চীনা গোয়েন্দা বেলুনের জবাব ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে দিলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র! এ যেনো মশা মারতে কামান দাগা!
মার্কিনি দাঁতভাঙা জবাব মোটেও ভালভাবে নেয়নি চীন! কঠোর সমালোচনা করলো বেইজিং!
যুক্তরাষ্ট্রের আকাশে চীনের পাঠানো গোয়েন্দা বেলুনটি ভূপাতিত করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।
এতে উচ্ছাস প্রকাশ করে, এই অপারেশনে নিয়োজিত পাইলটদের ইতোমধ্যেই অভিনন্দন জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।
রীতিমতো যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে শনিবার বেলুনটি ধ্বংস করে মার্কিন সামরিক বাহিনী। এর আগে চীন থেকে পাঠানো এই বেলুন, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় নজরদারি করছিল বলে দাবি করেছে দেশটি।
বেশ কিছুদিন আগে চীনের ওই বেলুনটি আকাশে থাকা অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের নজরে আসে। বেলুনটি চীন থেকে পাঠানো হয়েছে বলে বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়। এরপর থেকেই এই বেলুনটিকে ধ্বংস করতে চাপে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।
বেলুনটির ধ্বংসাবশেষ আটলান্টিক মহাসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের জলসীমায় পড়েছে। বেলুনটি ভূপাতিত করার সময় আশেপাশের তিনটি বিমানবন্দর বন্ধ রাখা হয়। এরপর থেকে বেলুনের ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করতে তৎপরতা চালাচ্ছে দেশটির সামরিক বাহিনী।
যুক্তরাষ্ট্রে উত্তেজনা সৃষ্টি করা রহস্যময় এই বেলুন কাণ্ডে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে চলমান উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। এ ঘটনার জেরে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের পূর্ব নির্ধারিত চীন সফরও বাতিল করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন।
চীনের এহেন কাণ্ডে সমালোচনা করেছেন খোদ চীনের প্রশাসনিক কর্মকর্তারাও। চীনা বেলুনের অনুপ্রবেশ একটি দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজ, এটা যুক্তরাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন ও আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেছেন চীনের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইকে।
তবে চীন ইচ্ছাকৃতভাবে আমেরিকার আকাশে বেলুন পাঠানোর অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছে বেইজিং।
চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, মূলত আবহাওয়া পর্যবেক্ষণের জন্য বেলুনটি আকাশে উড়িয়েছিলেন তারা। কিন্তু নির্দিষ্ট পথে না গিয়ে বাতাসের প্রভাবে সেটি যুক্তরাষ্ট্রে চলে গেছে। দেশটির আকাশসীমায় অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে বেলুনটি উড়ে যাওয়ার এ ঘটনার জন্য বেইজিং অনুতপ্ত বলেও অফিশিয়ালি বিবৃতি দেওয়া হয়।
চীনের এই গোয়েন্দা বেলুন ভূপাতিত করার পর ,প্রচারণার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতেও ভুলে যাননি মার্কিন কর্মকর্তারা। এটিকে আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বাইডেন এর নির্বাচনী প্রচারণাও বলছেন অনেকে।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন বলেছেন, চীনা বেলুন ভূপাতিত করার ঘটনায় প্রমাণিত হয়েছে যে, প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও তার জাতীয় নিরাপত্তা টিম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জনগণকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দিতে বদ্ধপরিকর।
তবে এই ঘটনার জেরে আরো বেশি তলানিতে পৌঁছাতে যাচ্ছে দুই দেশের সম্পর্ক। আগামী সপ্তাহে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর চীন সফরের কথা থাকলেও সেটি বাতিল করা হয়েছে। কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার কথা ছিল অ্যান্থনি ব্লিঙ্কেনের।
তীব্র বাক্যবাণে পরস্পরকে জর্জরিত করা, চরম উত্তেজনা কিংবা পিছু হটে ‘যুদ্ধবিরতি’র নরম সুর, এগুলো খুবই সাধারণ দেশ দুটির মধ্যে। পৃথিবীর অন্যতম পরাশক্তি দুই দেশের মধ্যে ২ বছরের বাণিজ্য বিরোধ থাকা স্বত্তেও যুক্তরাষ্ট্রকে ছাপিয়ে পৃথিবীর সর্ববৃহৎ অর্থনীতিতেও পরিণত হয়েছে চীন।
ওয়াশিংটন-বেইজিংয়ের মধ্যকার এ বাণিজ্য যুদ্ধ শুরু হয় মূলত ২০১৮ সালের জুন থেকে। চীনের সঙ্গে বিপুল বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনতে দেশটির রফতানি পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক বসায় যুক্তরাষ্ট্র। পাল্টা জবাবে মার্কিন পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক বসায় চীনও।এরপরই দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক যুদ্ধ তীব্র আকার ধারণ করে। তবে দুই দেশের সম্মতিতে নিজেদের স্বার্থেই এই প্রতিযোগিতা থেকে সরে আসে তারা। এসবের মধ্যেই উঠে এলো ২০২৫ সালে চীনে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার নীল নকশা, যা দুটো দেশের বোঝাপড়াকে আরো জটিল করে তুলেছে..