ফ্রান্স ও অস্ট্রেলিয়ার পর এবার ইউক্রেনকে পুনরায় অস্ত্র সহায়তা জার্মানির! রাশিয়াকে প্রতিহত করতে জার্মানির ৮৮ টি লেপার্ড-ওয়ান ট্যাংক পাঠানোর প্রতিশ্রুতি!
তবে কী বিশ্ব আবারো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পুনরাবৃত্তি দেখতে চলছে? ঠিক এমনটাই মনে করছেন খোদ রাশিয়ান প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।
গেল বৃহষ্পতিবার স্ট্যালিন গ্র্যাড দিবসের অনুষ্টানে তিনি বলেন,“দুঃখজনক হলেও ৮০ বছর পর আবারো জার্মান ট্যাংককে মোকাবেলা করতে যাচ্ছে রাশিয়া।”
এদিন প্রেসিডেন্ট পুতিন রুশ- ইউক্রেন যুদ্ধকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সঙ্গে তুলনা করেন। নিজের বক্তব্যে পুতিন জার্মানির পুরনো ইতিহাস টেনে আনেন।
তার মতে, “ বর্তমানে ইউক্রেনে নাতসিবাদের পরিবর্তিত ও আধুনিক রুপ দেখা যাচ্ছে। “ সম্প্রতি জার্মানি ঘোষণা দিয়েছে তারা ইউক্রেনকে ৮০ টি লেপার্ড - ওয়ান ট্যাংক দেবে।
আর এই ঘটনা উল্লেখ করেই মুলত এসব মন্তব্য করেন রুশ প্রেসিডেন্ট। এদিন তিনি বলেন, তার দেশ নিরাপত্তা নিশ্চিতকরনে প্রচলিত অস্ত্রের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবেনা।
তবে রাশিয়া ঠিক কি ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে তা এখনো নিশ্চিত নয়। এই ইঙ্গিত মূলত পারমাণবিক অস্ত্রের ব্যবহারকেই নির্দেশ করে!
গত বৃহষ্পতিবার ছিল স্ট্যালিন গ্র্যাড যুদ্ধের আশি বছর পুর্তী দিবস। ১৯৪৩ সালে এইদিন স্ট্যালিন গ্র্যাড শহরে জার্মান নাৎসি সেনাদের বিরুদ্ধে লড়েছিলেন সোভিয়েত সেনারা।
যুদ্ধে এই ফ্রন্টের লড়াইয়ে দুই পক্ষে প্রায় ১০ লাখের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আর কোনো ফ্রন্ট এত বেশি প্রাণহানি দেখেনি।
শেষ পর্যন্ত ওই যুদ্ধে জয় লাভ করে প্রায় ৯১ হাজার জার্মান সেনাকে আটক করেছিল সোভিয়েত বাহিনী। এই ঐতিহাসিক বিজয় প্রায় প্রত্যেক বছরই উদযাপন করেন রুশ নাগিরিকেরা।
তবে চলমান রুশ- ইউক্রেন যুদ্ধে জার্মানির নাক গলানোর কারনে চলতি বছর এই দিবসকে অন্যবারের চেয়ে আরো ঘটা করে উদযাপন করা হয়েছে সম্পুর্ন রাশিয়াজুড়ে।
এদিন দেশটিতে বিশ্বমহলে নিন্দিত স্ট্যালিনেরও একটি মুর্তি উন্মোচন করা হয়। স্ট্যালিনের শাসনামলে পার্শ্ববর্তি দেশ ইউক্রেনে একটি দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছিল।
সেই দুর্ভিক্ষে প্রায় ৫০ লাখ লোক প্রাণ হারায়। সম্প্রতি দুর্ভিক্ষটিকে গনহত্যা বলে আখ্যা দিয়েছে বুলগেরিয়া। আর এমন সময়ে রাশিয়াই স্ট্যালিনের মুর্তি উন্মোচন বিশ্ববাসীর জন্যে রীতিমতো একটি নতুন বার্তা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন পুতিন হয়তো আবারো রাশিয়াকে স্ট্যালিনের মতাদর্শে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে চান। চলমান যুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অনেকটা নগ্নভাবেই ইউক্রেনকে সমর্থন দিয়ে এসেছে মার্কিন নেতৃত্বাধীন পশ্চিমাজোট।
তবে প্রশ্ন ছিল এই যুদ্ধে কী তারা সরাসরি ট্যাংক পাঠাবে?
দীর্ঘ আলোচনা শেষে মার্কিনিরা প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির এই প্রস্তাব গ্রহন করেছে। সেই সাথে ইউক্রেনের আবদার ফেলেনি ইউরোপিয়ান মিত্র জার্মানি ও ব্রিটেন।
জার্মানি আগেই ঘোষণা দিয়েছিল দেশটিকে লেপার্ড- টু ট্যাংক সরবরাহের। এবারে আবার নতুন করে ৮৮ টি লেপার্ড- ওয়ান পাঠানোর সিদ্ধান্ত জানিয়েছে।
তবে নতুন এই সিদ্ধান্ত ঝামেলারও সৃষ্টি করেছে। জানা গিয়েছে লেপার্ড- ওয়ান ট্যাংক এখন আর উৎপাদন হয়না। এটিতে ব্যবহার করা গোলা ল্যাপার্ড- টু’র চেয়ে কিছুটা ভিন্ন ক্যালিভারের।
আর এই গোলা তৈরি হয় শুধুমাত্র সুইজারল্যান্ডে। আর দেশটির সাথে রাশিয়ারও সীমান্ত রয়েছে। তাই এসবে জড়ানোর পূর্বে তারা নিজেদের নিরাপত্তার কথাও বিবেচনা করছে।
ফলে দীর্ঘদিন ধরে তারা রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহারের জন্যে নিজেদের তৈরি গোলা পুনরায় রফতানির অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে।
তবে পরিস্থিতি কিছুটা পাল্টেছে কয়েকজন সুইস আইনপ্রণেতা! সুইজারল্যান্ডের অবস্থান পুনর্বিবেচনার জন্য সরকারকে চাপ প্রয়োগ করছেন।
এখন দেখার বিষয় আগ্রাসী রাশিয়ার বিরুদ্ধে জার্মান ট্যাংকের আশীর্বাদে ইউক্রেন কতোটা শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে?