এবার চাঁদে অভিযান নিয়ে বিবাদে জড়াচ্ছে চীন ও যুক্তরাষ্ট্র। নানা ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের শত্রুতা দিন দিন বেড়েই চলেছে।
সম্প্রতি চীন তার চাঁদে অভিযান নিয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। এই পরিকল্পনাকে যুক্তরাষ্ট্র ভালো চোখে দেখছে না।
ওয়াশিংটন বলছে, দক্ষিণ চীন সাগরের মতো চাঁদেও আধিপত্য গড়ে তুলতে প্রতিযোগিতায় নেমেছে চীন।
যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা কর্মকর্তাদের মতে, চীন চাঁদের মাটিতে সীমানা দখলের চেষ্টা চালাতে পারে।
মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার এক কর্মকর্তা বলেছেন, তারা একটি মহাকাশ দখলের প্রতিযোগিতায় আছেন।
তিনি আরো বলেছেন, চীন স্প্রাটলি দ্বীপপুঞ্জ যেভাবে দখলে নিয়েছে, ঠিক সেভাবে মহাকাশে বৈজ্ঞানিক গবেষণার নামে জায়গা দখলের চেষ্টা করতে পারে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের এসব অভিযোগকে চীনের পক্ষ থেকে নাকচ করে দেয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত এসব অভিযোগকে দায়িত্বজ্ঞানহীন বলে অভিহিত করেছেন।
চীনের ভাষ্য হলো, তারা মানবজাতির কল্যাণের লক্ষ্য কাজ করছে। দেশটি স্বাভাবিক ও বৈধ অভিযানের মাধ্যমে, ২০২৮ সালের মধ্যে চাঁদের দক্ষিণ মেরু অঞ্চলে গবেষণা ঘাঁটি গড়ে তুলতে চায়।
এর সাহায্যে চীন চাঁদে পানি অনুসন্ধান চালিয়ে যেতে চায়। এই লক্ষ্যে বিশাল এক মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে দেশটি।
সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে চতুর্থবারের মতো চাঁদে অভিযান পরিচালনা করার পরিকল্পনা করছে। এর মাধ্যমে ২০২৫ সালে চাঁদের মাটির নমুনা পৃথিবীতে আনতে চায় তারা।
চীন মনে করে এসব অভিযানের মাধ্যমে, নভোচারীদের জন্য চাঁদে জোরালো ভিত্তি তৈরি হবে।
এর আগে ২০১৮ সালে চীন চ্যাংই-৪ নভোযান পাঠিয়েছিল, যেটি ২০১৯ সালে চাঁদের মাটিতে অবতরণ করেছিলো।
সেই অভিযানে চ্যাংই-৪ সফলভাবে ১.৭৩ কিলোগ্রাম চাঁদের মাটি নিয়ে পৃথিবীতে ফিরে আসে। এবার তারা ঘোষণা দিয়েছে রোবটচালিত নভোযান চাঁদে পাঠানোর।
চ্যাংই-৬ নামের এই নভোযানের মাধ্যমে চীন কমপক্ষে দুই কেজি চাঁদের মাটির নমুনা নিয়ে আসার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।
২০২৬ সালে চীন চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে চ্যাংই- ৭ নামের নভোযান পাঠাবে। একই স্থানে ২০২৮ সালে পাঠাবে চ্যাংই-৮ নভোযান।
এই সবগুলো নভোযান মিলে চাঁদে শক্তিশালী গবেষণা ঘাঁটি গড়ে তুলতে চায় দেশটি।
তারা আগামী ১০ বছরের জন্য নভোচারী পাঠানোর একটি মাস্টার প্ল্যান চূড়ান্ত করেছে। এর আওতায় যেসব নভোচারী চাঁদে যাবে, তাদের পরবর্তীতে মঙ্গলগ্রহে পাঠানো হবে।
মঙ্গলগ্রহে যাত্রার পথে, চাঁদে তৈরি গবেষনা ঘাঁটি মূল ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনাও করছে চীন।
দেশটির সেনাবাহিনীর প্রবল আগ্রহের কারণে এই মহাকাশ গবেষণা বাড়তি গতি পেয়েছে।
চীন মহাকাশে এখনো সন্ধান মেলেনি, এমন অমূল্য বস্তু বা জ্বালানির খোঁজও করতে চায়।
তাদের এতসব কার্যক্রমে যুক্তরাষ্ট্র প্রথম দিকে খুব বেশি গুরুত্ব না দিলেও, সাম্প্রতিক মহাপরিকল্পনা প্রকাশের পর থেকে বেশ অস্বস্তিতে পড়েছে।
এটিকে তারা চীনের শক্তি প্রদর্শনের নতুন ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করছে।
চীনও মহাকাশে কার্যক্রম বাড়ানোকে তার ক্ষমতা ও সামর্থ্য প্রকাশের উপায় হিসেবে দেখছে। এই উপায়কে বাড়তে দিলে, যুক্তরাষ্ট্র যে বিপদে পড়বে তা দিন দিন স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
এতদিন মহাকাশে যুক্তরাষ্ট্রের একচ্ছত্র আধিপত্য ছিলো। রাশিয়ার কিছুটা থাকলেও তা যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে যেতে পারেনি। এখন নতুন করে চীনের উত্থান ঘটলে যুক্তরাষ্ট্রের বিপদ বাড়বে।
যুক্তরাষ্ট্র এখনও মহাকাশে প্রচুর খরচ করে। শুধু নাসাই নয়, পেন্টাগনও এই খাতে ব্যাপক খরচ করে।
চীনের মহাকাশ নিয়ে প্রবল আগ্রহ যে পেন্টাগনকেও ভাবিয়ে তুলবে এতে সন্দেহ নেই।
সর্বোপরি বিভিন্ন কার্যক্রম এটাই ইংগিত দিচ্ছে যে, আগামীতে মহাকাশেও চীন যুক্তরাষ্ট্র বিবাদ নতুন মাত্রা পাবে। জলে-স্থলে-আকাশে, সর্বত্র দুই দেশের বিবাদে জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা বাড়ছে।
এমন অবস্থায় দুই দেশই যদি ধৈর্যশীল না হয়, তবে বিশ্ব এক অপরিমেয় সংকটের মুখে পড়ে যাবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।