আন্তর্জাতিক


সবসময় ইরানের পাশে থাকবে চীন


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১০:৩৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার

সবসময় ইরানের পাশে থাকবে চীন
নানা কারণে ইরানের সাথে পশ্চিমা বিশ্বের সম্পর্ক ভালো যাচ্ছে না। এর মধ্যেই সব সময় ইরানের পাশে থাকার অঙ্গীকার করল চীন। 

মঙ্গলবার দেশটির প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসির সঙ্গে, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিংয়ের এক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে চীনের প্রেসিডেন্ট এই প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। 

তিন দিনের সফরে চীনে গেছেন ইব্রাহিম রাইসি। বেইজিংয়ে পৌঁছালে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। অভ্যর্থনা জানাতে আসেন স্বয়ং প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং।

গত ২০ বছরের মধ্যে এই প্রথম ইরানের প্রেসিডেন্ট চীন সফর করছেন। এই সফরের উদ্দেশ্যে ছিলো, দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের উন্নতি করা এবং দুই দেশের বিভিন্ন কৌশল বিষয়ে আলোচনা করা। 

একে অপরের পাশে থাকলে, পশ্চিমা বিশ্বকে মোকাবেলা করা সহজ হবে। তাই একে অপরকে  সহযোগিতা করে, একসঙ্গে কাজ করবে চীন ও ইরান। 

এছাড়া বিশ্ব রাজনীতির পরিস্থিতি যতই বদলে যাক না কেন, ইরানের পাশে চীন সবসময় থাকবে বলে জানিয়েছেন শি জিন পিং।

এই আলোচনাতে শি জিন পিং আরও বলেন , ইরানের সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা, আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও জাতীয় মর্যাদা রক্ষায় সব সময় সমর্থন করে যাবে চীন। 

এমনকি যারা ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছে, এবং ইরানের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নষ্ট করার ক্ষেত্রে পদক্ষেপ নিচ্ছে, তাদের কঠোর সমালোচনা করে বেইজিং। 

এর আগে ইরানের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে, পারমানবিক সকল কর্মসূচিতে নিষেধাজ্ঞা দেয় আমেরিকা ও পশ্চিমা বিশ্ব। যার এখনও কোনো সুষ্ঠ সমাধান আসে নি। এ বিষয়েও ইরানের পাশে আছে চীন।

২০১৫ সালে ইরানের সঙ্গে পরমাণু চুক্তি হয়েছিল। মাঝের সময়টাতে সরে আসলেও, বাইডেন প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর, আবার চুক্তিতে ফেরার আগ্রহ দেখায় যুক্তরাষ্ট্র। তারপর আলোচনা শুরু হয়েছে, তবে এ বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

পরমাণু প্রকল্পের বিষয়ে শি জিন পিং বলেছেন, এ নিয়ে একটা ন্যায্য প্রস্তাব দেওয়া দরকার। ইরানের পরমাণু চুক্তি সংক্রান্ত আলোচনায় চীন অংশ নেবে। তারা চায়, এই আলোচনা আবার শুরু হোক।

ইরান অবশ্য জানিয়েছে, তারা শান্তিপূর্ণ কাজে পরমাণু শক্তির ব্যবহার করছে। তাদের দাবি, আগে ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে। তারপর তারা পরমাণু চুক্তি করার ব্যাপারে ভাববে। 

চীন ও ইরানের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আগে থেকেই বেশ শক্তিশালী। এ জন্য ২০২১ সালে দুই দেশ ২৫ বছরের জন্য ‘স্ট্র্যাটেজিক কোঅপারেশন চুক্তি’ স্বাক্ষর করেছিলো । 

তবে এবার রাইসি আর্থিক ও বাণিজ্যিক খাতের প্রতিনিধিদের সঙ্গে করে নিয়ে গেছেন চীনে। যাতে করে এসব খাতেও দুই দেশের মধ্যাকার সম্পর্কের আরও উন্নতি করা যায়।  

এরই মধ্যে এই সফরে কৃষি, বাণিজ্য, পর্যটন, পরিবেশ সুরক্ষা, স্বাস্থ্য, দুর্যোগ–ত্রাণ, সংস্কৃতি ও খেলাধুলার সহ, প্রায় ২০টি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে দুই দেশ। 

পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে ইরান, রাশিয়া ও চীনের সম্পর্ক গত এক বছরে বেশ খানিকটা বদলে গেছে রাশিয়া- ইউক্রেনের যুদ্ধকে কেন্দ্র করে।

পশ্চিমা দেশগুলোর দাবি, রাশিয়া এই যুদ্ধে ইরানের অস্ত্র ব্যবহার করেছে। ফলে পশ্চিমারা নতুন করে ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এমনকি গত বছর সেপ্টেম্বরে, ইরানের তেল বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে বসে আমেরিকা। 

আবার সম্প্রতি আমেরিকা ও কানাডার আকাশে বেলুনের মতো রহস্যজনক বস্তু উড়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে, চীনকে দোষী করে যাচ্ছে জো বাইডেন প্রশাসন।

ফলে বিশ্ব রাজনীতিতে একপাশে পড়ে গেছে তারা। এই দুই দেশ এখন থেকে একসাথে কাজ করবে, যা বিশ্ব রাজনীতির এক বড় মোড় বলে মনে করছেন, রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। 




জনপ্রিয়


আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন

৪০ দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ- কোন দেশে কত নিহত, বাংলাদেশির সংখ্যা কত?

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর পাল্টা জবাব দিয়েছে ইরান। শুধু ইসরায়েল নয়, ইরানের পক্ষ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায়ও হামলা চালানো হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক বিজয় হয়েছে: ডোনাল্ড ট্রাম্প

ইরান-এর সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ‘সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক বিজয়’ অর্জন করেছে।

যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে ‘ইরানের বিজয়’

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের উত্থাপিত ১০ দফা দাবি মেনে নিয়েছেন বলে দাবি করেছে তেহরান। এর পরিপ্রেক্ষিতে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে নিজেদের কূটনৈতিক বিজয় হিসেবে দেখছে ইরান।

যুক্তরাষ্ট্র ‘রেড লাইন’ পার হলে সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ছড়িয়ে পড়বে: ইরান

যুক্তরাষ্ট্র যদি তেহরানের নির্ধারিত ‘রেড লাইন’ অতিক্রম করে, তাহলে চলমান সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ছড়িয়ে পড়তে পারে- এমন কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।