মার্কিন শর্তে চরম বিপাকে তুরষ্ক! মার্কিন অত্যাধুনিক এফ-16 যুদ্ধবিমান পেতে পেতে হাতছাড়া হবার শংকায় এরদোয়ান!
যুক্তরাষ্ট্র জানিয়ে দিয়েছে তুরষ্ক এফ-16 যুদ্ধবিমান পেতে পারে তবে সুইডেনকে ন্যাটোতে অন্তর্ভূক্ত হবার অনুমোদন দিলে তারপর!
আমেরিকার এই শর্তে রীতিমতো কপালে ভাঁজ পড়েছে তুরস্কের! সুইডেনের সাথে তুরষ্কের অতীতের টানাপোড়েনতো রয়েছেই, নতুন করে পবিত্র কুরআন অবমাননাকে কেন্দ্র করে ন্যাটো জোটে ফিনল্যান্ড ও সুইডেনের অন্তর্ভুক্তির বিরোধিতা করছে তুরস্ক।
ন্যাটোতে অন্তর্ভূক্তিতে তাদের সমর্থন দেবেন না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান।
তুরস্কের এমন অবস্থানের পর আঙ্কারার প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন মার্কিন সিনেটররা। হুশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, তুরস্ক তার এফ-16 যুদ্ধবিমানগুলোর আধুনিকায়ন চাইলে- ফিনল্যান্ড ও সুইডেনের ন্যাটো জোটে অন্তর্ভুক্তির বিরোধিতা থেকে সরে যেতে হবে দেশটিকে!
এর আগে ২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে এফ-16 যুদ্ধবিমান ও সংশ্লিষ্ট যন্ত্রাংশ কেনার চুক্তি করে আঙ্কারা। এই চুক্তির আওতায় ৪০টি বিমান ও ৭৯টি যন্ত্রাংশ আঙ্কারাকে সরবরাহ করার কথা ছিলো। কিন্তু মার্কিন কংগ্রেসের বাধায় এখনও বাস্তবায়ন হয়নি এই চুক্তি। তাই এসব সামরিক সরঞ্জামসমূহ পেতে হলে ন্যাটোর সম্প্রসারণ অনুমোদন দিতে হবে তুরস্ককে।
এদিকে চলমান রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধে ন্যাটোতে যোগ দেওয়ার মিশনে নেমেছে ইউরোপের দেশগুলো। এরই ধারাাহিকতায় ন্যাটোতে অন্তর্ভুক্ত হতে শুরু থেকেই আগ্রহ প্রকাশ করে আসছে সুইডেন এবং ফিনল্যান্ড সহ আরো বেশ কয়েকটি দেশ।
কিন্তু বাক স্বাধীনতার নামে পবিত্র কোরআন পোড়ানোর মতো ঘটনা ঘটে দেশ সুইডেন এবং ফিনল্যান্ডে। এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে সুইডেনের ন্যাটোতে যোগ দেওয়ার ব্যাপারে ঘোর আপত্তি জানায় এরদোগান সরকার।
এর পরপরই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের ন্যাটো পর্যবেক্ষক গ্রুপের কো-চেয়ারম্যান সিনেটর জিনি শাহিন ও সিনেটর থম টিলিস - ২৫ জন মার্কিন সিনেটরের পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্ট বাইডেনের কাছে একটি চিঠি পাঠান গত বৃহস্পতিবার।
সেই চিঠিতে হুশিয়ারি দিয়ে বলা হয়, তুরস্ক যদি ন্যাটোতে কোনো দেশের অন্তর্ভুক্তির বিরোধিতা করে তাহলে এফ-16 যুদ্ধবিমানসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে তুরস্ক কংগ্রেসের সমর্থন হারাবে। পাশপাশি ফিনল্যান্ড ও সুইডেনের ন্যাটোতে অন্তর্ভুক্তি এখনি অনুমোদন করতে হবে, নতুবা তার জন্যে নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিতে হবে বলেও বাইডেনকে জানান তারা।
কারণ হিসেবে রাশিয়ার আগ্রাসনের কথা মার্কিন প্রেসিডেন্টকে জানিয়েছেন সিনেটররা। রাশিয়া যখন বিনা উস্কানিতে ইউক্রেনে আগ্রাসন চালিয়ে যাচ্ছে তখন ন্যাটোর সম্প্রসারণ অতি জরুরি যা আঙ্কারাকে উপলব্ধি করতে হবে বলেও তারা মন্তব্য করেন।
তবে এরদোগান জানিয়েছেন, ন্যাটোতে ফিনল্যান্ডের অন্তর্ভুক্তির অনুরোধের ব্যাপারে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করে তুরস্ক। কিন্তু পবিত্র কুরআন অবমাননার কারণে সুইডেনের অন্তর্ভুক্তির বিরোধিতা করছে আঙ্কারা।
এদিকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ন্যাটোতে সুইডেন ও ফিনল্যান্ডের অন্তর্ভুক্তি সকলে অনুমোদন দিলেও বাদ রয়েছে তুরস্ক ও হাঙ্গেরি। কিন্তু জোটের নিয়ম অনুযায়ী, ন্যাটোতে নতুন সদস্য নিতে হলে সবগুলো সদস্যদেশের অনুমোদন নিতে হবে।
৩০ সদস্য বিশিষ্ট এই জোটের কেউ ভেটো দিলে সেক্ষেত্রে আটকে থাকবে নতুন সদস্যের অন্তর্ভুক্তি। সুইডেন ফিনল্যান্ডের ক্ষেত্রে যেটি ঘটিয়েছে তুরস্ক আঙ্কারা। তাই সমর্থন আদায় করতে কৌশলী হয়ে চুক্তির প্রসঙ্গ টেনে এনেছেন মার্কিন সিনেটরেরা।
সম্প্রতি সুইডেন, ডেনমার্ক ও নেদারল্যান্ডের উগ্র ডান-পন্থি রাজনীতিবিদরা পবিত্র কুরআন পোড়ানোর মত ঘটনা ঘটায়। ন্যাক্কারজনক এই ঘটনায় সারাবিশ্বের মুসলিম দেশগুলোর নাগরিকরা ইউরোপীয় দেশগুলোতে পবিত্র কুরআন অবমাননার নিন্দা জানিয়ে বিক্ষোভ করেন।
প্রতিবাদের অংশ হিসেবে ইউরোপের ৯ দেশের কূটনৈতিকদের তলব করে তুরস্ক। এরই ধারাবাহিকতায় সুইডেনের ন্যাটোতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে আপত্তি প্রকাশ করে তুরস্ক। কিন্তু তুরস্কের যুদ্ধ বিমান পাওয়া না পাওয়া নির্ভর করছে এই সমর্থনের ওপর। সেক্ষেত্রে নিজেদের অবস্থান থেকে তুরস্ক সরে দাঁড়াবে কিনা সেটাই দেখার বিষয়।