আন্তর্জাতিক


এবার রকেট সহ ইউক্রেনকে ২০০ কোটির অস্ত্র দিচ্ছেন বাইডেন


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০২:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার

এবার রকেট সহ ইউক্রেনকে ২০০ কোটির অস্ত্র দিচ্ছেন বাইডেন

ইউক্রেনকে ২২০ কোটি ডলারের সামরিক সরঞ্জাম প্যাকেজ দিচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র! রাশিয়াকে কোনঠাসা করতেই এই মার্কিন পদক্ষেপ! অত্যাধুনিক ট্যাংক দেবার পরই এলো এমন ঘোষণা!

মোটা অঙ্কের এই সামরিক প্যাকেজে আমেরিকার হাইমার্স ক্ষেপণাস্ত্র, গ্রাউন্ড লঞ্চড স্মল ডায়ামিটার বোম্বসহ থাকছে অত্যাধুনিক সব রকেট। তাছাড়া  রকেট প্রপেল চালিত বোমাও থাকবে এই প্যাকেজের মধ্যেই! 

শুধু আমেরিকার এই বরাদ্দই নয় , নতুন করে  ইউক্রেনে আরও অস্ত্র পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া , ফ্রান্স এবং ইতালি। রাশিয়ার হুমকির বিপরীতে দাঁতভাঙা জবাব দিতে ব্যস্ত ইউক্রেনের মিত্র দেশগুলো। 

শুক্রবার মার্কিন সেনা সদর দপ্তর পেন্টাগন থেকে নতুন এই বরাদ্দের ঘোষণা এসেছে। ইউক্রেনকে নতুন করে ২২০ কোটি ডলারের অস্ত্রের প্যাকেজটি খুব শীগ্রই সরবরাহ করা হবে বলেও জানায় পেন্টাগন। 

রাশিয়ার বিরুদ্ধে বর্তমানে ইউক্রেনের সেনারা এক ধরনের রকেট চালিত বোমা ব্যবহার করছে। এর কার্যকারিতা কম থাকায় ইউক্রেনকে রকেট প্রপেল চালিত বোমা দেওয়া হচ্ছে। নতুন চালানের এসব বোমার পাল্লা হবে পূর্বেরগুলোর চেয়েও দ্বিগুণ।

এসব বোমা ইউক্রেনীয় সেনাদের কৌশলগত বাড়তি সুবিধা দেবে জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন পেন্টাগনের মুখপাত্র প্যাট রাইডার। তিনি জানিয়েছেন, এই ধরনের বোমা দেড়শ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে। নতুন চালানের বোমা পাওয়ার পরে ইউক্রেনের সেনাদের দূরবর্তী লক্ষ্যবস্তুতে হামলার সক্ষমতা আরো বাড়বে।

এর আগে ইউক্রেনকে ৩১টি অত্যাধুনিক প্রযুক্তির আব্রামস ট্যাংক দেয়ার কথা ঘোষণা দেয় পেন্টাগন। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারির পর থেকে এখন পর্যন্ত কিয়েভ সরকারকে ২৯০০ কোটি ডলারের অস্ত্র সহায়তা দিয়েছে বাইডেন প্রশাসন।

ইউক্রেনের সমরাস্ত্র সরবরাহের আহ্বানে সাড়া দিয়ে যুক্তরাষ্টের সঙ্গে সঙ্গে তাল মেলাচ্ছে ন্যাটো ভুক্ত দেশগুলো।  ইউক্রেনকে ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র দিতে একমত হয়েছে ফ্রান্স এবং ইতালি এমন খবর জানিয়েছে ফ্রান্সের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ।

ফরাসি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, মধ্যমপাল্লার এই ক্ষেপণাস্ত্র ছুটে আসা ক্ষেপণাস্ত্র অথবা যুদ্ধবিমান কিংবা ড্রোন ধ্বংস করতে সক্ষম। এসব ক্ষেপণাস্ত্র পেলে রাশিয়ার হামলা ঠেকিয়ে উল্টো রাশিয়ার উপর কর্তৃত্ব বিস্তার করতে পারবে ইউক্রেন।

ফ্রান্স ইতালি ছাড়াও ইউক্রেনকে অস্ত্র সহায়তা দেওয়ার দ্বারপ্রান্তে রয়েছে নেতানিয়াহু। জো বাইডেনের প্রশাসন আশা করে নেতানিয়াহুর সরকার ইউক্রেনকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেবে। বহুদিন থেকেই ইউক্রেন ইসরাইলের কাছে অস্ত্র-সহযোগিতা চেয়ে আসছে। তাই খুব শীগ্রই চালান পাঠাবেন নেতানিয়াহু এমনটাই আশা করা হচ্ছে।

রাশিয়ার বারবার হুঁশিয়ারি সত্ত্বেও আমেরিকা ও তার মিত্ররা নতুন করে এসব অস্ত্র দেয়ার কথা ঘোষণা করেছে। এর প্রেক্ষিতে প্রতিক্রিয়াও জানিয়েছে রাশিয়া। পুতিন সরকার বলছে পশ্চিমাদের এ সমস্ত অস্ত্র ইউক্রেন যুদ্ধের কোন পরিবর্তন ঘটাতে পারবে না বরং যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হবে।

ইউক্রেনের হয়ে ন্যাটোভুক্ত এসব দেশের অপতৎপরতায় একহাত নিয়েছেন রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের সচিব নিকোলাই পাত্রুশেভ। তিনি বলেছেন, ন্যাটোজোটের বিভিন্ন সদস্যের ইউক্রেন সংঘাতে জড়িত হওয়ার মধ্য দিয়ে প্রকৃতপক্ষে এই যুদ্ধ এখন মস্কো ও পশ্চিমা সামরিক জোটের মধ্যকার যুদ্ধে পরণত হয়েছে।

এদিকে ইউক্রেনে ক্রমাগত পশ্চিমা সহায়তার কারণে ক্রমেই জটিল থেকে জটিলতর হচ্ছে রাশিয়া ইউক্রেন সংকট। দীর্ঘ এক বছর ধরে চলতে থাকা এই সংকটের মুখে ঘি ঢালছে পশ্চিমাদের সামরিক সহায়তা। তাই বিশ্বের অর্থনীতির মন্দাবস্থা খুব সহজেই কাটছে না বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। 







জনপ্রিয়


আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন

৪০ দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ- কোন দেশে কত নিহত, বাংলাদেশির সংখ্যা কত?

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর পাল্টা জবাব দিয়েছে ইরান। শুধু ইসরায়েল নয়, ইরানের পক্ষ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায়ও হামলা চালানো হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক বিজয় হয়েছে: ডোনাল্ড ট্রাম্প

ইরান-এর সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ‘সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক বিজয়’ অর্জন করেছে।

যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে ‘ইরানের বিজয়’

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের উত্থাপিত ১০ দফা দাবি মেনে নিয়েছেন বলে দাবি করেছে তেহরান। এর পরিপ্রেক্ষিতে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে নিজেদের কূটনৈতিক বিজয় হিসেবে দেখছে ইরান।

যুক্তরাষ্ট্র ‘রেড লাইন’ পার হলে সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ছড়িয়ে পড়বে: ইরান

যুক্তরাষ্ট্র যদি তেহরানের নির্ধারিত ‘রেড লাইন’ অতিক্রম করে, তাহলে চলমান সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ছড়িয়ে পড়তে পারে- এমন কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।