প্রিন্সেস ডায়নার পর রাজ পরিবারে দ্যুতি ছড়াচ্ছেন কেট মিডেলটন!
হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

সেই ভাব সেই ভঙ্গি! একদম প্রিন্সেস ডায়ানার মতো! সম্ভবত প্রিন্সেস ডায়ানাই হতে চলেছেন ব্রিটিশ রাজবধূ কেট মিডলটন! সৌন্দর্য, শারীরিক কাঠামো, ব্যক্তিত্ত্বে প্রিন্সেস ডায়নার চেয়ে কোনো অংশে কম নন এ রাজবধূ। বরঙ তার সব কিছুতেই যেন ডায়ানার ছাপ।রাজপরিবারের ভেতরে থেকে যাঁরা বিশ্ব ফ্যাশনকে প্রভাবিত করেছেন, তাঁদের ভেতর ডায়নার পরেই কেট মিডলটনের নাম বলা যায় অনায়াসেই।পোশাক থেকে আচরণ, সবকিছুতেই তার রাজকীয় রুচির ছাপ। অনেকেই বলছেন পোশাক আর স্টাইলের বিষয়ে কেট ডায়ানাকেই অনুসরণ করেন। এ নিয়ে বেশ কয়েকবার আলোচনায়ও এসেছিলেন কেট। তাকে অসংখ্য বার ডায়ানার মতো পোশাকে দেখা গেছে। এছাড়া প্রয়াত শাশুড়ির গয়নাগুলোও পরতে ভালোবাসেন কেট। ডায়নার বাগদানের আংটিটি কেটের অত্যন্ত প্রিয়। এ কারণে এটি তার বাঁ হাতের অনামিকায় সারাক্ষণই শোভা পায়। ১৮ ক্যারেট ওভাল স্যাফায়ার বসানো আংটি দিয়েই ২০১০ সালে কেটকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন প্রিন্স উইলিয়াম। তবে শুধু আংটিই নয়, ডায়ানার লাভার’স নট টায়রা থেকে শুরু করে থ্রি স্ট্রিং পার্ল ব্রেসলেট সবই কেটের অত্যন্ত প্রিয়। তিনি এইসব গয়না ঘুরিয়ে ফিরিয়ে পরেন।ব্রিটিশ রাজপুত্র প্রিন্স উইলিয়ামের স্ত্রী কেট মিডলটন। বর্তমানে প্রিন্সেস অব ওয়েলস উপাধি ব্যবহার করছেন তিনি।শেষ এই উপাধি ব্যবহার করেছিলেন প্রিন্সেস ডায়না। তারপর থেকে আর কেউ ওই উপাধি ব্যবহার করেননি।১৯৮১ সালে লেডি ডায়ানা ও প্রিন্স চার্লস বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলে প্রিন্সের স্ত্রী হিসেবে ডায়ানা প্রিন্সেস অব ওয়েলস পদবী লাভ করেন।১৯৯৭ সালে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। কিন্তু চার্লস প্রিন্স অব ওয়েলস থাকলেও প্রিন্সেস অব ওয়েলস পদবীটি আর কাউকে দেওয়া হয়নি।রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের মৃত্যুর পরই নতুন রাজা হয়েছেন রানির পুত্র চার্লস। তাই স্বাভাবিকভাবেই উপাধি বদল হয়েছে রানির বড় নাতি প্রিন্স উইলিয়াম ও তাঁর স্ত্রী কেট মিডলটনেরও। এতোদিন পর্যন্ত তারা ডিউক ও ডাচেস অব কেমব্রিজ হিসাবেই পরিচিত ছিলেন। কিন্তু রানির মৃত্যুর পর থেকে তাঁরা ডিউক ও ডাচেস অব কর্নওয়েলের পাশাপাশি প্রিন্স ও প্রিন্সেস অব ওয়েলস হিসাবেও পরিচিত হচ্ছেন।উইলিয়ামের সঙ্গে মিডলটনের সম্পর্ক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় থেকে। ২০০২ সালে সেন্ট এন্ড্রুজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় প্রিন্স উইলিয়ামের সাথে পরিচয় হয় তার।এরপর ২০১১ সালের ২৯শে এপ্রিল, বিশ্বের লক্ষ লক্ষ মানুষকে সাক্ষী রেখে ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবেতে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।১৯৮১ সালে ডায়ানা ও প্রিন্স চার্লসের বিয়ের পর এটাই ব্রিটিশ রাজপরিবারের সবচেয়ে বড় এবং জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠান ছিলো। বিয়েতে উপস্থিত দর্শকের সংখ্যা নিয়ে অবশ্য বিতর্ক আছে। তবে সংখ্যাটা যতই হোক না কেন সেটা প্রিন্স চার্লস এবং ডায়ানার বিয়ের দর্শকের চেয়ে বেশি ছিলো তা নিশ্চিত।বিয়ের অনুষ্ঠানে প্রিন্স উইলিয়ামসের পরনে ছিলো লাল রঙের আইরিস গার্ড কালো নেলের পোষাক। আর কেট পরেছিলেন ধবধবে সাদা ওড়না এবং কারুকাজ করা বিয়ের পোশাক।তাদের দশ বছরের দাম্পত্য জীবন অনেক সুখেই অতিবাহিত হয়েছে। বর্তমানে তাঁরা তিন সন্তানের বাবা-মা। প্রিন্স জর্জের বয়স ৯, প্রিন্সেস শার্লট ৭ এবং প্রিন্স লুই ৪ বছরে পড়ল।২০১৩ সালের ২২ জুলাই এ দম্পতির কোলজুড়ে আসে তাদের প্রথম সন্তান প্রিন্স জর্জ। এরপর ২০১৫ সালের ২ মে তাদের ঘর আলোকিত করে দ্বিতীয় সন্তান ও প্রথম কন্যা শার্লট এলিজাবেথ ডায়ানা। ২০১৮ সালে জন্ম নেয় তৃতীয় সন্তান। তারা পুত্রের নাম দেন লুইস। তিন জনেরই জন্ম হয় সেন্ট ম্যারি হাসপাতালে। সন্তানদের অত্যন্ত আদর স্নেহে বড়ো করছেন উইলিয়াম-কেট দম্পতি।অবশ্য উইলিয়াম এবং কেটের দাম্পত্য জীবনেও মাঝখানে তৃতীয় ব্যক্তির আগমনের গুঞ্জন শোনা গিয়েছিল। তবে রাজ পরিবার বা স্বামী-স্ত্রীর কেউই তাতে বিশেষ আমল দেননি।


