আন্তর্জাতিক


ভূমিকম্পের পর নির্বাচনে আরো চ্যালেঞ্জের মুখে এরদোয়ান


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০৪:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার

ভূমিকম্পের পর  নির্বাচনে আরো চ্যালেঞ্জের মুখে এরদোয়ান

রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান! একদিকে অস্থিতিশীল ইউরোপ অন্যদিকে সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া স্মরণকালের ভয়ংকর ভূকম্প নিয়ে বেশ চাপেই আছেন এই মুসলিম নেতা! 

সবচেয়ে বড় চাপ আসন্ন মে মাসের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে! এই নির্বাচনকে ভাবা হচ্ছে এরদোয়ানের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। 

ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর পরিস্থিতি অনেকটাই বদলে গেছে। এখন সামনের নির্বাচন যথাসময়ে হবে কিনা সেটা পরের ব্যাপার। 

সময়মতো হলেও তাতে এরদোয়ানের ভাগ্য অনেকটাই নির্ভর করবে দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবেলায়- সাফল্য কিংবা ব্যর্থতার উপর। 

২০২৩ সাল তুরস্কের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এক বছর। গত জানুয়ারি মাসেই এরদোয়ান ঘোষনা দিয়েছেন, আগামী ১৪ মে তুরস্কের প্রেসিডেন্সিয়াল এবং পার্লামেন্ট ইলেকশন অনুষ্ঠিত হবে। 

এই নির্বাচনে আবারো প্রেসিডেন্ট পদে লড়বেন রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান।  যিনি প্রায় দুই দশক ধরে দেশটির ক্ষমতায় রয়েছেন।

এই সময়ের মধ্যে এরদোয়ান শুধু তুরস্কের অভ্যন্তরেই নয়, আন্তর্জাতিক রাজনীতিতেও হয়ে উঠেছেন গুরুত্বপূর্ণ এক নেতা। 

বিশ্ব রাজনীতির বিভিন্ন পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রেখেছেন তিনি। পাশাপাশি মুসলিম বিশ্বের জন্য হয়ে উঠেছেন অঘোষিত এক অভিভাবক।   

তবে বর্তমান পরিস্থিতি একেবারেই আলাদা। নানান কারণে দেশের অভ্যন্তরেই এরদোয়ানের অবস্থান অনেকটা নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। 

সেজন্য আগামী নির্বাচনকে তার জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসাবে ভাবা হচ্ছিলো। এর প্রেক্ষিতে এরদোয়ান নিজেও নানা উদ্যোগ নিচ্ছিলেন। 

তবে নির্বাচনের মাত্র তিন মাস আগে গত সপ্তাহের ভুমিকম্পে বড় ধরনের চাপে পড়ে গেছেন তিনি। ভয়াবহ এই ভুমিকম্পে শুধু তুরস্কেই নিহত হয়েছেন ২০ হাজারের অধিক মানুষ।  

ধ্বংসস্তুপে পরিনত হয়েছে অসংখ্য স্থাপনা। সব মিলিয়ে স্মরন কালের সবচেয়ে বড় বিপর্যয়ে পড়েছে দেশটি।  একই কারণে প্রেসিডেন্ট হিসাবে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন এরদোয়ান। 

রাষ্ট্রপ্রধান হিসাবে এই পরিস্থিতি মোকাবেলার উপর তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করতে পারে। 

মুসলিম বিশ্বের জনপ্রিয় এই নেতা ২০০৩ সাল থেকে ক্ষমতায় রয়েছেন। ২০১৪ সাল পর্যন্ত  তুরস্কের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন তিনি। এরপর থেকে দায়িত্ব পালন করছেন প্রেসিডেন্ট হিসেবে। 

গত দুই দশকের  প্রতিটি নির্বাচন সাফল্যের সাথে উতরে এসেছেন এরদোয়ান।  তবে এবারের পরিস্থিতি ভিন্ন।

ভূমিকম্পের আগে পরিচালিত বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে, এবারে নির্বাচনে বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি হতে হবে তাকে। 

গত কয়েকবছর ধরেই একের পর এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছেন এরদোয়ান!  অর্থনৈতিক দিক দিয়ে চ্যালেঞ্জ ছিলো সবচেয়ে বেশি। 

গতবছর দেশটিতে ভোগ্যপণ্যের দাম বেড়েছে প্রায় ৮৫ শতাংশ যা ব্যাপক সমালোনায় ফেলেছে এরদোয়ান সরকারকে।  

অন্যদিকে তার বিরুদ্ধে সরব হচ্ছে বিরোধীরা।  স্বজনপ্রীতি কিংবা দুর্নীতির মতো গুরুতর অভিযোগ তোলা হচ্ছে। 

সব মিলিয়ে সামনের নির্বাচন যে খুবই কঠিন হতে যাচ্ছে, সেটা এরদোয়ান নিজেও জানতেন। সেই মোতাবেক বিভিন্ন কাজ করে আসছিলেন তিনি। 

এহেন পরিস্থিতিতে ভুমিকম্পের মতো বড় দুর্যোগ তাকে আরেকদফা বেকায়দায় ফেলেছে। ভুমিকম্পের পর সরকারি পদেক্ষেপে ঘাটতির কথা নিজেও স্বীকার করেছেন তিনি। 

তার ভাষ্য অনুযায়ী, এরকম বড় দুর্যোগের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত থাকা সম্ভব নয়। অবশ্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। 

তবে এরদোয়ান যাই বলেন না কেন, এরকম পরিস্থিতি তে জনপ্রিয়তা ধরে রাখা মোটেও সহজ নয়। এর বাস্তব উদাহরণের সাথে এরদোয়ানের নিজের উত্থানও জড়িয়ে রয়েছে। 

তুরস্কে এরকম বড় ভুমিকম্প হয়েছিলো ১৯৯৯ সালে। সে সময় উদ্ধার তৎপরতা ও ত্রান কার্যক্রম নিয়ে সমালোচনায় পড়েছিলো তৎকালীন সরকার। 

তখন এরদোয়ানের দল ভালোভাবে দেশ পরিচালনার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলো ২০০২ সালে। দুই দশক পর আবারো একই পরিস্থিতি তে পড়েছে তুরস্ক। 

এবার ক্ষমতায় আছেন রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম নিয়ে তিনি সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এদিকে পরিস্থিতি সামাল দিতে না পারলে এখান থেকে শুরু হতে পারে এরদোয়ান বিরোধী বিক্ষোভ! 

এসবের মধ্যে তিনি জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে সফল হবেন কিনা, সেটা বুঝা যাবে আসন্ন নির্বাচনে। 

প্রিয় দর্শক, আপনার কি মনেহয়? মুসলিম বিশ্বের প্রভাবশালী এই নেতা আবারো প্রেসিডেন্ট হবেন, নাকি অন্য কেউ আসবে তুরস্কের ক্ষমতায়? জানাতে পারেন কমেন্ট বক্সে। 











জনপ্রিয়


আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন

৪০ দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ- কোন দেশে কত নিহত, বাংলাদেশির সংখ্যা কত?

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর পাল্টা জবাব দিয়েছে ইরান। শুধু ইসরায়েল নয়, ইরানের পক্ষ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায়ও হামলা চালানো হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক বিজয় হয়েছে: ডোনাল্ড ট্রাম্প

ইরান-এর সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ‘সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক বিজয়’ অর্জন করেছে।

যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে ‘ইরানের বিজয়’

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের উত্থাপিত ১০ দফা দাবি মেনে নিয়েছেন বলে দাবি করেছে তেহরান। এর পরিপ্রেক্ষিতে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে নিজেদের কূটনৈতিক বিজয় হিসেবে দেখছে ইরান।

যুক্তরাষ্ট্র ‘রেড লাইন’ পার হলে সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ছড়িয়ে পড়বে: ইরান

যুক্তরাষ্ট্র যদি তেহরানের নির্ধারিত ‘রেড লাইন’ অতিক্রম করে, তাহলে চলমান সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ছড়িয়ে পড়তে পারে- এমন কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।