আন্তর্জাতিক


সম্পর্কের উন্নতি চায় পাকিস্তান, রাষ্ট্রীয় ক্ষমার শর্ত ঢাকার


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০৩:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার

সম্পর্কের উন্নতি চায় পাকিস্তান, রাষ্ট্রীয় ক্ষমার শর্ত ঢাকার

বাংলাদেশের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নে মরিয়া পাকিস্তান! রাষ্ট্রীয় ক্ষমা না চাইলে হবেনা কোনো অগ্রগতি! সাফ জানিয়ে দিলো বাংলাদেশ!

সম্প্রতি শ্রীলংকায় এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন এ কে আব্দুল মোমেন। বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করলে এর জবাবে মোমেন অতীতের নৃশংসতার জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে, এমনটাই জানিয়েছেন।

তবে একাত্তরে গণহত্যার জন্য পাকিস্তানকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার ব্যাপারটিতে নিজেদের কিছু ‘সীমাবদ্ধতার কথা’ তুলে ধরেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিনা রাব্বানি খার। কিন্তু পাকিস্তান ক্ষমা চাইবে কিনা সে ব্যাপারে কোনো নিশ্চয়তা দেননি তিনি।

শ্রীলঙ্কার ৭৫তম স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়ে এই দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে উপস্থিত হন মোমেন ও হিনা রাব্বানি খার। শ্রীলঙ্কা সফর শেষে দেশে ফিরে রোববার সাংবাদিকদের এই বৈঠক সম্পর্কে অবহিত করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

পাকিস্তানের সম্পর্ক উন্নয়নের আগ্রহের প্রেক্ষিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সম্পর্ক বাড়ানোর একটি বড় মহৌষধ ক্ষমা চাওয়া। বাংলাদেশের নিরপরাধ মানুষের সঙ্গে যে নৃশংসতা করা হয়েছিল এর জন্য দেশের  মানুশের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে পাকিস্তানকে।

তবে এই শর্তে হিনা রাব্বানির কী প্রতিক্রিয়া ছিল, সে বিষয়ে খোলাসা করতে গিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন , উনি বললেন যে, ওনাদের কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। আমি বলি যে, আমাদের এখানেও কিছু সীমাবদ্ধতা আছে।”

একাত্তরে গণহত্যার জন্য ক্ষমা চাওয়ার বিষয়ে বক্তব্যের পাশাপাশি বাণিজ্য বাড়ানো নিয়ে এ খাতের বাধা বিশেষ করে অ্যান্টি-ডাম্পিং তুলে নিতে পাকিস্তানি মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হওয়ার কথা তুলে ধরেন মোমেন।

তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর  অর্ধশত বছর হতে চললেও দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্কের কোনো পরিবর্তন আসেনি। তবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান সহ বাংলাদেশের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক চেয়েছেন পাকিস্তানের হর্তাকর্তারা।

তবে সম্পর্ক উন্নতি না হওয়ায় পেছনে মুক্তিযুদ্ধে সংঘটিত মানবতা বিরোধী অপরাধের বিচারের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের প্রকাশ্য অবস্থান এবং বিচারের বিরোধিতা করায় দুই দেশের সম্পর্ক একবারে তলানিতে রয়েছে।

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নের পথে আরেকটি অন্তরায় বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের গভীর সম্পর্ক।  ঠিক তার বিপরীতে ভারতের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রাষ্ট্র হচ্ছে পাকিস্তান। এই ত্রিমুখী সম্পর্ক বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্ককেও প্রভাবিত করে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

বাংলাদেশে আটকে পড়া পাকিস্তানি বা উর্দুভাষীদের ফেরত না নেওয়া ও সম্পর্ক উন্নয়ন না হওয়ার আরেকটি অন্তরায়। বাংলাদেশে আটকে পড়া পাকিস্তানি জনগণের সংখ্যা ৫ লাখের ওপরে। এদের মধ্যে সাড়ে তিন লাখের বসবাস বিভিন্ন এলাকায় শরণার্থী ক্যাম্পে।

স্বাধীনতার পর পর পাকিস্তানে চলে যাওয়ার সুযোগ দেয়া হয়েছিল আটকে পড়া এসব পাকিস্তানি নাগরিকদের। কিন্তু সে বিষয়টিও বাস্তবতা পায়নি পাকিস্তানের অসহযোগিতার কারণে। বাংলাদেশ থেকে নিজেদের আটকে পড়া নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে রাজি হয়নি পাকিস্তান।

দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতি আরেকটি বড় কারন। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সাথে বাংলাদেশের আমদানি বিষয়ক সম্পর্ক থাকলেও রপ্তানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশে এসব দেশের উপর নির্ভরশীল নয়। বরং বাংলাদেশ রপ্তানি করে থাকে ইউরোপের দেশগুলোতে।

তবে সম্পর্ক উন্নয়ন হওয়ার সবচে বড় শর্ত রাষ্ট্রীয় ক্ষমা চাওয়া। বাংলাদেশের মানুষ বরাবরই চেয়েছে যে পাকিস্তান তাদের কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা চাক। কিন্তু পাকিস্তান সেটা কখনো করেনি।

যদিও পাকিস্তানের পক্ষে মাফ চাওয়া সম্ভব নয়। কেননা মাফ চাইতে হলে সেনাবাহিনীর হয়ে মাফ চাইতে হবে পাকিস্তানকে। আর পাকিস্তানের শাসন ব্যবস্থায় এখনো অনেক বড় অংশ জুড়েই রয়েছে সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণ এবং প্রভাব।

আপনাদের কী মনে হয় এরকম অবস্থায় পাকিস্তানের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক কী উন্নয়ন সম্ভব? 









জনপ্রিয়


আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন

খামেনি ও তার ছেলেকে হত্যার পরিকল্পনা

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘিরে নতুন করে যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে একটি নতুন চুক্তিতে রাজি হওয়ার আহ্বান জানিয়ে সতর্ক করেছেন শর্ত না মানলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। চুক্তিতে সম্মত হওয়ার জন্য ইরানকে ১০ দিনের সময়সীমা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

গাজার পুনর্গঠনে ৭০০ কোটি ডলার: ‘শান্তি পর্ষদ’ বৈঠকে ট্রাম্পের ঘোষণা

ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত তথাকথিত ‘শান্তি পর্ষদ’–এর প্রথম বৈঠকে ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজা উপত্যকার পুনর্গঠনের জন্য ৭০০ কোটি ডলারের তহবিল প্রতিশ্রুতির কথা জানান। তাঁর দাবি, ৯টি সদস্যরাষ্ট্র প্রাথমিকভাবে এ তহবিলে অর্থ দিতে সম্মত হয়েছে। একই সঙ্গে গাজায় একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েনে পাঁচটি দেশ নীতিগত সম্মতি দিয়েছে।

‘হাড় না ভাঙা’ পর্যন্ত স্ত্রীকে মারার অনুমোদন- আফগানিস্তানে নতুন আইন ঘিরে বিতর্ক

নারীদের বিরুদ্ধে নতুন কড়া আইন জারির অভিযোগ উঠেছে আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের বিরুদ্ধে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেন্ডেন্ট-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির নতুন ফৌজদারি আইনে স্বামীদের স্ত্রী ও সন্তানদের শারীরিকভাবে শাস্তি দেওয়ার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যা পারিবারিক সহিংসতাকে কার্যত বৈধতা দিচ্ছে বলে সমালোচকরা দাবি করছেন।

ভোটে হেরে বাড়ি বাড়ি ঘুরে টাকা ফেরত চাইছেন প্রার্থীর স্ত্রী

ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যে পৌর নির্বাচনে পরাজয়ের পর এক প্রার্থীর পরিবারের কর্মকাণ্ড ঘিরে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, এক প্রার্থীর স্ত্রী বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের কাছ থেকে টাকা ফেরত চাইছেন বলে অভিযোগ