

ভবন নির্মাণে মানা হয়নি আইন। নির্মাণকারীদের ধরতে জারি ১১৩ টি গ্রেফতারি পরোয়ানা! ভূমিকম্পে বভন ধ্বসে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণ হানির ঘটনার পর হার্ড লাইনে এরদোয়ান সরকার! সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার হয়েছে তুরস্ক - সিরিয়া। ভূমিকম্পে ব্যাপক ভবন ধ্বসে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। নির্মাণে ত্রুটি থাকায় ভূমিকম্পে হাজার হাজার ভবন খুব অল্পতেই ধ্বসে পড়ে। তাই ভবনের নির্মাণ কাজের সাথে যুক্ত নির্মাণ ঠিকাদারসহ ,১২ জনকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে তুরস্কের পুলিশ।ব্যাপক দুর্নীতি ও সরকারি নীতির কারণে তুরস্কে নতুন ভবন নির্মাণগুলো বসবাসের জন্যে অনিরাপদ, বহু বছর ধরেই বিশেষজ্ঞরা এমন হুঁশিয়ারি দিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু সেখানে বিন্দুপরিমাণও কর্ণপাত করেনি দেশটির নির্মাণের সাথে জড়িত কর্তৃপক্ষ।উল্টোদিকে যেসব ঠিকাদার ভবন নির্মাণের নিয়ম-কানুন না মেনে কাজ করেছে, তাদেরকে ক্ষমা করে দেয়া হয়েছিল। তুরস্কের নির্মাণ খাতের ব্যবসা চাঙ্গা করাই ছিল এর উদ্দেশ্য। তুরস্কের ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলেও এমন অনিয়ম হলেও কোনো শক্ত পদক্ষেপ নেয়নি কর্তৃপক্ষ। এরই ধারাবাহিকতায় ভূমিকম্পে হাজার হাজার ভবন ধ্বসের ঘটনা ঘটে। তুরস্ক ও সিরিয়ায় এই ভূমিকম্পে এ পর্যন্ত ২৮ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। তাই সাধারন মানুষ প্রশ্ন তুলছেন কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণেই এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে এত বেশি ক্ষয়-ক্ষতি হলো!তবে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান এই বিপর্যয়ের জন্য ভাগ্যকেই দোষারোপ করেন। টানা ২০ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা এরদোয়ান ব্যাপক তোপের মুখে পড়েছেন এই ঘটনায়। সামনের নির্বাচনেও এর জন্যে পদচ্যুত হতে পারেন তিনি এমনটাও ধারণা করছেন অনেকে। এদিকে ভূমিকম্পের এক সপ্তাহ পার হতে চললেও তুরস্কে পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হয়নি বরঞ্চ হয়েছে অবনতি! এরই মধ্যে আফটার শকের ঘটনাও ঘটছে যা উদ্ধারকারীদের জন্যেও মারাত্নক হুমকীস্বরূপ! চলমান উদ্ধারকাজের মধ্যেই শনিবার হাতাই প্রদেশে দুটি অজ্ঞাতনামা গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এর প্রেক্ষিতে সেখানে জার্মান ও অস্ট্রিয়ান উদ্ধারকর্মীরা কাজ বন্ধ রাখেন। আর এই ঘটনার জেরে নতুন করে কাউকে জীবিত উদ্ধারের আশা ক্ষীণ হয়ে এসেছে।তুর্কি সেনাবাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে পুনরায় উদ্ধারকাজ শুরু করেন। ব্যাপক ভবন ধ্বসে তুরস্ক ও উত্তর সিরিয়া জুড়ে লাখ লাখ মানুষ এখনো গৃহহীন। এরমধ্যে তীব্র শীতে প্রকট হয়ে উঠছে জীবনযাপন। প্রতিরাতেই সেখানে তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নিচে নেমে যাচ্ছে। জাতিসংঘের তথ্যমতে, দুর্যোগকবলিত এলাকায় আট লাখের বেশি মানুষ রয়েছেন যারা পর্যাপ্ত খাবার এবং বাসস্থান পাচ্ছে না। পাশপাশি এই ভূমিকম্পে শেষ পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা এখনকার দ্বিগুণে পৌঁছাতে পারে বলেও হুশিয়ারি দিয়েছে সংস্থাটি।এদিকে এখন পর্যন্ত সিরিয়ার নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে সাড়ে তিন হাজার এর মতো। এর মধ্যে বেশ কিছু অবিশ্বাস্য অভিযানে জীবিত উদ্ধার করা হচ্ছে অনেককেই। শনিবার গাজিয়ানটেপ প্রদেশে একই পরিবারের পাঁচজন সদস্যকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। এছাড়া ১৩২ ঘণ্টা আটকে থাকার পর হাতাই প্রদেশের ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে সাত বছরের এক মেয়েকে উদ্ধার করা হয়।চলমান এই সংকটে তুরস্কের পাশে দাড়িয়েছে বিশ্ব। প্রায় প্রতিটি দেশ থেকেই কোনো না কোনোভাবে সাহায্য পাঠানো হচ্ছে দেশটিতে। এরমধ্যে বাংলাদেশের একটি সাহায্যকারী একটি দলও উদ্ধারকার্য চালাচ্ছে তুরস্কে। এতে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে ভুলেননি এরদোয়ান প্রশাসন।এদিকে এই দুর্যোগ ঘিরে উত্তেজনা কমেছে আঞ্চলিক রাজনীতিতে। তুরস্ক ও আর্মেনিয়ার মধ্যকার সীমান্তও গত ৩৫ বছরের মধ্যে এই প্রথম খুলে দেয়া হয়েছে, যাতে করে এই পথে ত্রাণ সাহায্য পাঠানো যায়।



