আন্তর্জাতিক


বিপুল অর্থ ব্যয়ে স্বাধীনতা দিবস উদযাপনে ক্ষেপেছেন লঙ্কাবাসী


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০৩:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার

বিপুল অর্থ ব্যয়ে স্বাধীনতা দিবস উদযাপনে ক্ষেপেছেন লঙ্কাবাসী

চরম অর্থনৈতিক সংকটেই ঘটা করে স্বাধীনতা দিবস উদযাপন! ফের আলোচনায় শ্রীলংকা! ক্ষেপেছে দেশটির আপামর জনগণ! 

যেখানে দেশটির মানুষ ঠিকমতো খেতে পাচ্ছে না সেখানে ৫ লক্ষ ৪৮ হাজার মার্কিন ডলার খরচা করে, স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করে কঠোর সমালোচনার শিকার শ্রীলংকার হর্তা কর্তারা! 

এরই ধারাবাহিকতায় গত চৌঠা ফেব্রুয়ারি লঙ্কাবাসী এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে রাজধানীর কলম্বোতে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভও করেছেন। 

এই মুহূর্তে দেশটি মাত্রাতিরিক্ত অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকটে রয়েছে। ১৯৪৮ সালে স্বাধীনতা লাভের পর এমন কঠিন পরিস্থিতির শিকার দেশটিকে আর কখনোই হতে হয়নি। 

তীব্র জালানি সংকট, নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি, লাগামহীন মুদ্রাস্ফীতি, ঋণের দায়সহ ইত্যাদি কারণে নাটকীয় পতন ঘটে দেশটির অর্থনীতির!  

পরিস্থিতি এতোটাই বেগতিক হয়েছিলো যে, প্রবল বিক্ষোভের মুখে দেশটির প্রধানমন্ত্রী গোতাবায়া রাজাপাকসে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। 

পরবর্তীতে ২০২২ সালের ২০ জুলাই বিক্রমাসিংহকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচন করা হয়। বর্তমানে দেশটিতে এখনো প্রায় ৪০ শতাংশ পরিবারের খাদ্যের কোন নিরাপত্তা নেই। 

সেই সাথে দুই ঘন্টারও বেশি সময় ধরে বিদুৎ সরবারাহ বন্ধ থাকছে অনেক এলাকায়। এমন চরম অস্থিরতার মাঝেও, এত অর্থ ব্যয় করে স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের সিদ্ধান্ত সরকার কি করে নিলো, তা নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে গোঁটা বিশ্বে। 

এর আগের সরকারের এমনই কিছু অযৌক্তিক সিদ্ধান্তের কড়া মূল্য এখনো দিতে হচ্ছে শ্রীলঙ্কাকে। রাজাপাকসের সরকার বেশ কিছু অপ্রয়োজনীয় মেগা প্রকল্প হাতে নিয়েছিল। 

এর মধ্যে বিমানবন্দর, রাস্তা নির্মাণসহ উল্লেখযোগ্য কিছু প্রকল্প ছিল। এমন উচ্চাভিলাসী প্রকল্পের জন্য গত কয়েক বছরে, চীনের কাছ থেকে প্রায় পাঁচ বিলিয়ন ডলার ঋন নিয়েছিল দেশটির সরকার।

পরবর্তীতে বেশ কিছু অবকাঠামো তৈরি করা হলেও তা থেকে আশানুরূপ কোনো ফলাফলই আসেনি! তাছাড়া, শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ ছিল দেশটিতে পর্যটক আসার পরিমান কমে যাওয়া। একটা সময় দক্ষিণ এশিয়ার মানুষের ভ্রমণ তালিকার শীর্ষে ছিল শ্রীলঙ্কা। 

প্রতি বছর গড়ে ১০ লক্ষ মানুষ ঘুরতে যেত শ্রীলঙ্কায়। দেশটির এখান থেকেই আয় হতো ২০০ কোটি ডলার! মোট কথা জিডিপির প্রায় ১২ শতাংশই আসত পর্যটন খাত থেকে।

তবে গৃহযুদ্ধ ও ২০১৯ সালের বোমা হামলার কারণে শ্রীলঙ্কায় পর্যটক আসার পরিমান একদমই কমে যায়। রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার মধ্যে পর্যটকদের সেখানে না যাওয়াটাই স্বাভাবিক। 

এরপরে করোনার প্রকোপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শ্রীলঙ্কার বহু প্রবাসী চাকরি হারিয়ে দেশে ফেরত আসে। যার দরুন কমে যায় বৈদাশিক মুদ্রার আয়ের পরিমানও।

সাধারণ মানুষের জীবন তখন আরো দুর্বিষহ হয়ে ওঠে ,যখন পেট্রোল সহ খাবারের দাম অস্বাভাবিক ভাবে বেড়ে যায়। 

১০০ টাকাতে তখন কেবল ১ কেজি আলু পাওয়া যেত। পেট্রোলের দাম বাড়ার কারণে রাস্তাঘাটে গাড়ি চলাচলের পরিমানও অনেক কমে গিয়েছিল।

এমন অর্থনৈতিক সংকটের চাপে শ্রীলঙ্কান সরকার ভারত, চীন, জাপানসহ বিভিন্ন দেশের ঋণ পরিশোধেও ব্যর্থ হয়ে পড়ে।

তবে শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক চাকা পূর্বের থেকে কিছুটা হলেও সচল হয়েছে। তথ্যানুযায়ী, নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পরে ধীরে ধীরে পর্যটন খাত থেকেও বৈদাশিক মুদ্রার আয় বাড়ছে।

বর্তমানে দেশটিতে পর্যটক আসা শুরু করলেও তা আশানুরূপ পর্যায়ে যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে ক্ষমতায় আসা নতুন সরকার সঠিকভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করলে, পূর্বের চেয়েও বেশি পর্যটক 
শ্রীলঙ্কায় নিয়ে আসা সম্ভব হবে। ফলস্বরূপ ২০০ কোটি রাজস্ব আয় অর্জনেও বেশি সময় লাগবে না।

এমতাবস্থায় সরকারের যেকোন অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত দেশটির জন্য ক্ষতিকর প্রমাণিত হতে পারে। তাই সরকার সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে পুনরায় শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক মানদণ্ড শক্ত করবে বলে আশা রাখছেন দেশটির জনগন। 



জনপ্রিয়


আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন

খামেনি ও তার ছেলেকে হত্যার পরিকল্পনা

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘিরে নতুন করে যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে একটি নতুন চুক্তিতে রাজি হওয়ার আহ্বান জানিয়ে সতর্ক করেছেন শর্ত না মানলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। চুক্তিতে সম্মত হওয়ার জন্য ইরানকে ১০ দিনের সময়সীমা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

গাজার পুনর্গঠনে ৭০০ কোটি ডলার: ‘শান্তি পর্ষদ’ বৈঠকে ট্রাম্পের ঘোষণা

ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত তথাকথিত ‘শান্তি পর্ষদ’–এর প্রথম বৈঠকে ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজা উপত্যকার পুনর্গঠনের জন্য ৭০০ কোটি ডলারের তহবিল প্রতিশ্রুতির কথা জানান। তাঁর দাবি, ৯টি সদস্যরাষ্ট্র প্রাথমিকভাবে এ তহবিলে অর্থ দিতে সম্মত হয়েছে। একই সঙ্গে গাজায় একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েনে পাঁচটি দেশ নীতিগত সম্মতি দিয়েছে।

‘হাড় না ভাঙা’ পর্যন্ত স্ত্রীকে মারার অনুমোদন- আফগানিস্তানে নতুন আইন ঘিরে বিতর্ক

নারীদের বিরুদ্ধে নতুন কড়া আইন জারির অভিযোগ উঠেছে আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের বিরুদ্ধে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেন্ডেন্ট-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির নতুন ফৌজদারি আইনে স্বামীদের স্ত্রী ও সন্তানদের শারীরিকভাবে শাস্তি দেওয়ার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যা পারিবারিক সহিংসতাকে কার্যত বৈধতা দিচ্ছে বলে সমালোচকরা দাবি করছেন।

ভোটে হেরে বাড়ি বাড়ি ঘুরে টাকা ফেরত চাইছেন প্রার্থীর স্ত্রী

ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যে পৌর নির্বাচনে পরাজয়ের পর এক প্রার্থীর পরিবারের কর্মকাণ্ড ঘিরে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, এক প্রার্থীর স্ত্রী বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের কাছ থেকে টাকা ফেরত চাইছেন বলে অভিযোগ