতের নিহত সৈনিকদের তথ্য পাওয়া গেলেও, কোনো সৈনিক নিহত হওয়ার দাবি নাকচ করে চীন। চীনের সেনারা লোহার রড, পাথর, পেরেক লাগানো লাঠি নিয়ে সৈন্যদের উপর অতর্কিত হামলা চালায় বলে দাবি করে ভারত।
আলোচিত সেই সংঘর্ষের পর দীর্ঘ দিন উত্তেজনা চলেছিল লাদাখের ভারত-চীন সীমান্তে। এর মধ্যে প্রবল ঠান্ডার সাথে পাল্লা দিতে না পেরে, একটা সময় নিয়ন্ত্রণরেখা থেকে সেনা পিছিয়ে নিতে বাধ্য হয় চীন।
কিন্তু এবার আরো বেশি প্রস্তুতি নিয়ে সীমান্তে জড়ো হয়েছে চীনা সেনারা, এমনটাই বলছে লাদাখ পুলিশের রিপোর্ট।
সীমান্তে সেনা অবকাঠামো ক্রমেই উন্নত করছে চীন। যেটি সামরিক সংঘাতকে উস্কে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
এদিকে আশঙ্কার কথা জানিয়েছে সংবাদ সংস্থা রয়টার্সও। তারা বলছে লাদাখে সীমান্ত বিস্তারে চীনের সেনা পরিকাঠামো বাড়াতেই থাকবে। এতে পাল্টা ব্যবস্থা নেবে ভারতও।
যার জেরে দু’দেশের মধ্যে ঘন ঘন সংঘর্ষ চলতেই থাকবে। গত ডিসেম্বরেই এক দফা সংঘর্ষ হয়ে গিয়েছে ভারত-চীন প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা সংলগ্ন গালওয়ানে। কিন্তু কোনো ধরনের প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।
এশিয়ার প্রতিবেশী দুই দেশ ভারত ও চীনের মধ্যে প্রায় সাড়ে তিন হাজার কিলোমিটারের সীমান্ত রয়েছে।
এর মধ্যে ১৯৫০ সাল থেকে সীমান্ত নিয়ে দুই দেশের মধ্যে বিরোধ চলছে এবং ১৯৬২ সালে উভয় দেশ যুদ্ধেও লিপ্ত হয়।
বিশ্ব রাজনীতি সত্যিকার অর্থেই দিন দিন অসহনীয় হয়ে পড়ছে, আপনারা কী মনে করেন?