আমেরিকার যুদ্ধবিমান পেলেই জিতে যাবে ইউক্রেন। জার্মানির ট্যাংক পেলেই রাশিয়া ভয়ে পালাবে! এসব প্রতিশ্রুতি নতুন কিছু নয়।
এখন কথা হচ্ছে, ইউক্রেন এসব পেতে পেতে রাশিয়া তার কার্যসিদ্ধি করে চলে যাবে। কিছুদিন আগেই ইউক্রেনকে অত্যাধুনিক ট্যাংক দিতে সম্মত হয়েছে আমেরিকা-জার্মানি।
গণমাধ্যমগুলোর ভাষায় এবার আরো বড় সুখবর পেলেন জেলেনস্কি। পোল্যান্ডসহ কিছু দেশ ইউক্রেনকে এফ-16 যুদ্ধবিমান দেয়ার কথা জানিয়েছে।
ফলে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, ইউক্রেন যদি ট্যাংকের পাশাপাশি যুদ্ধবিমান পেয়ে যায়- তাহলে কতোটা বিপাকে পড়বে রাশিয়া? ইউক্রেন কি তাহলে হারিয়ে দেবে পুতিন বাহিনী কে?
গত এক বছর ধরে রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ চলমান রয়েছে। এখন পর্যন্ত দুই পক্ষই অনেকটা স্থল যুদ্ধের উপর নির্ভর করছে।
ইউক্রেনের যুদ্ধ কৌশল অনেকটাই প্রতিরোধমূলক। রাশিয়ার আগ্রাসনের মোকাবেলা করে যাচ্ছে তারা। এর চেয়ে বেশি কিছু করার সক্ষমতা এখনো তাদের নেই।
কারণ রাশিয়াকে পরাজিত করে যুদ্ধ শেষ করার মতো অস্ত্র সরঞ্জাম নেই জেলেনস্কি বাহিনীর। পশ্চিমা সাহায্য নিয়ে প্রতিরোধ চালিয়ে যাচ্ছে তারা।
তবে সম্প্রতি আশার আলো পেয়েছে ইউক্রেন বাহিনী। তাদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত অত্যাধুনিক ট্যাংক দিতে সম্মত হয়েছে পশ্চিমা মিত্ররা।
জার্মানি তাদের লেপার্ড-টু এবং আমেরিকা আব্রামস ট্যাংক দেয়ার কথা জানিয়েছে। এমন সুখবর পাওয়ার পর নতুন চেষ্টায় নেমেছেন প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি।
ট্যাংকের পর এবার এফ-16 যুদ্ধবিমান পাওয়ার জন্য দেনদরবার শুরু করেছেন তিনি। তার এই দাবি আমেরিকা এখনো আমলে নেয়নি।
তবে আমেরিকা রাজী না হলেও পোল্যান্ডসহ কিছু দেশ ইউক্রেনকে এফ-16 দিতে চায় বলে জানিয়েছে। এছাড়া জেলেনস্কির আহবানে সাড়া দিয়ে যুদ্ধবিমান পাঠাতে সম্মত হয়েছে ফ্রান্সও।
এর ফলে নতুন এক সমীকরণের মুখে পড়েছে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। এফ-16 এর মতো অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান পেলে ইউক্রেন কি যুদ্ধের নিয়ন্ত্রন নিয়ে নিতে পারবে? এমন হিসাব কষছেন বিশ্লেষকরা।
কারো কারো ধারণা, পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত এরকম দাড়ালে বেশ বেকায়দায় পড়তে পারে রাশিয়া। তবে সেক্ষেত্রেও নানা রকম হিসাব নিকাশ রয়েছে।
ইউক্রেনের প্রতিপক্ষ রাশিয়ার হাতে রয়েছে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী বিমানবাহিনী। ইউক্রেনের তুলনায় রাশিয়ার বিমান বাহিনীর শক্তি এবং আকার কয়েকগুন বেশি।
গত বছর যখন রাশিয়া ইউক্রেনে আক্রমণ শুরু করলো, তখন সবাই ভেবেছিলো খুব দ্রুত বিমান হামলা চালিয়ে ইউক্রেনের আকাশ দখল করে নেবেন পুতিন।
তাদের সেই সক্ষমতাও ছিলো। তবে প্রকৃতপক্ষে তেমনটা করেনি রাশিয়া, বরং স্থলবাহিনী দিয়েই যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে গত এক বছর ধরে।
এখন পর্যন্ত এই যুদ্ধের ফলাফল অনেকটাই অনিশ্চিত। রাশিয়ার কাছে বিশাল বিমানবাহিনী থাকলেও বড় যুদ্ধ করার জন্য সম্পদের ঘাটতি রয়েছে।
অন্যদিকে পশ্চিমা মিত্রদের দেয়া ক্ষেপনাস্ত্রের মাধ্যমে আকাশ প্রতিরক্ষা সাজিয়েছে ইউক্রেন। এ কারণে কম উচ্চতায় উড়তে বাধ্য হচ্ছে রাশিয়ার বিমানগুলো।
মজার ব্যাপার হলো, ইউক্রেনের মতো একই ধরণের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবহার করে আসছে রুশ বাহিনীও। এর ফলে বিমান আক্রমণের ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে একরকম অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।
এমন অবস্থায় ইউক্রেন ভাবছে, আমেরিকার তৈরি F-16 যুদ্ধবিমান পেয়ে গেলে পরিস্থিতি তাদের নিয়ন্ত্রনে চলে আসবে। এই সম্ভাবনার, ব্যাপার হিসাব নিকাশ করছেন বিশ্লেষকরাও।
আমেরিকার F-16 বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় যুদ্ধবিমান। লড়াকু বাজপাখি নামে পরিচিত এই ফাইটার আমেরিকান বিমানবাহিনীতে যুক্ত হয় ১৯৭৮ সালে।
এরপর থেকে বিভিন্ন যুদ্ধে এর কার্যকারিতার প্রমাণ মিলেছে। ন্যাটোর বিভিন্ন সদস্য রাষ্ট্রের কাছে আমেরিকা আগেই F-16 বিক্রি করেছিলো।
এখন অনেক দেশ তাদের ভাণ্ডার থেকে ইউক্রেনকে এফ-16 ফাইটার দিতে আগ্রহী। এর ফলে আশার আলো দেখছে ইউক্রেন।
কারণ রাশিয়ার হাতে রয়েছে মিগ-29 এবং সুখোই-SU-27 যুদ্ধবিমান। তবে এগুলোর চেয়ে আকাশযুদ্ধে F-16 বেশি কার্যকরী।
তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধক্ষেত্রে কারিগরি দিক দিয়ে রাশিয়া ইউক্রেন থেকে অনেক বেশি এগিয়ে রয়েছে। এক্ষেত্রে ইউক্রেন শুধু F-16 ফাইটার নিয়ে রাশিয়ার সাথে পেরে উঠবে না।
কিন্তু F-16 এর পাশাপাশি ন্যাটো থেকে যদি আধুনিক আকাশপ্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিতে পারে ইউক্রেন, তাহলে রাশিয়াকে অনেকটাই বিপাকে ফেলে দিতে পারবে।
দিনশেষে ঐ যে শুরুর কথাটা, এটা ওটা দেবার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আদোতে ইউক্রেনকে আরো বিপদের মুখেই ফেলছে পাশ্চাত্য দেশগুলো। অন্যদিকে রাশিয়া নিজের উদ্দেশ্য হাসিল করেই চলেছে। প্রশ্ন হচ্ছে, এবারো কী যুদ্ধবিমানের এই প্রতিশ্রুতি, প্রতিশ্রুতিই থেকে যাবে?