তুরস্কের ভয়াবহ ভূমিকম্পের উদ্ধারকাজে, শুরুতেই সফলতার মুখ দেখলো বাংলাদেশের উদ্ধারকারী দল।
কাজ শুরুর পরপরই, ধ্বংসস্তুপের নিচ থেকে একজনকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে, বাংলাদেশ থেকে যাওয়া সদস্যরা।
তাৎক্ষণিক পাওয়া এই সাফল্যের সুবাদে, বিপর্যস্ত তুরস্ককে আলোর মুখ দেখাচ্ছে দলটি। স্থানীয় জনগণ আর গণমাধ্যমের আস্থায় পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ।
ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর এখন পর্যন্ত স্তব্ধ তুরস্ক এবং সিরিয়া। প্রতিদিনই বড় হচ্ছে লাশের সারি। ধ্বংসস্তুপ থেকে জীবিত অবস্থাতেও উদ্ধার করা হচ্ছে অনেককেই।
বাংলাদশ থেকেও এরই মাঝে উদ্ধারকারী দল আর ত্রাণসামগ্রী, গিয়ে পৌঁছেছে দুই দুর্গত দেশে।
নিজেদের উদ্ধারকাজের প্রথম দিনেই, তুরস্কের আদিয়ামান শহরের এক ১৭ বছর বয়েসী কিশোরীকে উদ্ধার করেছে আমাদের প্রতিনিধি দল।
উদ্ধার হওয়া সেই কিশোরী, বিগত চারদিন ধরে ধ্বংসস্তুপের নিচে চাপা পরে ছিলেন। এছাড়াও প্রথম দিন বাংলাদেশের সমন্বিত দলটি উদ্ধার করেছে, আরও তিনজনের মৃতদেহ।
দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, দেশে ঘটে যাওয়া রানা প্লাজার মতোই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে দূর্যোগপূর্ণ অঞ্চলটিতে।
তুরস্কের সবচেয়ে বিপর্যস্ত গাজিয়ানতেপ প্রদেশে অবস্থান করছে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলটি। উক্ত প্রদেশের আদিমানা শহরেই কাজ করছে, সেনাবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের সমন্বয়ে গড়া বিশেষ দল।
৬১ সদস্যের সেই প্রতিনিধি দলে সেনাবাহিনীর ২৪ জন, ফায়ার সার্ভিসের ১২ এবং ১৪ জন বিমান বাহিনী সদস্য ছাড়াও রয়েছেন ১০ জন চিকিৎসক এবং ১ জন গণমাধ্যমকর্মী। এই দলটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট কর্নেল রুহুল আমিন।
তাদের নিয়ে ঢাকা-আঙ্কারা-ঢাকা রুটে, বিশেষ ফ্লাইট যাত্রা করেছিলো গত বুধবার। আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারী বিমানটির দেশে ফেরার কথা রয়েছে।
বাংলাদেশের উদ্ধারকারী দলের সাথে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, বেশকিছু দূর্যোগকালীন সহায়তা। তুরস্কের পর সিরিয়াতেও ত্রাণ পাঠিয়েছে বাংলাদেশ।
শুক্রবার রাতেই বিমান বাহিনীর সি-130 জে বিমানে বড় তাঁবু, ছোট তাঁবু, ঔষধ, কম্বল, সোয়েটার এবং শুকনো খাবারসহ, প্রায় ১১ টনের সাহায্য নিয়ে সিরিয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করে বাংলাদেশের বিশেষ প্রতিনিধি দল।
১৭ জনের এই দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন, বিমান বাহিনীর গ্রুপ ক্যাপ্টেন জামিল উদ্দিন আহমেদ। আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারী রাতে এই বিমানটি দেশে ফিরে আসবে।
এছাড়াও ভূমিকম্পের ফলে সিরিয়ায় বিপর্যয়ে পড়া মানুষদের জন্যে ,জরুরী ত্রাণ ও চিকিৎসাসামগ্রী নিয়ে, বাংলাদেশ বিমানবাহিনী প্রয়োজনমাফিক পরিবহণ বিমান পরিচালনা করবে।
দুর্গত মানুষের সেবায় প্রয়োজন অনুযায়ী, ঢাকা-জর্ডান-সিরিয়া রুটে বিশেষ এই ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে।
উল্লেখ্য, গত ৬ ফেব্রুয়ারী সোমবার তুরস্কের গাজিয়ানতেপে ঘটে যাওয়া ভূমিকম্পের ফলে, মানবিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে তুরস্ক এবং সিরিয়া। ৭ দশমিক ৮ মাত্রার এই ভূমিকম্পের ফলে প্রাণ হারিয়েছেন প্রায় ২৩ হাজার মানুষ।
বাংলাদেশ ছাড়াও তুরস্কের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ। কাতার থেকে উদ্ধার হওয়া মানুষদের সহায়তায় পৌঁছে দেয়া হয়েছে দশ হাজার ভাসমান বাড়ি।
এছাড়াও আহতদের সেবা নিশ্চিত করতে, একটি ফিল্ড হাসপাতালের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম, এবং মানবিক সহায়তা দিচ্ছে আরব বিশ্বের ধনাঢ্য দেশটি। সাহায্যের অংশ হিসেবে রাশিয়ান সেনাবাহিনীর প্রায় ৩০০ জন সদস্য কাজ করছেন দুর্গত অঞ্চলে।
এছাড়াও ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকে, ১৯ টি দেশ মোট ২৭ টি উদ্ধারকারী দল পাঠিয়েছে দুর্গত অঞ্চলটিতে। মোট ১ হাজার ১৫০ জন সদস্য এবং ৭০ টি কুকুর এই প্রতিনিধি দলের অংশ হিসেবে তুরস্কে যাত্রা করছে।
এছাড়া এশিয়ার বৃহত্তম অর্থনৈতিক শক্তির দেশ চীন দেশটিতে জরুরী সহায়তা বাবদ ৫৯ মিলিয়ন ডলার প্রদান করেছে।
সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়া অন্যান্য পরাশক্তির মধ্যে আছে ভারত, পাকিস্তান, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, ইতালি,স্পেন, ইরান সহ আরো বেশ কিছু দেশ।