বৃদ্ধ হচ্ছে সূর্য! মৃত্যু হচ্ছে এই নক্ষত্রের! শুনতে অবিশ্বাস্য শোনালেও এমনটাই বলছেন বিজ্ঞানীরা! আর যদি এটা সত্য হয় তাহলে সূর্যের মৃত্যুর সাথে সাথে ঘটবে পৃথিবীর মৃত্যু!
সূর্যের ভিতরে ক্রমাগত চলমান ‘নিউক্লিয়ার ফিউশন’ অর্থাৎ, হাইড্রোজেন পরমাণু পরস্পর যুক্ত হয়ে তৈরি করছে হিলিয়াম পরমাণু।
এই প্রক্রিয়াতেই তৈরি হয় বিপুল পরিমাণ শক্তি। বিজ্ঞানীরা বলছেন, সূর্যের ভিতরে হাইড্রোজেনের পরিমাণ যখন কমে আসবে, তখন তার প্রভাব পড়বে এই প্রক্রিয়ায়। ধীরে ধীরে নিভে আসবে সূর্য।
প্রায় ৪৫ কোটি বছর ধরে আলো দিয়ে চলেছে সূর্য৷ নক্ষত্রটি যদি কোনোভাবে ধ্বংস, বিলীন বা বুড়ো হয়ে যায়, তাহলে ঘটবে ভয়াবহ ঘটনা। যার সমাপ্তি হবে পৃথিবী ধ্বংসের মাধ্যমে।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, সূর্যের কারণেই এক সময় পৃথিবী শেষ হয়ে যাবে। ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণের জেরেই পুরো মহাবিশ্ব পুড়ে ছাই হয়ে যাবে।
নক্ষত্রটির কোর তথা হৃদয়ে বিস্ফোরণের ফলে এর আয়তন বেড়ে যাবে, প্রচণ্ড তাপে বুধ ও শুক্র গ্রহের পাশাপাশি পৃথিবীও জ্বলে ছারখার হয়ে যাবে।
এখন যদি বিস্ফোরিত না হয়ে হঠাৎ করে সকালে উঠে দেখতে পেলেন অন্ধকার! বাইরে আকাশে তাকিয়ে দেখতে পেলেন সূর্য নেই, আবার মেঘও নেই। অর্থাৎ মামা পালিয়েছে। তখন আসলে কী হতে পারে, শুনবো সেই গল্প!
এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে রীতিমতো উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন বিজ্ঞানীরা। কেননা সূর্য পৃথিবী থেকে প্রায় ৩৩০০০০ হাজার গুন ভারী।
এটি প্রতি সেকেন্ডে তৈরি করে ১০০ বিলিয়ন হাইড্রোজেন বোমার সমান শক্তি। আর এর প্রবল আকর্ষণ বল দিয়েই সূর্য পৃথিবীসহ আটটি গ্রহকে তার কক্ষপথে ধরে রেখেছে। তাহলে চিন্তা করুন সূর্য ধ্বংস হয়ে গেলে কি হবে আমাদের?
সূর্য হঠাৎ নিশ্চিহ্ন হয় গেলে সৌরজগতের গ্রহগুলো ছিটকে মহাশূন্যে ভাসতে থাকবে। পাশাপাশি এদের মাঝে ঘটে যাবে ভয়াবহ সংঘর্ষ।
সূর্য বিস্ফোরিত হলে কয়েক সেকেন্ড বা মিনিটের মধ্যে পৃথিবীপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়ে সূর্যের বর্তমান পৃষ্ঠের তাপমাত্রার চেয়ে ১৫ গুণ বেশি হবে।
ধ্বংস হওয়ার মাত্র ৮ মিনিট ১৯ সেকেন্ডের কিছু কম সময় পর্যন্ত এর আলো পৃথিবী থেকে দেখা যাবে। এরপর নেমে আসবে স্থায়ী অন্ধকার।
তখন চাঁদও অদৃশ্য হয়ে যাবে। কারন সূর্যের আলো না থাকায় চাঁদের পৃষ্ঠে আর কোনো আলো প্রতিফলিত হবে না।
তাছাড়া ছায়াপথে রয়েছে প্রায় ১০০ বিলিয়ন সূর্যের মতো তারা, আরও রয়েছে ১ বিলিয়নের মতো ব্ল্যাকহোল। তাদের মধ্যেও ঘটে যাবে সংঘর্ষ এবং বিস্ফোরণ।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, সূর্য বিস্ফোরণের মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে পৃথিবীপৃষ্ঠের তাপমাত্রা নেমে আসবে মাইনাস ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে।
এক বছরের ভেতর তা মাইনাস ৭৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কম হতে পারে। যে কারণে মহাসাগরগুলোর বরফের স্তুপে পরিণত হবে।
এক হাজার বছরের মধ্যে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলও বরফ হয়ে যাবে এবং ধসে পড়বে। যা কিছু অবশিষ্ট থাকবে তা মহাজাগতিক বিকিরণ ও গ্রহাণুর আঘাতে বিধ্বস্ত হবে।
বিজ্ঞানীদের দাবি, প্রায় ১১০০ কোটি বছর বয়সে পুরোপুরি মৃত্যু হবে সূর্যের, বর্তমানে সূর্যের বয়স ৪৫৭ কোটি বছর। অর্থাৎ, সূর্যের মধ্যে এখনও যে জ্বালানি অবশিষ্ট রয়েছে তা দিয়ে ৪৫০ থেকে ৫৫০ কোটি বছর এই অবস্থায় থাকতে পারবে।
সূর্য বুড়ো হয়ে গেলে কি হবে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্যও বের করেছেন বিজ্ঞানীরা। তারা বলছে এখন থেকে পাঁচ বিলিয়ন বছর পরে আমাদের সূর্য লাল দানব নক্ষত্রে রূপান্তরিত হবে। এ সময় সূর্যের আকার বর্তমানের চেয়ে শতগুণ বেড়ে যাবে।
শক্তিশালী নাক্ষত্রিক ঝড়ে সূর্যের তীব্র ভর কমে যাবে। এর বিবর্তন-প্রক্রিয়ার শেষে সাত বিলিয়ন বছর পরে এটি ক্ষুদ্র সাদা বামন তারায় রূপান্তরিত হবে।
এ সময় এটি পৃথিবীর মতো ছোট আকার ধারণ করবে। কিন্তু এটি হবে আরও ভারী। এই সাদা বামন তারার এক চা-চামচ উপাদানের ভর দাঁড়াবে প্রায় পাঁচ টন।
এই রূপান্তর প্রক্রিয়ায় সৌরজগতের গ্রহগুলোর ওপর নাটকীয় প্রভাব ফেলবে। বৃহস্পতি, শুক্রের মতো গ্রহগুলো বিশাল নক্ষত্রের মধ্যে হারিয়ে যাবে এবং ধ্বংস হবে। পাশাপাশি এটি পৃথিবীকেও ধ্বংস করে ফেলবে।