আন্তর্জাতিক


ন্যাটোর কাজ কি? কেন সকল যুদ্ধে উঠে আসে তাদের নাম?


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০২:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার

ন্যাটোর কাজ কি? কেন সকল যুদ্ধে উঠে আসে তাদের নাম?
বছর জুড়েই বিশ্ব মিডিয়ার আলোচিত এক নাম ন্যাটো। পৃথিবীর যে কোন প্রান্তের যুদ্ধ কিংবা রাজনীতিতে উঠে আসে সংগঠনটির নাম।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯৪৯ সালের এপ্রিলে, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স সহ, মোট ১২টি দেশ নিয়ে যাত্রা শুরু করে North Atlantic Treaty Organization, যা আমাদের কাছে ন্যাটো নামে পরিচিত। 

প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বিশ্ব রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে তারা। একই সাথে পৃথিবীর সবচেয়ে বৃহত্তম ও শক্তিশালী সামরিক জোট এটি।

এর মূল উদ্দ্যেশ হলো যেকোন কিছুর বিনিময়ে ইউরোপ ও নর্থ আমেরিকা অঞ্চলের নিরাপত্তা বাস্তবায়ন করা। এজন্য জোটভুক্ত দেশগুলো পারস্পরিক সামরিক সহযোগিতা দিতে অঙ্গীকারবদ্ধ।

সদস্য দেশগুলো নিয়ে যে কোন সমস্যা দেখা দিলে, প্রথমে ডিপ্লোমেটিক চ্যানেলে সমাধানের চেষ্টা করে ন্যাটো। এতে সমাধান না মিললে মিলিটারি ফোর্স প্রয়োগের পথে হাটে।

এক্ষেত্রে তাদের নীতি হলো, যে কোন একটি দেশে হামলা করা পুরো জোটের বিপক্ষে যুদ্ধ ঘোষণার সামিল। এর ভিত্তিতে সবাই মিলে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে।

বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে জাতিসংঘ সহ, অন্যান্য সংস্থার সাথে মিলে কাজ করে চলেছে ন্যাটো। এমনকি ইউরোপীয়ান ইউনিয়ন এবং আফ্রিকান ইউনিয়নকে সিকিউরিটি সাপোর্ট দিয়ে থাকে তারা। 

সকল ধরনের পরিস্থিতিতে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখায়, প্রতিষ্ঠার পর থেকে ন্যাটোর সদস্য সংখ্যা বেড়েই চলেছে। ১৯৪৯  সালের পর বিভিন্ন সময়ে যোগ দিয়েছে আরো ১৮টি রাষ্ট্র।

বর্তমানে জোটটিতে সর্বমোট সদস্য সংখ্যা ৩০,
২১ শতকে এসে নাম লিখিয়েছে ১১ টি দেশ। এরমধ্যে শুধুমাত্র ২০০৪ সালেই যোগ দিয়েছে মোট ৭টি রাষ্ট্র।

সর্বশেষ ২০২০ সালে ন্যাটোতে যোগ দেয় উত্তর মেসিডোনিয়া। এর আগে ২০১৭ সালে সদস্য হিসেবে নাম লিখিয়েছে MONTENEGRO. ২০০৯ সালের ০১ এপ্রিল আলবেনিয়া এবং ক্রোয়েশিয়া যোগ দিয়েছিল।

এর বাইরে অন্তত আরো ৪০টি নন মেম্বার দেশ রয়েছে, যারা নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক ইস্যুতে ন্যাটোর সাথে একযোগে কাজ করে। বিভিন্ন মিশন বাস্তবায়নেও সহায়তা করে তারা।

বৃহত্তম সামরিক জোটে বর্তমানে ৩০টি দেশের মোট ৩ দশমিক ৩ মিলিয়ন সেনাসদস্য এক্টিভ রয়েছে। এক্ষেত্রে এক তৃতীয়াংশ সদস্য নিয়ে সবচেয়ে বড় অংশীদার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের।

সংখ্যার হিসেবে ন্যাটোতে আমেরিকান সৈন্য আছে ১ দশমিক ৩ মিলিয়ন। অপরদিকে সাড়ে ৪ লক্ষ সেনা নিয়োজিত করে দ্বিতীয় স্থান ধরে রেখেছে তুরস্ক।

শুধু সংখ্যার দিক দিয়ে নয়, ন্যাটোর কাছে রয়েছে সময়ের থেকে এগিয়ে থাকা অস্ত্র ও আধুনিক প্রযুক্তি। প্রতিনিয়তই নতুন ওয়েপনস ও যান সংযুক্ত করে, নিজেদেরকে শক্তিশালী করে চলেছে তারা।

এত বিশাল বহর পরিচালনার জন্য প্রয়োজন হয় বিপুল পরিমান অর্থ। ন্যাটোর সম্মিলিত সামরিক বাহিনীর ব্যয়, পৃথিবীর সব দেশের সামরিক খরচের প্রায় ৭০ ভাগ।

তবে ন্যাটোর নিজস্ব সামরিক সদস্যের সংখ্যা খুবই অল্প। মিশন বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন দেশের সৈন্যরা স্বেচ্ছাসেবার ভিত্তিতে কাজ করে এখানে। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে তারা পুনরায় নিজ নিজ দেশে পাড়ি জমায়।

ইউরোপ ও নর্থ আমেরিকা অঞ্চলের যে কোন দেশ চাইলেই ন্যাটোর সদস্য রাষ্ট্র হওয়ার জন্য আবেদন করতে পারে। তবে এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায় ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি।

সংগঠনটি বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় নিজেদেরকে নিয়োজিত করার কথা বললেও, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বাস্তবতা ভিন্ন। স্বার্থ উদ্ধারে যে কোন কিছু করতে, সবসময় প্রস্তুত রাখা হয় সদস্য দেশের সামরিক বাহিনীদেরকে।

চলমান রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের পিছনেও, ন্যাটোকে দায়ী করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তিনি বলেছেন, ২০০৮ সালে ন্যাটো ইউক্রেনকে সদস্য বানানোর বিষয়ে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, সেটি ছিল মস্কোর জন্য বড় হুমকি।
 
প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে বৃহৎ সামরিক জোটটির মূল লক্ষ্য ছিল, সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নকে প্রতিরোধ করা। সোভিয়েত ইউনিয়ন বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ায়, ন্যাটোর অস্তিত্ব নিয়েও প্রশ্ন তোলেন অনেকে।







জনপ্রিয়


আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন

খামেনি ও তার ছেলেকে হত্যার পরিকল্পনা

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘিরে নতুন করে যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে একটি নতুন চুক্তিতে রাজি হওয়ার আহ্বান জানিয়ে সতর্ক করেছেন শর্ত না মানলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। চুক্তিতে সম্মত হওয়ার জন্য ইরানকে ১০ দিনের সময়সীমা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

গাজার পুনর্গঠনে ৭০০ কোটি ডলার: ‘শান্তি পর্ষদ’ বৈঠকে ট্রাম্পের ঘোষণা

ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত তথাকথিত ‘শান্তি পর্ষদ’–এর প্রথম বৈঠকে ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজা উপত্যকার পুনর্গঠনের জন্য ৭০০ কোটি ডলারের তহবিল প্রতিশ্রুতির কথা জানান। তাঁর দাবি, ৯টি সদস্যরাষ্ট্র প্রাথমিকভাবে এ তহবিলে অর্থ দিতে সম্মত হয়েছে। একই সঙ্গে গাজায় একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েনে পাঁচটি দেশ নীতিগত সম্মতি দিয়েছে।

‘হাড় না ভাঙা’ পর্যন্ত স্ত্রীকে মারার অনুমোদন- আফগানিস্তানে নতুন আইন ঘিরে বিতর্ক

নারীদের বিরুদ্ধে নতুন কড়া আইন জারির অভিযোগ উঠেছে আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের বিরুদ্ধে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেন্ডেন্ট-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির নতুন ফৌজদারি আইনে স্বামীদের স্ত্রী ও সন্তানদের শারীরিকভাবে শাস্তি দেওয়ার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যা পারিবারিক সহিংসতাকে কার্যত বৈধতা দিচ্ছে বলে সমালোচকরা দাবি করছেন।

ভোটে হেরে বাড়ি বাড়ি ঘুরে টাকা ফেরত চাইছেন প্রার্থীর স্ত্রী

ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যে পৌর নির্বাচনে পরাজয়ের পর এক প্রার্থীর পরিবারের কর্মকাণ্ড ঘিরে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, এক প্রার্থীর স্ত্রী বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের কাছ থেকে টাকা ফেরত চাইছেন বলে অভিযোগ