শান্তির ব্যবস্থা না করলেও পরাশক্তিধর দেশগুলো ইউক্রেনকে সমর্থনের পাশাপশি অস্ত্র এবং গোলাবারুদ সরবরাহ করেই যাচ্ছে!
এরই ধারাবাহিকতায় ফ্রান্স ও অস্ট্রেলিয়া থেকে এবারে বিশাল আকারের গোলাবারুদের চালান পাচ্ছে দেশটি।
রাশিয়ার সঙ্গে চলমান সংঘাতে টিকে থাকতে সামরিক সহায়তা চেয়ে যাচ্ছেন জেলেনেস্কি। তাই ‘জরুরি চাহিদা’ মেটাতে ফ্রান্স ও অস্ট্রেলিয়ার কাছ থেকে কয়েক হাজার গোলাবারুদ পাচ্ছে ইউক্রেন।
সম্প্রতি প্যারিসে অনুষ্ঠিত হওয়া দ্বিতীয় অস্ট্রেলিয়া-ফ্রান্স পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক শেষে নেওয়া হয়েছে এমন সিদ্ধান্ত।
দুই দেশের যৌথ উদ্যোগে কয়েক হাজার ১৫৫ মিলিমিটার আর্টিলারি শেল তৈরি করা হবে। এরপর সেগুলো সরবরাহ করা হবে ইউক্রেনে।
উচ্চ পর্যায়ের এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্যাথরিন কলোনা, অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং, ফরাসি প্রতিরক্ষামন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু এবং অস্ট্রেলীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রিচার্ড মার্লেস।
রাশিয়ার কড়া হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করেও, ইউক্রেনের জন্য যৌথভাবে কামানের গোলা তৈরি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফ্রান্স ও অস্ট্রেলিয়া।
এর আগে ইউক্রেনকে সমরাস্ত্র সরবরাহ করার ব্যাপারে পাশ্চাত্যকে সতর্ক করে দিয়েছিল রাশিয়া। এর পরিণতি ভয়াবহ হবে জানিয়ে হুশিয়ারি দিলেও, সেটি এক প্রকার উপেক্ষাই করেছে দেশ দুটি।
ইউক্রেনের জন্যে প্রস্তাবিত সমরাস্ত্র নির্মাণের ব্যয় অস্ট্রেলিয়া ও ফ্রান্স সমানভাবে বহন করবে।
এসব গোলাবারুদ তৈরি করবে ফ্রান্সের অস্ত্র নির্মাণকারী কোম্পানি নেক্সটার। অন্যদিকে এটি তৈরিতে এক্সপ্লোসিভ পাউডার সরবরাহ করবে অস্ট্রেলিয়া।
সম্প্রতি জার্মানি ও যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক ট্যাংক দেওয়ার ঘোষণার পর, এবার পরাশক্তি দুই দেশের সরাসরি সমর্থন পেতে যাচ্ছে ইউক্রেন।
এরমধ্যেই আমেরিকার যুদ্ধবিমান পেতে আগ্রহ প্রকাশ করে ইউক্রেন। কিন্তু তাদেরকে যুদ্ধবিমান না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।
রাশিয়ার হামলা প্রতিহত করতে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা মিত্র দেশগুলোর কাছে প্রথমে ট্যাংক চেয়েছিল ইউক্রেন।
ট্যাংক পাওয়ার প্রতিশ্রুতি পাওয়ার পরই আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দাবি করে তারা। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন জানিয়েছেন, কোনোভাবেই যুদ্ধবিমান পাচ্ছে না ইউক্রেন।
এর আগে একই পথে হেঁটেছে ইউক্রেনকে লেপার্ড -2 ট্যাংক দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া জার্মানি। ট্যাংক সরবরাহ করলেও যুদ্ধবিমান দিতে আপত্তি জানায় দেশটি।
এর কারণ হিসেবে রাশিয়ার সঙ্গে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়ে যাবার সম্ভাবনার কথা জানান দেশটির চ্যান্সেলর শোলজ।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানি যুদ্ধ বিমান দেওয়ার কথা সরাসরি নাকচ করলেও, সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাকরন। সোমবার ডাচ প্রধানমন্ত্রী মার্ক রুটের সঙ্গে সাক্ষাতের পর এমনটা জানিয়েছেন তিনি।
ফ্রান্স ইউক্রেনকে যুদ্ধবিমান দেবে কিনা এমন এক প্রশ্নের জবাবে ফরাসি প্রেসিডেন্ট বলেন,
“নীতিগতভাবে কোনো কিছুই নাকচ করে দেয়া হচ্ছে না।”
এদিকে ক্রমেই ইউক্রেনকে কোণঠাসা করে চলেছে রাশিয়া। সম্প্রতি ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে রুশ বাহিনী বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে এবং বেশ খানিকটা অগ্রসর হয়েছে বলে জানিয়েছে ব্রিটেন।
কাশলাহাচ নদীর দক্ষিণে কয়েকশ মিটার অগ্রসর হয়েছে রুশ বাহিনী। বিগত কয়েক মাস থেকে এই এলাকাটি যুদ্ধের ফ্রন্টলাইন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ছোট্ট এই নদীটি পাভলিভকা শহরের পাশ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। ভালেদার শহর থেকে যা প্রায় দুই কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সোমবার বলেছেন, রুশ আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইউক্রেন যে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে, তার ‘বড় প্রতিশোধ’ নিতে শুরু করেছে মস্কো।