জাপানি জাহাজকে চীনা কোস্টগার্ডের ধাওয়া! দিশকূল না পেয়ে পালিয়েছে জাপানি জাহাজগুলো! পূর্ব চীন সাগরের বিরোধপূর্ণ দ্বীপের কাছে অবস্থান নিয়েছিলো কয়েকটি জাপানিজ জাহাজ!
ঘটনা নজরে আসার সাথে সাথেই চীনা কোস্ট গার্ড তাড়া করে জাপানি জাহাজগুলোকে, আর তাতেই লেজ গুঁটিয়ে পালিয়েছে জাপানি জাহাজ!
এই তথ্য জানিয়েছে চীনের রাষ্ট্রিয় সংবাদ মাধ্যম সিসিটিভি। প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই এই দ্বীপের মালিকানা দাবি করে আসছে চীন ও জাপান।
আর এই বিরোধ দুদেশের সম্পর্কে দীর্ঘদিন ধরেই বিরূপ প্রভাব ফেলছে। চীন সেই দ্বীপটিকে দিয়াওইউ নামে ডাকলে ও জাপান এর কাছে এই দ্বীপ আবার সেনকাকু নামে পরিচিত।
চীনের নৌ পুলিশের মুখপাত্র '' গেন ইউ বলেন, জাপানের 'সিনসে মারু ও তার সাথে আরও চারটি জাহাজ অবৈধভাবে দিয়াওইউ দ্বীপের কাছে প্রবেশ করে।
এরপর পরই সেই জাহাজ গুলোকে চীনের কোস্ট গার্ড তাড়া করে এবং জাপানি জাহাজগুলো পিছু হটে।
''গেন ইউ আরও বলেন , “আমরা জাপানের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি এই মুহূর্তে জলসীমায় সব অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ করুন এবং নিশ্চিত করুন এই ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে আর ঘটবে না'।
এদিকে বিরোধপূর্ণ এ ছোট দ্বীপগুলো জাপান, চীন এবং তাইওয়ানের মাঝামাঝি অংশে পড়েছে। ভৌগলিক দিক দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় চীন এবং জাপান দুই দেশই দ্বীপটিকে নিজেদের দাবি করে আসছে বলে জানায় চীনা সংবাদ মাধ্যম সিসিটিভি।
বর্তমান বিশ্বের সভ্য জাতির তকমা প্রাপ্ত জাপান এখন পর্যন্ত চীনের সাথে দু’বার যুদ্ধে জড়িয়েছে। চীন ও জাপান এর প্রথম যুদ্ধের পেছনে ফিরলে দেখা যায় এই যুদ্ধে চীন - জাপান এর সাথে ওতপ্রতভাবে জড়িত ছিলো কোরিয়া।
দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের পর চীন ও জাপান এর মধ্যে ১৯৯৪ সালে সংগঠিত হওয়া এই যুদ্ধ ছিলো ১০০ বছরের মধ্যে এশিয়ার সবচেয়ে ভয়ংকর যুদ্ধ।
যেখানে প্রাণ হারিয়েছিলেন দেড় থেকে শোয়া দু কোটি মানুষ! বর্তমানে প্রকৃত শক্তি বিবেচনা করতে গেলে চীন ও জাপানই হলো এশিয়ার সবচাইতে শক্তিশালী রাষ্ট্র।
এখানে একটি বিষয় স্পষ্ট যে, জাপানের এই বিশাল সামরিক শক্তি প্রতিষ্ঠা করার একটাই লক্ষ ছিলো, তা হলো চীন ও চীনের তাবেদার কোরিয়ার হুমকি মাথায় রাখা।
কিন্তু কয়েক মাস আগেও চীন আক্রমণ করেছিলো জাপানের এসিজেট নামক অর্থনৈতিক অঞ্চলে। এমনকি চীন পাঁচটি মিছাইল ছুঁড়েছিলো জাপানে।
আগের এই আক্রমণ বলে দিয়েছিলো খুব তাড়াতাড়ি হতে চলেছিলো দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের মত একটি যুদ্ধ। চীন এবং জাপান এর মধ্যে স্থিতিশীল বানিজ্যিক কূটনীতিক সম্পর্ক থাকলেও ঐতিহাসিক শত্রুতা আর সিমান্ত বিরোধের কারনে যেকোন সময় অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে জড়াতে পারে দু দেশ!
এসব দিক বিবেচনা করলেই দেখা যায়, সোমবারের এই ঘটনাটি আবারও প্রকাশ্যে আনলো চীন ও জাপান দ্বন্দ্বের বাস্তব চিত্র!
বার বারই চীন, তাইওয়ান দখলের জন্য পরিকল্পনা করলে ও এখনো দখল করছেনা চীন। এসব হুমকি দিয়ে চীন আদোতে জাপানকে শায়েস্তা করতে চাইছে।
এদিকে তাইওয়ানও নিজেকে চীন সরকার এর শাসিত রাষ্ট্র বলে শিকার না করে বরং নিজেকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র বলে দাবি করছে। এখানে আবার কলকাঠি নাড়ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র!