আন্তর্জাতিক


বিশ্বব্যাপী আধিপত্য বিস্তারে তুরুস্কের নতুন হাতিয়ার!


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০২:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার

বিশ্বব্যাপী আধিপত্য বিস্তারে তুরুস্কের নতুন হাতিয়ার!


বিশ্বজুড়ে আধিপত্য বিস্তারে আরেক ধাপ এগিয়ে গেলো তুরষ্ক! নিজেদের প্রথম বিমানবাহী রণতরী 'TCG Anadolu' সার্ভিসে আনতে যাচ্ছে দেশটি! 

এর ফলে, তুরুস্কের নেভাল ফোর্স কৃষ্ণ সাগর, এজিয়ান সাগর এবং ভূমধ্যসাগরের পূর্ব পর্যন্ত সবচাইতে শক্তিশালী বাহিনীতে পরিণত হবে। এতেই নড়েচড়ে বসেছে পরাশক্তিধর দেশগুলো।  

বহরে যোগ হলে এটিই হবে তুরুস্কের সবচাইতে বড় যুদ্ধজাহাজ, যার আয়তন দুটি ফুটবল মাঠের সমান।
একবার জ্বালানী নিয়ে ২০ দশমিক ৫ নটিক্যাল মাইল গতিতে ৯ হাজার কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে পারবে জাহাজটি। 

কোনো রকম রিফুয়েলিং ছাড়াই একটানা ৫০ দিন সমুদ্র পাড়ি দিতে পারবে এটি। সমুদ্রের ভাসমান বিমানঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার বা বিমানবাহী রণতরীর খ্যাতি দুনিয়াজুড়ে।

তুরস্কও তাদের প্রথম বিমানবাহী রণতরীটিকে সজ্জিত করতে চেয়েছিলো সর্বাধুনিক প্রযুক্তির যুদ্ধবিমান দিয়ে।সেই লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের F-35B স্টিলথ ফাইটার জেট ব্যবহার করার পরিকল্পনা করেছিলো তারা।

যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে F-35 প্রোগ্রামের অংশীদারও ছিলো তুরুস্ক। এই প্রজেক্টে ১.৪ বিলিয়ন ডলার সরবরাহ করার পাশাপাশি যুদ্ধবিমানটির ৯০০ টি যন্ত্রাংশও তৈরি করেছিলো দেশটি।

কিন্তু রাশিয়া থেকে S-400 মিশাইল সিস্টেম ক্রয়ের কারনে তুরুস্ককে উক্ত প্রকল্প থেকে বের করে দেয় যুক্তরাষ্ট্র। সেই সাথে তুরুস্কের জন্য বানানো F-35 যুদ্ধবিমান গুলো তাদের হস্তান্তরও করেনি।

যুদ্ধবিমান না পেলেও তুরুস্ক দমে যায়নি। অন্যকোনো যুদ্ধবিমান না কিনে নিজেদের সক্ষমতাকেই কাজে লাগাতে যাচ্ছে তারা।

বিশ্বের ড্রোন উৎপাদনকারী শীর্ষস্থানীয় দেশ গুলোর একটি তুরুস্ক। শক্তিশালী ড্রোন টেকনলজির জন্য তাদের খ্যাতি দুনিয়া জুড়ে।

রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধেও তাদের তৈরি ড্রোন গুলো ব্যাপক কার্যকর হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। তাই যুদ্ধবিমান না পেলেও বিকল্প নিয়ে কোনো চিন্তাই করতে হয়নি দেশটিকে।

নিজেদের শক্তিশালী ড্রোন ব্যবহার করেই রণতরীটিকে সাজানোর সিদ্ধান্ত নেয় দেশটি। যার ফলে এটিই হতে যাচ্ছে বিশ্বের প্রথম রণতরী যার এয়ার উইংয়ের বেশিরভাগই মনুষ্যবিহীন ড্রোন দ্বারা পরিচালিত হবে।

ধারণা করা হচ্ছে, বায়রাক্তার TB2 ড্রোনের নেভাল ভার্সন TB3s ব্যবহার করা হবে এটিতে যা TB2 ড্রোনের চাইতে আরো উন্নত এবং আরো শক্তিশালী।

Line-Of-Sight and Beyond-Line-Of-Sight communications capabilities এর কারনে অনেক দূর থেকেই এটিকে অপারেট করা যাবে।
 
সর্বোচ্চ ২৫ হাজার ফুট উচ্চতায় উঁড়তে সক্ষম এই ড্রোন ২৮০ কেজি পেলোড নিয়ে সর্বোচ্চ ৩০০ কিলোমিটার গতিতে ছুটতে পারবে।

সেই সাথে ছোটো রানওয়েতে খুব সহজেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ল্যান্ডিং এবং টেকঅফ করতে বেশ পারদর্শী এসব ড্রোন!  


TB3s এর পাশাপাশি কিজিলেলমা জেট পাওয়ার কমব্যাট ড্রোনও থাকতে পারে রণতরীটিতে। এই মডেলের ড্রোন আরো বেশি শক্তিশালী। 

এসব ড্রোন ১.৫ টন পেলোড নিয়ে সর্বোচ্চ ৮০০ কিলোমিটার গতিতে ছুটতে সক্ষম সর্বোচ্চ ৩৫ হাজার ফুট উপর দিয়ে উড়তে পারে। 

এই ড্রোনগুলো ক্লোজ এয়ার সাপোর্ট, প্রতিপক্ষের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করা সহ Air-to-Air কমব্যাটে বিশেষ পারদর্শী।

ড্রোনের পাশাপাশি তুরুস্কের নিজস্ব তৈরি T129 ATAK হেলিকপ্টার, AH-1W Super Cobra অ্যাটাক হেলিকপ্টার, SH-78 ইউটিলিটি হেলিকপ্টারও ব্যবহার করা হবে।

ড্রোন এবং হেলিকপ্টার ছাড়াও এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ারটি ৯৪ টি আর্মর ভেহিকল এবং ল্যান্ডিং ক্র্যাফট বহনে সক্ষম। পাশাপাশি ৭০০ জন ট্রুপস এবং ৩০ শয্যা বিশিষ্ট একটি হসপিটাল বহন করবে এটি।

২০১৫ সালে অর্ডার দেয়া রণতরীটি ২০১৯ সালের এপ্রিলে লঞ্চ করা হয়। ২০২১ সালে সার্ভিসে আনার কথা থাকলেও মহামারির কারনে তা সম্ভব হয়নি।

এই এয়ারক্র্যাফট ক্যারিয়ারের সাহায্যে নিজ ভূখন্ড থেকে হাজার হাজার মাইল দুরুত্বে থেকেও শক্তি প্রদর্শন এবং স্ট্রাইক মিশন পরিচালনার সক্ষমতা অর্জন করলো মুসলিম রাষ্ট্র তুরুস্ক।








জনপ্রিয়


আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন

৪০ দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ- কোন দেশে কত নিহত, বাংলাদেশির সংখ্যা কত?

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর পাল্টা জবাব দিয়েছে ইরান। শুধু ইসরায়েল নয়, ইরানের পক্ষ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায়ও হামলা চালানো হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক বিজয় হয়েছে: ডোনাল্ড ট্রাম্প

ইরান-এর সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ‘সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক বিজয়’ অর্জন করেছে।

যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে ‘ইরানের বিজয়’

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের উত্থাপিত ১০ দফা দাবি মেনে নিয়েছেন বলে দাবি করেছে তেহরান। এর পরিপ্রেক্ষিতে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে নিজেদের কূটনৈতিক বিজয় হিসেবে দেখছে ইরান।

যুক্তরাষ্ট্র ‘রেড লাইন’ পার হলে সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ছড়িয়ে পড়বে: ইরান

যুক্তরাষ্ট্র যদি তেহরানের নির্ধারিত ‘রেড লাইন’ অতিক্রম করে, তাহলে চলমান সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ছড়িয়ে পড়তে পারে- এমন কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।