আন্তর্জাতিক


জাপানি জাহাজকে ধাওয়া দিলো চীনের কোস্ট গার্ড!


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১২:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার

জাপানি জাহাজকে ধাওয়া দিলো চীনের কোস্ট গার্ড!

জাপানি জাহাজকে চীনা কোস্টগার্ডের ধাওয়া! দিশকূল না পেয়ে পালিয়েছে জাপানি জাহাজগুলো! পূর্ব চীন সাগরের  বিরোধপূর্ণ দ্বীপের কাছে অবস্থান নিয়েছিলো কয়েকটি জাপানিজ জাহাজ!  

ঘটনা নজরে আসার সাথে সাথেই চীনা কোস্ট গার্ড তাড়া করে জাপানি জাহাজগুলোকে, আর তাতেই লেজ গুঁটিয়ে পালিয়েছে জাপানি জাহাজ! 

এই তথ্য জানিয়েছে চীনের রাষ্ট্রিয় সংবাদ মাধ্যম সিসিটিভি। প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই এই দ্বীপের মালিকানা দাবি করে আসছে চীন ও জাপান।  

আর এই বিরোধ দুদেশের সম্পর্কে দীর্ঘদিন ধরেই বিরূপ প্রভাব ফেলছে। চীন সেই দ্বীপটিকে দিয়াওইউ নামে ডাকলে ও জাপান এর কাছে এই দ্বীপ আবার সেনকাকু নামে পরিচিত।  

চীনের নৌ পুলিশের মুখপাত্র '' গেন ইউ বলেন, জাপানের 'সিনসে মারু ও তার সাথে আরও চারটি জাহাজ অবৈধভাবে দিয়াওইউ দ্বীপের কাছে প্রবেশ করে। 

এরপর পরই সেই জাহাজ গুলোকে চীনের কোস্ট গার্ড তাড়া করে এবং জাপানি জাহাজগুলো পিছু হটে। 

''গেন ইউ আরও বলেন , “আমরা জাপানের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি এই  মুহূর্তে  জলসীমায় সব অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ করুন এবং নিশ্চিত করুন এই ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে আর ঘটবে না'।    

এদিকে বিরোধপূর্ণ এ ছোট দ্বীপগুলো জাপান, চীন এবং তাইওয়ানের মাঝামাঝি অংশে পড়েছে। ভৌগলিক দিক দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় চীন এবং জাপান দুই দেশই দ্বীপটিকে নিজেদের দাবি করে আসছে বলে জানায় চীনা সংবাদ মাধ্যম সিসিটিভি। 

বর্তমান বিশ্বের সভ্য জাতির তকমা প্রাপ্ত জাপান এখন পর্যন্ত চীনের সাথে দু’বার যুদ্ধে জড়িয়েছে। চীন ও জাপান এর প্রথম যুদ্ধের পেছনে ফিরলে দেখা যায় এই যুদ্ধে চীন - জাপান এর সাথে ওতপ্রতভাবে জড়িত ছিলো কোরিয়া। 

দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের পর চীন ও জাপান এর মধ্যে ১৯৯৪ সালে সংগঠিত হওয়া এই যুদ্ধ ছিলো ১০০ বছরের মধ্যে এশিয়ার সবচেয়ে ভয়ংকর  যুদ্ধ।  

যেখানে প্রাণ হারিয়েছিলেন দেড় থেকে শোয়া দু কোটি মানুষ! বর্তমানে প্রকৃত শক্তি বিবেচনা করতে গেলে চীন ও জাপানই হলো এশিয়ার সবচাইতে শক্তিশালী রাষ্ট্র।  

এখানে একটি বিষয় স্পষ্ট যে, জাপানের এই বিশাল সামরিক শক্তি  প্রতিষ্ঠা করার একটাই লক্ষ ছিলো,  তা হলো চীন ও চীনের তাবেদার কোরিয়ার হুমকি মাথায় রাখা। 

কিন্তু কয়েক মাস আগেও চীন আক্রমণ করেছিলো জাপানের এসিজেট নামক অর্থনৈতিক অঞ্চলে। এমনকি চীন পাঁচটি মিছাইল ছুঁড়েছিলো জাপানে। 

আগের এই আক্রমণ বলে দিয়েছিলো খুব তাড়াতাড়ি হতে চলেছিলো দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের মত একটি যুদ্ধ। চীন এবং জাপান এর মধ্যে স্থিতিশীল বানিজ্যিক কূটনীতিক সম্পর্ক  থাকলেও ঐতিহাসিক শত্রুতা আর সিমান্ত বিরোধের কারনে যেকোন সময় অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে জড়াতে পারে দু দেশ! 

এসব দিক বিবেচনা করলেই দেখা যায়, সোমবারের এই ঘটনাটি আবারও প্রকাশ্যে আনলো চীন ও জাপান দ্বন্দ্বের বাস্তব চিত্র! 

বার বারই চীন, তাইওয়ান দখলের জন্য পরিকল্পনা করলে ও এখনো দখল করছেনা চীন।  এসব হুমকি দিয়ে চীন আদোতে জাপানকে শায়েস্তা করতে চাইছে। 

এদিকে তাইওয়ানও নিজেকে চীন সরকার এর শাসিত রাষ্ট্র বলে শিকার না করে বরং নিজেকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র বলে দাবি করছে। এখানে আবার কলকাঠি নাড়ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র! 



জনপ্রিয়


আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন

কোরবানি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের উদাহরণ টানলেন হায়দরাবাদের ইসলামিক স্কলার

ভারতের হায়দরাবাদ–এর ইসলামিক স্কলার মাওলানা মোহাম্মদ জাফর পাশা কোরবানির পশু নিয়ে মুসলিমদের হেনস্তার অভিযোগ তুলে পশ্চিমবঙ্গের মুসলিমদের উদাহরণ অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছেন।

আল-আকসা প্রাঙ্গণে পশু জবাইয়ের চেষ্টায় আটক ১৩

পবিত্র আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে ইহুদি ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী পশু জবাইয়ের চেষ্টা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে ১৩ জনকে আটক করেছে ইসরায়েলি পুলিশ। শুক্রবার ইহুদিদের ধর্মীয় উৎসব শাভুত উপলক্ষে এ ঘটনা ঘটে।

এএপিআই হেরিটেজ মাসে নিউ জার্সি সিনেটের সম্মাননা পেলেন বাংলাদেশি-আমেরিকান অধ্যাপক শোয়েব ভূঁইয়া

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে এশিয়ান আমেরিকান অ্যান্ড প্যাসিফিক আইল্যান্ডার (এএপিআই) হেরিটেজ মাস উপলক্ষে বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন বাংলাদেশি-আমেরিকান অধ্যাপক শোয়েব আহমেদ ভূঁইয়া। নিউ জার্সি স্টেট সিনেট ও জেনারেল অ্যাসেম্বলির পক্ষ থেকে তাকে যৌথ আইনসভা প্রস্তাবনার (Joint Legislative Resolution) মাধ্যমে এ সম্মাননা দেওয়া হয়। তিনি প্রথম বাংলাদেশি-আমেরিকান হিসেবে এই মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি অর্জন করলেন।

বিজেপিকে ছাড়িয়ে ভাইরাল “তেলাপোকা পার্টি”

ভারতে হঠাৎ করেই তুমুল আলোচনায় উঠে এসেছে একটি ব্যতিক্রমধর্মী অনলাইন আন্দোলন “ককরোচ জনতা পার্টি” বা সিজেপি। কয়েকদিন আগেও যেটিকে অনেকে নিছক মিম, ট্রল কিংবা ব্যঙ্গাত্মক ক্যাম্পেইন হিসেবে দেখছিলেন, সেটিই এখন দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে অস্বস্তির বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে ফলোয়ার সংখ্যার দিক থেকে এই নতুন আন্দোলন ইতোমধ্যেই ক্ষমতাসীন বিজেপিকেও ছাড়িয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত সিজেপির অনুসারী সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ কোটি ২২ লাখে, যেখানে বিজেপির অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে রয়েছে প্রায় ৮৭ লাখ ফলোয়ার। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে এমন বিস্ফোরক উত্থান ভারতের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।